Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

আইজ শীত পড়ছে, বাঁশিত কড়া সুর উঠব না

আইজ শীত পড়ছে, বাঁশিত কড়া সুর উঠব না
বাঁশি বিক্রেতা কদ্দুস। ছবি: বার্তা২৪.কম
রাকিবুল ইসলাম রাকিব
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
 গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

‘আট বৎস্যর আগের কথা। ভাদ্র মাইস্যা চাঁদনী রাত। হেই রাইতে বাড়ির পেছনে ইশকুলের বারিন্দাত বইয়্যা একলা বাঁশি বাজাইতাছিলাম। হুট কইরা বিরাট আওয়াজ হইল। ওই সময় মনে অইল ইশকুলের পাশে থাহা কড়ই গাছটা ভাইঙ্গা পড়তাছে। মেলা ভয় পাইছিলাম। বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। কিন্তু বাঁশি বাজানি থামাই নাই। বাঁশি বাজাইতে বাজাইতে বাড়িত আইয়্যা পড়ি। হেরপর অসুখে পইর‌্যা গেলাম। নাক-মুখ ফুইল্যা গেলো। এক হপ্তাহ কবিরাজি ওষুধ খাইয়্যা ভালা অইলাম। পরে খবর লইয়্যা জানলাম হেই রাইতে কড়ই গাছের কোনো ডাইল ভাঙে নাই। গাছটার ডাইলপালা ঠিকই আছে। হের পরের থেইক্যা আর রাইতের বেলা একলা বাঁশি বাজাই না।’

বার্তা২৪.কমের কাছে নিজের ৪০ বছরের বাঁশি বাজানো জীবনের একটি ভয়ার্ত অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন আব্দুল কদ্দুস (৫৩)। তার বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের কাশিচরণ গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত তালেব হোসেনের ছেলে।

৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাঁশিওয়ালার দেখা মিলে গৌরীপুর পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে। চত্বরের পামগাছের নিচে বাঁশির পসরা সাজিয়ে বসে আছেন তিনি। একই সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে চলেছেন একমনে। আর শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছে তার সেই সুর।

সুর থামলে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয় আব্দুল কদ্দুসের। কথায় কথায় জমে গল্প। তার বাঁশিতে বেজে ওঠে নানা রকম সুর। সেই সুরে মন্ত্রমুগ্ধ হয় দর্শনার্থীরা।

কীভাবে বাঁশিওয়ালা হয়ে উঠলেন জানতে চাইলে আব্দুল কদ্দুস বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। লেহাপড়া করবার পারি নাই। তয় বাঁশি বাজানির লেইগ্যা আমি উতলা ছিলাম। তাই একদিন বাজান আমারে লইয়্যা গেলো সরিষাহাঁটি গ্রামের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ রইছ উদ্দিনের কাছে। পরে ওস্তাদের বাড়িত থাইক্যা কাইজ-কাম করি। আর রাইতে ওস্তাদ আমারে বাঁশি বাজানির তালিম দিতো। হেরপর ১৩ বৎস্যর বয়সেই আমি বাঁশি বাজানি শিইখ্যা ফেলি। আস্তে আস্তে বাঁশি বানানির কামও শিহি।’

মোহন বাঁশি, নাগিনী বাঁশি, কল বাঁশি, পাতা বাঁশি সহ বিভিন্ন ধরনের বাঁশি তৈরি করতে পারেন কদ্দুস। এসব বাঁশি তৈরির জন্য সুসং দুর্গাপুরের পাহাড়ি এলাকা থেকে ‘তরলা’ বাঁশ কিনে আনেন তিনি। ওই বাঁশ কেটে, রোদে শুকিয়ে, গরম লোহার শলাকা দিয়ে ছিদ্র করে, বার্নিশ করে এক একটি বাঁশি তৈরি করা হয়। প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজারে ৫ থেকে ৬শ টাকার বাঁশি বিক্রি করেন তিনি। তবে রাজধানী ঢাকায় গেলে প্রতিদিন ২ হাজার টাকার বাঁশি বিক্রি হয় তার।

এক সময় অভাব-অনটনে থাকলেও বাঁশি বিক্রি করে কদ্দুস এখন গ্রামে জমি-বাড়ি করেছে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। দাম্পত্য জীবনে কদ্দুসের স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।

কথা প্রসঙ্গে কদ্দুস জানান, বাঁশি বাজানো শেখানোর জন্য কেন্দুয়া থানার বেকুরহাটি গ্রামে একটি ঘর ভাড়া নিয়েছেন। ৭-৮ জন যুবক প্রতিমাসে ৫শ টাকা দিয়ে বাঁশি বাজানোর তালিম নেয় তার কাছে। এছাড়াও দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজনও অগ্রিম অর্ডার দিয়ে তার কাছ থেকে বাঁশি কিনে নিয়ে যায়।

এরই মাঝে সন্ধ্যা নেমেছে। শীতের প্রকোপের সঙ্গে বইছে ঠান্ডা হিমেল হাওয়া। এমন সময় দর্শনার্থীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলে, ‘কদ্দুস ভাই বাঁশিতে গরম একটা সুর তোলো।’

কথার রেশ টেনে কদ্দুস বলেন, ‘আইজ শীত পড়ছে, শইলডাও জুইত নাই। কড়া সুর উঠবো না।’ এই কথা বলেই বাঁশি হাতে নেয় কদ্দুস। করুণ সুরে বাঁশিতে বেজে উঠে ‘পূবালী বাতাসে, বাদাম দেইখ্যা চাইয়্যা থাকি, আমারনি কেউ আহে রে।’

বাঁশির সুরের মূর্ছনায় বঙ্গবন্ধু চত্বরে সন্ধ্যার আলো রাতের আঁধারে মিলে যেতে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি

গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ডদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি
গ্রেনেড হামলায় আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর এবং মাস্টার মাইন্ডদের বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর শিববাড়ি রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানানো হয়।

ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমা ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর-রহমান শান্ত'র সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আ'লীগের সহ-সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু।

এতে সংগঠনের সহ-সভাপতি হোসাইন জিল্লু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই দানবীয় এ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে পরিকল্পিত সে হামলায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এই গ্রেনেড হামলার যে রায় হয়েছে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে।'

প্রতিবাদ সভা শেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম

মন্ত্রী-মেয়র ব্যস্ত বক্তৃতায়, সচিবের আয়েশি ঘুম
মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের আয়েশি ঘুম/ছবি: শাহরিয়ার তামিম

রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে মশক নিধন এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক পর্যালোচনা সভা চলছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয়, সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত। তবে অনুষ্ঠানের এ মঞ্চে দুশ্চিন্তামুক্ত ছিলেন একজন। আর তিনি হলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

অনুষ্ঠানের শুরু থেকে তিনি দফায় দফায় ঘুম দিচ্ছেন। কখনও ঘুমে দুলুনি খাচ্ছেন, কখনও আবার হঠাৎ চমকে উঠছেন। কোনো কোনো সময় মুখ হা করে বিরাট হাই তুলছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566400999878.jpg

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় এমন আয়েশি ভঙ্গিতে ধরা পড়লেন সচিব হেলালুদ্দীন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাইসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401016016.jpg

মন্ত্রীর কারণে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় আরও দেরিতে। এরপর মন্ত্রীর ডান পাশের চেয়ারে বসেন সচিব হেলালুদ্দীন আর বাম পাশে বসেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

সভার শুরুতে মেয়র কথা বলার পর বক্তব্য শুরু করেন মন্ত্রী। তার বক্তৃতার পুরো সময় সচিব কখনো হাই তুলেছেন, আবার কখনো দুই হাত বুকের ওপর রেখে ভঙ্গিতে ঘুম দিয়েছেন। মাঝে মাঝে দুই চোখ খুললেও আবার চোখ বন্ধ করে ফেলেন। মন্ত্রী যখন বক্তৃতা করছিলেন তখন মাঝে মাঝেই সচিব চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566401037611.jpg

সম্প্রতি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকার, সিটি করপোরেশন ও প্রশাসন কর্মকর্তারা বেশ দৌড়ের ওপর রয়েছেন। ডেঙ্গু মৌসুমের শুরুতে পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনাও সইতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। এর মধ্যে এমন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে সরকারের একজন আমলার এভাবে ঘুমানোকে বেমানান বলছেন সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন:  রোববার থেকে চিরুনি অভিযান, লার্ভা পেলে সর্বোচ্চ ৬ মাসের..

ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দুঃখ..

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র