Alexa

তাসভিরের কোম্পানির অফিস কার্যক্রম বন্ধ

তাসভিরের কোম্পানির অফিস কার্যক্রম বন্ধ

এফআর টাওয়ারের মালিক তাসভির উল ইসলাম ছবি: বার্তা২৪

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

বুধবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বনানীর এফআর টাওয়ারের ২২ ও ২৩ তলায় গত ২৮ মার্চ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের হাতে এখন ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। আর বাকি ৭০ শতাংশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার।

অন্যদিকে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ শেয়ার।

বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১ টাকা বেড়ে ৩৮ দশমিক ৪০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। তবে ২৮ মার্চ থেকে কোম্পানির শেয়ারের দাম ৪১ টাকা থেকে কমে ২ এপ্রিল ৩৭ টাকায় বিক্রি হয়।

কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম। তিনি এফআর টাওয়ারের নকশাবহির্ভূত ও বর্ধিত অংশের মালিক।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গত শনিবার (৩০ মার্চ) বারিধারার নিজ বাসা থেকে তাসভির উল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় বনানী থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যু সংঘটনের অভিযোগে শনিবার মামলা হয়। এতে তাসভির উল ছাড়াও রূপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল ও বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী এসএমএইচআই ফারুককে আসামি করা হয়।

তাসভির উল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বরে তিনি ভবনটির ভূমি মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ন গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়।

পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করে নির্মাণ করা হয়। ডেভেলপার কোম্পানি ভবনটির ২০ ও ২১তম তলাটি জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে।

মাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোর দুটি কিনে নেন কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভির উল ইসলাম। এরপরও তিনি নকশা পরিবর্তন করে ছাদের ওপর আরও দুটি ফ্লোর নির্মাণ করেন।

এর আগে, এফআর টাওয়ারটি ২০০৭ সালের পর একাধিকবার পরিদর্শন করে এর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এজন্য কিছু সুপারিশও করা হয়েছিল। তবে পরপর দু'বার নোটিশ করেও কাজ হয়নি। ভবনের ফায়ার সেফটি ইস্যুতে কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :