Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আইন না মেনেই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম

আইন না মেনেই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম
ইটভাটাগুলোতে দেদারছে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু শ্রম, ছবি: বার্তা২৪
মো. সাদের হোসেন বুলু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটার মালিকেরা শ্রম আইন না মেনে ইট তৈরি ও ইট টানার কাজে শিশু শ্রমিকদের ব্যবহার করছেন। শিশু শ্রম নিরসনের লক্ষ্যে দেশে বর্তমান সরকার জাতীয় শিশুশ্রম নীতি প্রণয়ন করলেও অধিকাংশ ইটভাটা গুলোতে সেই নীতি মানা হচ্ছে না।

বরং উল্টো বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও কারখানা আইন ও শিশু আইন অমান্য করে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দোহার ও নবাবগঞ্জের ইটভাটায় প্রায় ৪০০ শিশুকে কাজ করানো হচ্ছে। যাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৮ থেকে ১০ বছর। প্রত্যেক ছেলে ও কন্যা শিশু ভোর ৬ টা থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত ভাটাগুলোতে কাজ করে থাকে। গড়ে ১০ ঘণ্টা কাজ করে এসব শিশু ভাটাতেই ঘুমায়। দৈনিক আয় ১০০-১২০ টাকা। এদের লেখাপড়া ও ধর্মীয় শিক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই এসব ইটভাটায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547463398344.gif

সরেজমিনে দোহার ও নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শিকারীপাড়া এলাকার ডিএনবি ও চুনাকাটিবিল এলাকায় অবস্থিত জেবিসি, সাহেবখালীর জেবিসি, জেপিবি, মাঝিরকান্দা এলাকায় ডিএনবি ও শোল্লা পালিঝাপের এসএসবি ব্রিকস (এএবি) কৈলাইল ইউনিয়নে জেবিসি (এনডিএস) ব্রিকস, এনবিএস, কেএইচবি , জেবিসি (এনডিএস) নামের ব্রিকফিল্ড প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রমের ভয়াবহ চিত্র লক্ষ করা যায়।

দারিদ্র্যের কারণে এসব শিশুরা ইটভাটার কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় অধিবাসী ও শিশুদের অভিভাবকরা। সুযোগ বুঝে ইটভাটার মালিকেরা এসব শিশুদের স্বল্প বেতনে দিন রাত কাজ করাচ্ছেন। আর এসব শিশুদের বেশিরভাগ সিলেট, সাতক্ষিরা, সিরাজগঞ্জ ও রাজবাড়ি এলাকা থেকে কথিত দালাল চক্র নিয়ে এসে বার্ষিক চুক্তিতে ইটভাটার মতো কায়িক শ্রমের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করছে।

বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও নিরসনে কাজ করলেও, মালিকরা এ দেশের বহু দারিদ্র শিশুকে বিভিন্ন কায়িক ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত করার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকগণ। তাদের দাবি ইটভাটাসহ যেসব প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিয়োগ করছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

পানি থাকলে বাঁধ সংস্কার করা যাবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানি থাকলে বাঁধ সংস্কার করা যাবে না: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

পানি থাকলে বাঁধ সংস্কার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাঁধ যেখানে যেখানে ভেঙে যাচ্ছে সেখানে আমরা কাজ করছি। কিছু জায়গায় বাঁধ ভেঙেও গেছে। সেটা আবার মেরামত করব। পানি থাকলে বাঁধ সংস্কার করা যাবে না। পানি কমে গেলে সংস্কার করতে পারব। ফেনীতে পানি কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষাটা প্রাকৃতিক। পৃথিবীর আবহাওয়াতে একটা পরিবর্তন হচ্ছে। চায়না-আমেরিকায় নদী ডুবে গেছে। এটা আবহাওজনিত কারণ, এখানে কিছু করা যাবে না। তবে যতখানি সম্ভব আমাদের এটি ঠেকাতে হবে। ড্রেজিং করে নদীতে নাব্যতা আনলে এটা কমে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ভাটির দেশের মানুষ। উজান থেকে পানি নেমে আসবেই, আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের নদী অনেক কিন্তু, বড় নদীতে চর পড়ে আছে। এই নদীগুলোতে আমরা ড্রেসিং করব। নদীর যে পরিমাণ ৮-১০ কিলোমিটার চওড়া, সেটাকে আমরা ৪-৫ কিলোমিটারে নিয়ে আসব।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে তিনি বলেন, যে বন্যা হচ্ছে তাতে আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টির পানি প্লাবিত হয়ে বাংলাদেশে নেমে আসছে। এখানে পানির পরিমাণ এতো বেশি যে নরমাল বাঁধে এই পানি ঠেকানো যাবে না। যেখানে যেখানে নদী ভাঙন হচ্ছে, আমরা জরুরি কাজ করে সেটি ঠেকানো চেষ্টা করছি।

বন্যা কবলিত প্রতিটি এলাকায় এমপি ও জেলাপ্রশাসকদের প্রতিনিধি দিয়ে কমিটি করে কাজ করানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডিসিদের প্রতি বিশেষ কোন নির্দেশনা ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমগুলো সম্পর্কে তাদের অবহিত করেছি। এখন যে বন্যা দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসকরা এলাকায় গিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। আমরা সকলে সম্মিলতভাবে বন্যাকে মোকাবিলা করব। এবার বছরের প্রথম থেকেই আগাম বন্যার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। যে সকল এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো পরিদর্শন করতে ও সেখানকার সমস্যা চিহ্নিত করার জন্য।

এ সময় পানি সম্পদ উপ-মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম উপস্থিত ছিলেন।

এজলাসে খুন: গাফিলতি কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে

এজলাসে খুন: গাফিলতি কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

কুমিল্লায় আদালতের এজলাস কক্ষে ফারুক নামে এক আসামিকে খুন করার ঘটনায় নিরাপত্তাগত দিক থেকে কারো কোনো গাফিলতি আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ধানমন্ডিতে বিজিবি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এজলাস কক্ষে এমন একটি ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। কিভাবে এজলাস কক্ষে একজন মানুষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসতে পারে সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এতে যদি নিরাপত্তাগত দিক থেকে কারো কোন গাফিলতি থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তবে আরেকটি বিষয় আদালতে কেমন নিরাপত্তা দেওয়া হবে তা আদালত ঠিক করে পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের চাহিদা মতই পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে এমন ঘটনার পর, আদালত কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আমরা নানারকম পদক্ষেপ নিয়েছি। খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র