Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজশাহীর ৪ উপজেলায় আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যারা

রাজশাহীর ৪ উপজেলায় আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যারা
রাজশাহী জেলা / ছবি: সংগৃহীত
হাসান আদিব
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট
রাজশাহী
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী জেলার আটটি উপজেলায় মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহার শেষে চেয়ারম্যান পদে মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে বাঘা ও মোহনপুর উপজেলায় একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়লাভ করবেন।

এছাড়া গোদাগাড়ীতে চার জন ও চারঘাটে তিনজনসহ তানোর, বাগমারা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে দুইজন করে চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থী টিকে গেছেন। এর মধ্যে চারটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

তবে আটটি উপজেলার কোনোটিতেই নেই বিএনপির কোনো প্রার্থী। যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তারা দলের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ না থাকায় উপজেলা নির্বাচন অনেকটাই তার জৌলুস হারিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদের নির্বাচন উন্মুক্ত রাখা উচিত ছিল। যারা জনগণের ভোটে জয়ী হবেন তারাই জয়লাভ করবেন। এতে করে নির্বাচনটা প্রাণবন্ত হতো।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. বদিউজ্জামান। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

বাগমারায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বাবুল হোসেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার।

চারঘাটে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম। তবে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান।

দুর্গাপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের মন্ডল। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম।

জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি তারা ভোটের আগেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ বলেন, ‘এটা ঠিক যে দলের অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন প্রাণবন্ত হতো, কিন্তু দল সাংগঠনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তারা নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নির্বাচনটা আমরা যেরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আশা করেছিলাম সেরকম হবে না।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা নির্বাচনের জন্য সুখবর বয়ে আনবে না। তবে বাংলাদেশে তো শুধু বিএনপি দলই নেই। বিএনপির বাইরেও তো রয়েছে ১৪ দল, ২০ দলসহ বহু বাম সংগঠন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না? তার মানে, তাদেরও জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা নেই, জনসমর্থন নেই। এই যে কেউ সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, আবার কারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সক্ষমতাই নেই। এতে করে নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ কমে যাবে।’

অধ্যাপক খালেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক কাঠামোর কারণেই দলীয় মনোনয়নের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আছে। দলীয় শৃঙ্খলার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেহেতু অন্য দলগুলো ঠিক সেইভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বা নেওয়ার সক্ষমতা নেই, সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়নের বাইরেও দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলে নির্বাচনটা প্রাণবন্ত হতো।’

তিনি বলেন, ‘তবে এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন, সেই নীতি অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া ভাল। তিনি সবাইকে জনগণের কাছে যেতে বলতেন। জনগণ যাকে মনোনীত করত, তিনিই নির্বাচনে জয়ী হতেন। দলের পক্ষে কাজ করতেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
গ্রেনেড হামলায় আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর এবং মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর শিববাড়ি রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমা ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর-রহমান শান্ত'র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু।

এতে সংগঠনের সহ-সভাপতি হোসাইন জিল্লু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই দানবীয় এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিকল্পিত সে হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এই গ্রেনেড হামলার যে রায় হয়েছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।'

প্রতিবাদ সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম
মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের আয়েশি ঘুম/ছবি: শাহরিয়ার তামিম

রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা চলছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয়, সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত। তবে অনুষ্ঠানের এ মঞ্চে দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন একজন। আর তিনি হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566400999878.jpg

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় এমন আয়েশি ভঙ্গিতে ধরা পড়লেন সচিব হেলালুদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401016016.jpg

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401037611.jpg

সম্প্রতি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন কর্মকর্তারা বেশ দৌড়ের ওপর রয়েছেন। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনাও সইতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। এর মধ্যে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:  রোববার থেকে চিরুনি অভিযান, লার্ভা পেলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের..

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দুঃখ..

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র