Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

আরিফের কাছে উন্নয়ন মানেই যেন ‘ভাঙা-গড়া’

আরিফের কাছে উন্নয়ন মানেই যেন ‘ভাঙা-গড়া’
সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: বার্তা২৪.কম
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
সিলেট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র। সবাইকে অনেকটা তাক লাগিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এই আরিফের কাছে উন্নয়ন মানেই যেন ‘ভাঙা-গড়ার’ কাজ করতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন আদায়েও সফল হয়েছেন বিএনপির এই নেতা।

দুই কূল রক্ষা করে চলা এই আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আব্দুল মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আরিফ। অবশ্য এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর সমালোচনায় পড়তে হয় তাকে। তবে তার যুক্তি স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি মেয়র হিসেবে মোমেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। অতীতের মতো সকল ঝড়-ঝাপটা সামলে নিয়ে আমৃত্যু বিএনপিতে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/21/1548049834673.jpg

বরাবরের কৌশলী আরিফুল হক চৌধুরী সদ্য বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মনও জয় করতে পেরেছিলেন। তখন সরকারের উন্নয়নযজ্ঞে নিজেকে সম্পৃক্ত করে জনগণের মন জয় করেছিলেন তিনি। তাইতো গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় ‘উন্নয়নের আরিফ, জনতার কামরান’ এমন আলোচনা ছিল মানুষের মুখে মুখে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নানা সহিংসতার পর বিকেলে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়া আরিফ সন্ধ্যায় হেসেছিলেন বিজয়ের হাসি। সেই আরিফ নতুন সরকার আসার পর আরও উদ্যমী। তারই হাতে চলছে নগরীর পাড়ামহল্লায় ‘ভাঙা গড়ার’ কাজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/21/1548049859433.jpg

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে মেয়রের ক্ষমতা ছাড়ার আগে ফুটপাত উদ্ধারে নেমে হকারদের তোপের মুখে পড়েছিলেন আরিফ। তখন নগর ভবনে হামলার ঘটনাও ঘটেছিল। নিজের নির্বাচনী প্রচারণায় হকারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করতে গিয়েও আরিফুল হক চৌধুরী পড়েছিলেন মধুর বিড়ম্বনায়।

সড়কের মধ্যে ফল-সবজি নিয়ে বসে থাকা হকারদের কাছে লিফলেট নিয়ে এগিয়ে গেলে তারা ভাবে উচ্ছেদে এসেছেন আরিফ। ফলে লিফলেট না নিয়ে ভ্যান নিয়ে দৌড়াতে থাকে হকাররা। নির্বাচনের আগে নগরীতে বেশ আলোচিত ছিল এই বিষয়টি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/21/1548049876919.jpg

একাদশ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যখন বিএনপি প্রার্থীরা পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কাতরাচ্ছেন, বিশাল কর্মী বাহিনী যখন হতাশ, তখন আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি পরদিনই নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বাধাদানকারী স্থাপনা গুড়িয়ে দিতে ছিলেন ব্যস্ত। নির্বাচনের আগে ও পরে ভাঙা-গড়া নিয়েই আছেন আরিফুল হক চৌধুরী। কেবল সাধারণ নাগরিকের নয়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দেয়ালেও হাতুড়ি চালিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/21/1548049893893.jpg

তার মতে এসব উচ্ছেদ অভিযানে কারো ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি দখল করা হচ্ছে না, বরং সরকারের ভূমি উদ্ধার হচ্ছে। এতে দু-একজন মন খারাপ করলেও সাধারণ নাগরিকদের জন্য সেবার পথ প্রসারিত হচ্ছে। বেশিরভাগ লোকজন স্বেচ্ছায় রাস্তা প্রশস্তকরণে সহযোগিতা করছে। আর সবকিছু হচ্ছে যথাযথ আইন অনুসরণ করেই। তিনি নাগরিক সেবা নিশ্চিত করণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’

‘জাসদ-গণবাহিনীর সৃষ্টি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনার অংশ’
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দেশের শত্রুরা দুটি কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করেছে। এর একটি হচ্ছে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসা সেনা কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো আর অন্যটি জাসদ ও গণবাহিনীর সৃষ্টি। এদের সম্পর্কে অনেক ভালো জেনেছি যখন জেলে ছিলাম।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘৩ নভেম্বর যে অভ্যুত্থান হল তখন কর্নেল তাহের ও তার সঙ্গে যারা ছিল তাদের সবাইকে অ্যারেস্ট করে তারা আবার জেলখানায় চলে এল। জেলে শাফায়াত জামিল আমার সাথে। জেলখানায় তখন প্রথম জানতে পারলাম ৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের মধ্যে একটি বিপ্লবী সেল তৈরি করা হয়েছিল এবং সেটি সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। তখন শুনেছি বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কী জঘণ্য উক্তি তারা করত।’

পাকিস্তান ফেরত সেনা অফিসারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত সেনা অফিসাররা এসেই এমন একটা বিভেদ সৃষ্টি করে ফেলল। পরবর্তীতে দেখেন, বেছে বেছে মুক্তিবাহিনীর অফিসারদের এরা হত্যা করেছে। মুক্তিবাহিনীর সেনা যারা, তারাই প্রাণ দিয়েছে, এরা কিন্তু কেউ প্রাণ দেয়নি। জেনারেল জিয়াউর রহমান তার কোর্সমেট জেনারেল মোজাম্মেল, জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল ওয়াজিমুল্লাহকে ভালো ভালো জায়গায় বসিয়েছে। এমনভাবে পুরো জিনিসটা কুক্ষিগত করে ফেলল আমাদের সেনাবাহিনীকে যে জেনারেল শফিউল্লাহ কিছুই না।’

‘জেনারেল জিয়া তো ওদেরই লোক। এরা সকলে কোর্সমেট। এদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে উঠেছে কর্নেল রশিদ, কর্নেল ফারুক। কর্নেল রশিদের তো ঢাকায় পোস্টিং ছিল না, তার তো আর্টিলারি ব্যাটালিয়ন নিয়ে কুমিল্লায় থাকার কথা, ফারুকের ট্যাঙ্ক বাহিনী নিয়ে থাকার কথা বগুড়া অথবা সাভারে। এরা যে ঢাকায় এল তাহলে আমাদের সেনাপতিরা, যারা তখন ছিলেন, তারা জানতেন না, এ সমস্ত মুভমেন্ট কী কখনো আর্মি হেডকোয়ার্টাসের অনুমতি কিংবা অনুমোদন ছাড়া হয়? এগুলো তো হয় না। তাহলে আমাদের মধ্যে কীভাবে ঢুকে পড়েছিল এই ষড়যন্ত্রকারীরা। আর মূল ষড়যন্ত্রটি যারা করেছে তারা হল পাকিস্তানিরা।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566671529801.jpg

দেশের সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটের ইতিহাস তুলে ধরে সাবেক এই আমলা বলেন, ‘১৯৬৫ সালের পরে তৎকালীন সিএসপি নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা বিরূপ ভাব তৈরি হয়েছিল। তার পেছনে কারণ ছিল আইয়ুব খান। মার্শাল ল চালুর পরে উনি দেখলেন সবকিছু চালায় সিএসপিরা। তিনি তখন ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য কমিটি করলেন। সিভিল সার্ভিসের ক্ষমতা কীভাবে খর্ব করা যায় সে ব্যবস্থা কমিটি পাকাপোক্ত করল। সেই থেকে সিভিল সার্ভিসের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের ক্ষমতা নিয়ে নেওয়া হলো।’

‘আইয়ুব খানের আরেকজন প্রতীকী ইয়াহিয়া খান। আর আমাদের দেশে এসে হলেন জিয়াউর রহমান খান। আমি জিয়াউর রহমান খানই বলব। কারণ তিনি কিন্তু ওই লাইনেরই এবং তারপরে এরশাদ খান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খানেরা আমাদের ক্রমান্বয়ে যে কী পরিমাণে ক্ষতি করে গেছেন, অথচ সে জিনিসটি থেকে বঙ্গবন্ধু এসে সেই রাষ্ট্রটিতে তিনি আবার খুঁজে খুঁজে সিভিল সার্ভিসের লোকদের নিয়ে এসেছেন। শুধু সিভিল সার্ভিস নয়, উনি প্রথম সরকারে ল্যাটারাল এন্ট্রি অর্থাৎ সরকারের বাইরে কোথায় কোনো প্রতিভা আছে, যিনি সরকারকে সহযোগিতা করতে পারবেন, সেটা চালু করেন।’

বাকশালের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাকশালের গঠনতন্ত্র কেউ দেখেনি। বাকশালের উদ্দেশ্য কী ছিল এটি সম্পর্কে কেউ জানে না। বঙ্গবন্ধু এভাবে জনগণের কাছে ক্ষমতা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন ভিত্তিমূলে, তৃণমূলে। যে জন্য ৬৪টি মহকুমাকে তিনি জেলায় পরিণত করলেন। প্রতিটা জেলায় গভর্নর নিয়োগ করলেন এবং তাদেরকে ক্ষমতায়ন করে গেছেন।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মূখ্য সচিব ড.কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। স্বাগত সংগঠনের মহাসচিব শেখ ইউসুফ হারুন প্রমুখ।

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

ব্লেন্ডার মেশিন থেকে সাড়ে তিন হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার
আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর কাফরুল এলাকার একটি বাসার ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৪। এ ঘটনায় মো. ইউনুস নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‍্যাব।

রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে র‍্যাব-৪ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566664805904.jpg

সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, 'আজ বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৪ এর একটি দল কাফরুল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ৬ তলার ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে। ফ্ল্যাটটিতে অভিযানের এক পর্যায়ে একটি ব্লেন্ডার মেশিনে রক্ষিত অবস্থায় ৩ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এ ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফকে আটক করা হয়।'

তিনি বলেন, 'প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ইউসুফ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করে থাকে।'

আটকের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র