Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাংলাদেশে প্রাণঘাতী সি অরিস ছত্রাকের অস্তিত্ব!

বাংলাদেশে প্রাণঘাতী সি অরিস ছত্রাকের অস্তিত্ব!
ছবি: সংগৃহীত
মাজেদুল নয়ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রাণঘাতী ছত্রাক ক্যান্ডিডা অরিসের (সি অরিস) অস্তিত্ব থাকতে পারে বাংলাদেশে। এই ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে একজন বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। আবার ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসে একজন আমেরিকানের শরীরে এই ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ে। এই ওষুধ প্রতিরোধী ছত্রাকটি দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

সি অরিসের কারণে মাল্টিপল এন্টি ফানজাল ড্রাগস প্রতিরোধহীন হয়ে পড়ে, স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরি মেথডেও চিহ্নিত করা দুরুহ হয়ে পড়ে, সঠিক প্রযুক্তি ছাড়া ভুলভাবে চিহ্নিত হতে পারে এবং এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার সক্ষমতা রাখে। তাই আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজিজ অ্যান্ড প্রিভেনসন বিভাগ এই ছত্রাককে সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে বলেছে। একই সঙ্গে সি অরিসে আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিহ্নিত করে হাসপাতালে রেখে সেবা প্রদানের কথা বলা হয়েছে। যেন এটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস জানাচ্ছে, এখন পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে তিনজন ব্যক্তি এই রোগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরা সকলেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়েছেন, আরেকজন চিকিৎসকদের কথার বিরুদ্ধে যেয়ে সিঙ্গাপুর ছেড়েছেন এবং শেষজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের ইনফেকসন প্রিভেনশন অ্যান্ড এপিডোমলজির পরিচালক ডা. লিং মই লিন বলেন, `ক্যান্ডিডা অরিস চিহ্নিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই তিনজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এছাড়া এই তিনজন রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছেন সকলকেই পরীক্ষা করা হয়েছে।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস প্রধান ছত্রাকরোধী মেডিকেশনগুলোর প্রতিরোধী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করে ফেলে। এটি বাতাসের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সংস্পর্শে ছড়ায়।

সিডিসি’র মতে, এই ছত্রাকে আক্রান্ত রোগীদের অর্ধেকই ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/10/1554893608137.jpg

সিঙ্গাপুরে এই রোগে প্রথম আক্রান্ত হন ৫২ বছর বয়সী একজন নারী। প্রথমেই চিহ্নিত হওয়ায় যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাকে কোনো ধরনের ছত্রাকরোধী ওষুধও প্রয়োগ করা হয়নি।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে একজন বাংলাদেশি তরুণ সিঙ্গাপুরে যান চিকিৎসা করানোর জন্য। মেটাস্ট্যাটিক কার্সিনোমা ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি এর আগে বাংলাদেশে তিনটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে প্রথমে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার রক্তে ফ্লুনাজোল রেসিসট্যান্ট সি অরিসের অস্তিত্বের চিহ্ন পাওয়া যায়।

আরেক ধরনের ছত্রাকরোধী রয়েছে এন্টিডুলাফাঞ্জিন নামে। যা ছত্রাকরোধে সাহায্য করে। ২৪ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি রোগীকে এই চিকিৎসার পরামর্শ দিলে দশদিন পর তিনি চিকিৎসা বন্ধ করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এই রোগে আক্রান্ত যে আরেকজন আমেরিকান নাগরিককে পাওয়া গেছে তিনি এই ছত্রাকে আক্রান্ত হয়ে ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি যখন বাংলাদেশে বেড়াতে যান, তখনই এই রোগে আক্রান্ত হন।

এই মাল্টিড্রাগ রেসিসট্যান্স রোগের বিষয়ে জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ক্যান্ডিডা কোনো কঠিন ছত্রাক আক্রমণ নয়। এন্টিবায়োটিকের ফলে সাধারণত এটি মুখে ছড়ায়। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে ক্যন্ডিডা অরিসে আক্রান্তের বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। তবে এটি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো রোগ নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের শহর ইলিনয়সে ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৪ জন, নিউইয়র্কে ৩০৯ জন এবং নিউ জার্সিতে ১০৪ জন এই ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হয়েছে। যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিডিসি'র মাইকোটিক ডিজিজ ব্রাঞ্চের প্রধান ড. টম চিল্লের বুধবার এনবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘এটি সাধারণ ক্যান্ডিডার মতো আচরণ করে না। বরং এই ছত্রাক অনেকটা ব্যাকটেরিয়ার মতো।’

আপনার মতামত লিখুন :

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন
পুরনো ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়দানকারী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এই মামলা করার ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিঞ্ঝুতার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার অফিসে কথা বলেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ হয়েছেন। বর্তমানে এখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে উল্লেখ করে তিনি ট্রাম্পের সহায়তা চান।

আরও পড়ুন: সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেছেন, ‘আগামী রোববার (২১ জুলাই) আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণের দেশ। সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563565323305.jpg

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি, সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগের ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের কাছে উদ্ভট অভিযোগ, শাহরিয়ার আলমের নিন্দা

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় একে অপরকে শ্রদ্ধা করে।

অন্যদিকে, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তার মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পকে দেওয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি।’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’

‘কাইয়ো একনা ত্রাণ দিলে না’
এখনো ত্রাণ না পাওয়ায় আক্ষেপ করেন এই বৃদ্ধ, ছবি: বার্তটোয়েন্টিফোর.কম

কুড়িগ্রাম থেকে: পানির স্রোতে অশান্ত হয়ে উঠেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। চারদিক পানি ছাপিয়ে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। এই নদে ক্রমশ পানি বাড়ায় আশপাশের চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চলসহ শহরতলী পানিতে থৈ থৈ করছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাটচর ও অষ্টমীরচরের চারদিক শুধু পানি আর পানি দেখা গেছে। পানিবন্দি এসব চরের মানুষরা গবাদি পশুপাখিসহ বাঁধের উঁচুতে আশ্রয় নিয়েছে। কোনোরকম ছোট ছোট ঝাপড়ি তুলে আবার কোথাও কোথাও প্লাস্টিক বা তাবুর নিচে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560885391.jpg

এদিকে, পুটিমারি বাঁধের উপর গত কয়েকদিন ধরে চড়া রোদ সহ্য করেছেন বানভাসি মানুষরা। তাদেরই একজন বৃদ্ধ আজাদ মিয়া। আক্ষেপ নিয়ে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, ‘সাতদিন ধরি বাঁধের উপর ঘর বানবন্দি (বেঁধে) কোনোরকম পড়ি আছি। চেয়ারম্যান-মেম্বর কাইয়ো হামার (আমার) খবর নিলেও না। পাশ দিয়া কত নৌকা যাবার নাগছে (যেতে লাগছে), কাইয়ো (কেউ) একনা (একটু) ত্রাণ দিলে না।’

এই বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়েছে অর্ধশত পরিবার। সঙ্গে আছে তাদের গবাদি পশুও। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় করে রমনা পয়েন্ট ধরে চরে যাওয়ার পথে চোখ পড়ে এই বাঁধে থাকা মানুষদের দুর্ভোগের দৃশ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563560935566.jpg

বাঁধের পাশ্ববর্তী সড়কের উপর প্লাস্টিকের নিচে ঘর করে আছে গোলাম হোসেন। তিনি জানান, আশপাশে দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শুকনো জায়গা খুঁজে না পেয়ে এখানে উঠেছেন। কিন্তু ত্রিপল না থাকায় মাথার ওপর আচ্ছাদন দিতে পারেননি। একদিন বৃষ্টিতেও ভিজেছেন।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে মল-মূত্র ত্যাগের জন্য তেমন ব্যবস্থা নেই। এতে করে রাতে অন্ধকার নামার অপেক্ষায় থাকেন অনেকে। ডুবে যাওয়া পানির নিচে প্রাকৃতিক কাজ সারছেন তারা। খাবার পানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563561018038.jpg

এদিকে, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিকটন চাল, সাড়ে ১৩ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ তাবু বিতরণ করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র