Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সড়ক দুর্ঘটনা: চালকরা এতো বেপরোয়া কেন?

সড়ক দুর্ঘটনা: চালকরা এতো বেপরোয়া কেন?
গাড়ি না থামতেই রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারী, ছবি: বার্তা২৪
মুজাহিদুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সড়কে মৃত্যুর ‍মিছিল। ঘাতক বাস কেড়ে নিল পথচারীর প্রাণ। থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। এই কথাগুলোই প্রতিনিয়তই খবরের শিরোনাম হচ্ছে। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ, মানববন্ধন, রাজপথ অবরোধ। তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকার। কিছুদিন যেতেই হ-য-ব-র-ল ট্রাফিক ব্যবস্থা। অবস্থা যা তাই থেকে যায়।

সড়কে নামলেই শুরু হয় অসুস্থ প্রতিযোগিতা। চালক যেমন ব্যস্ত ওভারটেকিং করে আগে যাত্রী উঠাতে, একইভাবে যাত্রী কিংবা পথচারী নিয়ম সিগনালের তোয়াক্কা না করে হাত ‍তুলে দৌড় দিচ্ছেন চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়েই। ফলাফল, প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাজধানী যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দুটি বাসের রেষারেষিতে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী।

তার মৃত্যুতে আবারও উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীসহ সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। দাবি একটাই নিরাপদ সড়ক চাই।

রাজীব, দিয়া, মিমের ধারাবাহিকতায় আবরার, একের পর এক ঝরছে তাজা প্রাণ। এছাড়া সারাদেশে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

চালকরা কেন এতো বেপরোয়া? পথচারীইবা কতটা সচেতন? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজেছে বার্তা২৪.কম।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্স ইন্সটিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বার্তা২৪.কমকে জানান, দুর্ঘটনার বড় কারণ হলো একই কোম্পানির অনেক বাসের একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। আবার ঢাকা শহরে ফুটপাতগুলো চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় মানুষজন রাস্তায় নেমে পড়েন। এতে গাড়ির সঙ্গে মানুষের সংঘর্ষের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্ত বাসগুলোকে একীভূত করতে হবে। চালকদের মাসিক বেতন ভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে যাতে যাত্রী তোলার বিষয়ে তাড়াহুড়া না থাকে। যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যেন লাইসেন্স নেয় সে বিষয়গুলো নিশ্চিত হতে হবে। যাতে করে চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা না থাকে। একইসঙ্গে যারা পথচারী তাদেরকেও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, জেব্রা ক্রসিং, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে অভ্যস্ত করতে হবে। তবেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।’

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বন্ধন পরিবহনের চালক মো. ইকবাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার ১২ আনা হয় পথচারীর কারণে। ফুটপাত ছেড়ে সড়কে যেসব লোক হাঁটে তাদের কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। আমাদের কোন কারণ নেই। আমাদের কিছু ভুল হয়, কিছু দোষও আছে। তবে দুর্ঘটনার পিছনে ১২ আনায় দায়ী পথচারী। তার দায় ড্রাইভারের না।’

‘অনেক কোম্পানির গাড়িতে টার্গেট দেয়া হয়। যে, এত টাকা তুলে দিতে হবে। তখন একই রুটের বা একই কোম্পানির দুটি গাড়ি একত্রে হলে ওভারটেকিং করে, যাত্রী উঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে।’ এসব কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান ইকবাল।

শীতল পরিবহনের চালক আসাদুল ইসলাম জানান, পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে সড়ক পার হয়। পথচারীদের সমস্যা আছে, চালকেরও অসচেতনতা রয়েছে। চালকরা ইচ্ছে করে পিঁপড়াও মারে না। হাজার হাজার গাড়ি চলে। তবে কিছু চালক আছে যাদের অভিজ্ঞতা কম। অভিজ্ঞতা ও লাইসেন্স ছাড়াই মালিকরা ছোট ছোট বাচ্চাদের স্টেয়ারিয়ে বসিয়ে দিচ্ছেন। এগুলো বন্ধ করতে হবে।

ট্রাফিক সার্জেন্ট শফিউল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনায় ড্রাইভার এবং পথচারী উভয়েরই সচেতনতার অভাব রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ড্রাইভারদের সঠিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষিত ড্রাইভার ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো বা দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।’

ট্রাফিক পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চালকদের মধ্যে এক ধরনের ট্রেন্ড হয়েছে যে আগে গেলে আগে যাত্রী উঠানো যাবে। বেশি যাত্রী পাওয়া যাবে। বেতনের বাইরে বাড়তি আয় করা যাবে। ঢাকায় যে পরিমাণ জনগণের বসবাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মী তার তুলনায় সীমিত। তাই শুধুমাত্র ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে চালকদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন। তাই বিআরটিএ, সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি চালক ও পথচারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

গণপিটুনির কারণ খতিয়ে দেখা হবে : আইনমন্ত্রী

গণপিটুনির কারণ খতিয়ে দেখা হবে : আইনমন্ত্রী
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক

 

আইন বিচার  ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘনঘন অগ্নিকাণ্ড, ধর্ষণ ও গণপিটুনির ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। যে কোন ঘটনার একটা স্বাভাবিকতা আছে আর একটা অস্বাভাবিকতাও আছে। আপনারা যদি আগুন লাগার ঘটনা দেখে থাকেন। তাহলে দেখবেন, এটা কন্টিনিউয়াস ঘটতে থাকে। তারপরে ধর্ষণের ঘটনা কন্টিনিউয়াস ঘটতে থাকল। এখন গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। একটা দুটো দুর্ঘটনা হলে ঠিক আছে। কিন্তু ১১-১২ টা ঘটনা ঘটেছে-এটা অস্বাভাবিক।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতিসংঘ নির্যাতন বিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএটি) বিষয়ে সিভিল সোসাইটির সঙ্গে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেখানে গত বছরে একটাও গণপিটুনির ঘটনা নাই, সেখানে হঠাৎ এক মাসে সাত দিনের মধ্যে ১১ টা গণপিটুনির ঘটনা ঘটে গেল। এ ঘটনাগুলো দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে তা নষ্ট করার জন্য কি না-তা খতিয়ে দেখা হবে।

দেশে বিচারবর্হিভূত হত্যার পরিমাণ কমেছে মন্তব্য করে আনিসুল হক বলেন, একটাও যাতে বিচার বহির্ভূত হত্যা না হয়, আমরা সে দিকেই অগ্রসর হচ্ছি। নির্যাতন বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন কমেছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের যেখানেই অপরাধ হচ্ছে সেখানেই তা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ধর্ষণ বা অন্যান্য নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সরকার অনেক চেষ্টা করছে। মাদক নির্মূলের জন্যও চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, এসিড সন্ত্রাস দমনে যেমন দেশের মানুষ সবাই একত্রিত হয়েছিল তেমনি এইসব অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

সৎ বাবার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিশু হত্যার অভিযোগ

সৎ বাবার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিশু হত্যার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় স্বাধীন (৪) নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক শিশুকে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সৎ বাবা কামাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া কচুয়ারপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ছয় মাস আগে কচুয়ারপাড় এলাকার কামাল উদ্দিন একই গ্রামের বিধবা উম্মে কুলছুমকে প্রতিবন্ধী শিশুটিসহ বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো।

মঙ্গলবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর কুলছুম প্রতিবন্ধী ছেলেকে বাড়িতে রেখে পাশের এক বাড়িতে চলে যান। দুপুরে বাড়ি ফিরে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

বিকালে ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনূর মল্লিক জীবন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী স্বাধীনকে তার সৎ বাবা কামাল উদ্দিন গলাটিপে হত্যা করেছে বলে দাবি করছে শিশুটির মা কুলছুম। স্থানীয়রা কামালকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে অভিযুক্ত কালামকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ মমেক হাসপাতালে পাঠানো হবে।’

তিনি জানান, অভিযুক্ত সৎ বাবা কামালকে থানায় রাখা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র