Alexa

কেমিক্যাল গুদামগুলোকে দায়ী করে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কেমিক্যাল গুদামগুলোকে দায়ী করে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের দেখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখছেন, ছবি: ফোকাস বাংলা

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহিদ ম্যানশন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য এখানকার কেমিক্যাল গুদামগুলো দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা মোবাইল কোর্ট বসিয়েও কারখানগুলো অপসারণ করেছি। কিন্তু সেগুলো আবার বসেছে। এগুলো দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। পুরান ঢাকার ঘনবসতির এলাকায় যেন আর কেমিক্যাল না থাকে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখে সরকারপ্রধান এ কথা জানান।

এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের জন্য শোক দিবস ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এটা একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা যা আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা একটি শোক দিবস ঘোষণা করব। আজ ছুটির দিন। আগামী কাল রোববার অফিস খুললে কেবিনেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শোকের ঘোষণা দেওয়া হবে।

এসময় আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আধুনিকায়নে আগুন দ্রুত নেভানো সম্ভব হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নেভানোর জন্য হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে।’

তবে আগুন নেভানোর কাজ বিঘ্নিত করার জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি দোষারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সংবাদ কর্মীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আগুন নেভানো ব্যাহত হয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।’

আগুন নেভানোর জন্য পানির উৎসের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় এক সময় অনেক পুকুর ছিল সেগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এক সময় পুরনো ঢাকার ধোলাই খাল ও আশপাশে অনেক খাল ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো দখল হয়ে গেছে, স্থানীয়রা ভরাট করে ফেলার কারণে ওই এলাকায় দুর্ঘটনার সময় পানি পাওয়া যায়না। আগুন নেভানোর সময় যদি পানি না পাওয়া যায়, তাহলে ফায়ার সার্ভিসের কী করার আছে?’

পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার জন্য মেয়রকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুরান ঢাকার রাস্তাঘাট একেবারে সরু। সেই রাস্তায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার কোনো উপায় নেই। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে ওই রাস্তাগুলো প্রশস্ত করতে হবে।’

আগুনে দগ্ধদের জন্য সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগুনে দগ্ধদের চিকিৎসায় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, দগ্ধ ও আহতদের দেখতে শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঢামেকে আসেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টার দিকে বেরিয়ে যান তিনি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মা‌লেক স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ড. মুরাদ হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, এমপি হাজী মো. সে‌লিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেনসহ আরও অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :