Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর

আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর
আবিতনের হাসিতে হাসছে প্রাণনাথ চর। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহার করে সবজি উৎপাদনে তাক লাগিয়েছেন আবিতন বেগম। এক সময়ের অভাবের কষাঘাতে পৃষ্ট আবিতন এখন সব সময়ই থাকেন হাসি খুশিতে। তার হাসিতে হাসছে সবজি ক্ষেত। কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহারে এবার আবিতনের ক্ষেত জুড়ে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে।

কম খরচে বেশি ফলন হওয়াতে এখন গ্রামের অন্য চাষিদের নজর পড়েছে আবিতনের দিকে। কেউ কেউ তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন জৈব সার ব্যবহার পদ্ধতি ও ভালো ফলনের ব্যাপারে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের তিস্তা নদী অববাহিকায় প্রাণনাথ চর। এই গ্রামেই আবিতন বেগমের বসবাস। যাকে এখন গ্রামের লোকজনরা সফল সবজি চাষি হিসেবে চেনেন।

কৃষি কাজের ওপর নির্ভর প্রাণনাথ চরের অধিকাংশ মানুষ। এই গ্রামে কৃষি শ্রম ব্যতীত বিকল্প কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় বেশির ভাগ পরিবারে চাষাবাদেই ঘুরপাক খাচ্ছে ভাগ্য। অভাব অনটনের এ গ্রামে নিজেকে স্বাবলম্বী নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে লড়াই করে যাচ্ছেন আবিতন বেগম। এ কারণে স্বামীর পাশাপাশি নিজেও ঝুঁকেছেন কৃষি কাজে। গড়ে তুলেছেন সবজি ক্ষেত। সামান্য প্রচেষ্টা থেকেই আবিতন যেমন নিজেকে বদলে নিয়েছেন। তেমনি তার হাসিতে বদলে যাচ্ছে প্রাণনাথ চর।

অথচ একটা সময় আবিতনের সংসারে অভাব লেগে থাকত। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীর সামান্য আয়ে তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে ছিলেন তিনি। সেই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে আবিতন ছুটে যান আরডিআরএস বাংলাদেশের বাস্তবায়িত রি-কল ২০২১ প্রকল্প আয়োজিত সিবিও মিটিংয়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/14/1547458613686.jpg

সেখান থেকে আবিতনের আগ্রহ বাড়ে কৃষি কাজের প্রতি। সংসারের অশান্তি ঘোচাতে সিদ্ধান্ত নেন চাষাবাদে নিজেকে মেলে ধরার। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আরডিআরএস আয়োজিত পরিবেশ বান্ধব সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ থেকে শুরু হয় তার বদলে যাবার গল্প।

প্রথমে বাড়ির কাছে মাত্র ৮ শতক জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন আবিতন। তাতে বেশ লাভবান হন তিনি। পরবর্তীতে আরডিআরএস রি-কল ২০২১ প্রকল্প থেকে বাঁধাকপি, ফুলকপির বীজ প্রদান করা হয়। এরপর চাষ বাড়িয়ে ২০ শতক জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে জৈব সার হিসেবে ভার্মি কম্পোস্ট সার ও জৈব পেস্টিসাইড ব্যবহার করেন। এর ফলে উৎপাদন খরচ অনেক কম হয়েছে। পাশাপাশি এবার ফলনও ভালো হয়েছে।

আবিতন বেগম জানান, বিশ শতক জমিতে সেচ ও সারসহ প্রায় সাত হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার টাকার কপি বিক্রয় করেছেন। এই বাড়তি আয় দিয়ে ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালাচ্ছেন। এখন সংসারে অশান্তি নেই। বেশ সুখেই আছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, এ বছর কাউনিয়া উপজেলাতে বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৪৫ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ নারীদের সবজি চাষ সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে সবজির উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগ আবিতনের মতো চাষিদের সঙ্গে সব সময় ছিল এবং থাকবে বলেও জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা
ছবি: শাদরুল আবেদীন

বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অনেকটাই কমেছে। এটি এখন উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উন্নতি ঘটছে।

মাঝে মাঝে অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে দেশের দু-এক জায়গা ছাড়া তেমন কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমে জনজীবন কিছুটা অতিষ্ঠ হলেও বন্যায় কবলিত পানিবন্দিদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তারা নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেদের আবারও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের আর্তনাদ থেকেই যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389450967.jpg

আবহাওয়া অফিস বলছে, 'মৌসুমী বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা কমে গেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে তাপমাত্রা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি ছিল তবে এখন তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে।'

বুধবার ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মংলায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুমারখালীতে ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে রাজধানীতে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। এতে গরমের তীব্রতাও বাড়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389436185.jpg

রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'গতকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব কমেছে। তাপমাত্রা বেড়েছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তিন থেকে চারদিন পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও এক থেকে দেড় মাস এভাবেই চলবে।'

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজশাহী সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের উপর দিয়ে বেড়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও তার নামে ভুয়া চিঠিপত্র।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভুয়া সিল-প্যাড ব্যবহার করে জা‌লিয়া‌তি কর‌েছে এক‌টি প্রতারক চক্র।

এ ভুয়া চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নং: ৯৮১।

জিডিতে তিনি জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোন ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য  জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563387562162.jpg

আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্যাডে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর নকল করে গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যেটি একটি জাল চিঠি ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র