Alexa

বনানী ট্র্যাজেডি

ভবন মালিকদের তথ্য পেলেও মামলা হয়নি

ভবন মালিকদের তথ্য পেলেও মামলা হয়নি

এফআর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময়ে ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা, ছবি: বার্তা২৪

বনানীর এফআর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো মামলা হয়নি। এছাড়া এ ঘটনার জন্য দায়ী কোনো ব্যক্তিকেও আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবন মালিকদের তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে তারা ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বনানী থানায় এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বনানী থানার ডিইউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিলকিস আক্তার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে পর্যন্ত আমাদের থানায় বনানীর আগুনের ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/29/1553863846748.jpg

ঘটনাস্থল আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘হতাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তারা যদি মামলার বাদী হয়, তাহলে ভালো হয়। যদি তা না হয়, তাহলে রাষ্ট্রপক্ষ বাদী হয়ে মামলা করবে।'

আইজিপি বলেন, 'সবকিছু সন্ধ্যার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে আমরা ভবনের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কারো সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ হয়নি।'

ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, 'ভবনের মালিককে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। এই ঘটনার সঙ্গে আরও লোকের দায়িত্ব অবহেলা থাকতে পারে। বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ ধারায় মামলা করা হবে।'

এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার ও হতাহতের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন জানিয়েছেন, ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। যেগুলো ছিল সেগুলো ইউজঅ্যাবল ছিল না। এমনকি সে পাইপটি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যবহার হয় সেটিও পুড়ে গেছে। যার ফলে তাৎক্ষনিক ফায়ার ফাইটিং করা সম্ভব হয়নি।


https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/29/1553863859157.jpg

অন্যদিকে ১৮ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা করার কারণ হিসেবে স্পষ্ট কোন বক্তব্য দিতে পারেনি ভবন কর্তৃপক্ষ। এজন্য ডেভলপার কোম্পানির গাফিলতি ও ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে দায়ী করছেন মালিক কর্তৃপক্ষ।

মালিকপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। তিনি ১৯৯৫ সালে ভবনের নকশার জন্য রাজউকে আবেদন করেন। অনুমোদন পাওয়ার প্রেক্ষিতে রূপায়ন গ্রুপকে ভবন বানানোর জন্য জমি দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে কাজ শুরু হওয়া ভবনটি চালু হয় ২০০৭ সালে। তখন থেকে ভবনের প্রায় অর্ধেক অংশের মালিকানা ফারুকের বাকি অর্ধেক রূপায়ন গ্রুপের।

এ বিষয়ে ফারুকের পক্ষ থেকে তার ম্যানেজার কামাল হোসেন বলেন, ‘ফারুক পেশায় ইঞ্জিনিয়ার হলেও এফআর টাওয়ারে তৃতীয় তলায় কনভেনশন সেন্টার ও ১৮ তলায় অফিস স্পেস নামে একটি বিজনেস সেন্টার রয়েছে। ভবন পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাসবিরুল ইসলামের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।’

আপনার মতামত লিখুন :