Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা

বিলুপ্তির পথে ধানের গোলা
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় এখনো কিছু গোলা চোখে পড়ে, যেগুলো পূর্বপুরুষের স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন কৃষকরা/ ছবি: বার্তা২৪.কম
এস এম জামাল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
কুষ্টিয়া
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামে-গঞ্জে এক সময় অবস্থা সম্পন্ন কৃষকের বাড়িতে শোভা পেতো ধানের গোলা। যাদের জমির পরিমাণ একটু বেশি তারা ধান সংরক্ষণের জন্য এই গোলা ব্যবহার করতেন।

গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা খুবই উপযোগী। ধানের মৌসুমে ধান কেটে শুকিয়ে গোলায় রাখা হয়। প্রয়োজনের সময় গোলা থেকে ধান বের করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে ধান ভাঙানো হয়।

অথচ বর্তমানে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে এই ধানের গোলা। তবুও পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাড়ির উঠানে এখনো কেউ কেউ এই ধানের গোলা রেখে দিয়েছেন।

এসব ধানের গোলায় ১০০ থেকে ২০০ মণ ধান সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মিনাপাড়া এলাকায় এখনও চোখে পড়ে এসব ধানের গোলা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547288281439.gif

ঐ গ্রামের মো: আমিনুজ্জামান (৬২) বার্তা২৪কে বলেন, ‘এক সময়ে নামকরা গেরস্থ বলতে- মাঠ ভরা সোনালি ফসলের ক্ষেত, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর কৃষকের গোলা ভরা ধানকেই বুঝাতো।

‘কিন্তু এসব এখন যেন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হয়েছে। হারিয়ে গেছে গেরস্থের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। তবুও আমরা পুর্বপুরষদের ব্যবহৃত সেই ধানের গোলা স্মৃতি স্বরুপ সংরক্ষণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

তিনি জানান, তিনি ও তার চাচাতো ভাইয়ের তিনটা ধানের গোলা রয়েছে। সেই গোলাগুলো এখনো ভালো আছে। গোলাতে ধান সংরক্ষণ করছেন। অবশ্য এখন আর আগের মতো কেউ ধান রাখে না। বস্তায় করে গোডাউন অথবা ঘরের মধ্যে রেখে দেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের আব্দুল মান্নান শাহ জানান, প্রথমে বাঁশ-কঞ্চি দিয়ে গোল আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হতো। এঁটেল মাটির কাদা তৈরি করে ভেতরে ও বাইরে আস্তরণ লাগিয়ে উপরে টিনের চালা দিয়ে বিশেষ উপায়ে তৈরি করা হতো এই ধানের গোলা।

ধানের গোলা বসানো হতো উঁচুতে। প্রবেশপথ রাখা হতো বেশ ওপরে, যেন চোর বা ডাকাতে ধান নিতে না পারে। ধানের গোলায় ঢুকে ক্ষতি করতে পারতো না ইঁদুরও। গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হতো শক্ত। কৃষকের কাছে এটিই ছিলো ধান রাখার আদর্শ পন্থা।

মিরপুরের মালিহাদ ইউনিয়নের ঝুঁটিয়াডাঙ্গা এলাকার কৃষক মারুফ পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে বাড়ির উঠানে পাঁচটি বড় ধানের গোলা রেখে সেগুলোতে ধান রাখছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547288306464.gif

মারুফ বলেন, ‘গোলাগুলো আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য বহন করে। দাদার আমল থেকে দেখে এসেছি এগুলো। ধান রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্য রক্ষায় তাই এখনো রেখে দিয়েছি।’

আরেক প্রবীণ কৃষক এলাহী মণ্ডল বলেন, ‘এখন আর গোলার প্রচলন বা কদর নেই। ড্রাম-বস্তায়ই ধান রাখি। যে ধান পাই, তা তো বিক্রি করে আর খেতেই ফুরিয়ে যায়। গোলায় রাখবো কী? তবুও অযত্নে অবহেলায় রেখে দিয়েছি। একদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে।’

একই উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের শাজাহান আলী বার্তা২৪কে বলেন, ‘বাবার প্রায় একশো বিঘা জমি ছিলো। প্রতিদিনই কৃষকরা কাজ করতেন। ধান ছাড়াও বিভিন্ন চৈতালী ফসল ফলানো হতো সেসব জমিতে। ধানসহ অন্যান্য ফসল সংরক্ষণের জন্য ছিলো বেশ কয়েকটি গোলা। কিন্তু এখন আর সেসব নেই। একটিমাত্র গোলা রয়েছে সেটিও স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছি।’

কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে কৃষকের ঘরে ঘরে এক সময় গোলায় ধান রাখা হতো। এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না সেই গোলা। বিলুপ্তির পথে গোলার সেই ঐতিহ্য।

আপনার মতামত লিখুন :

খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামির মৃত্যু

খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামির মৃত্যু
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছবি: সংগৃহীত

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শামসু মল্লিক (৭৫) নামের এক আসামি মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে তিনি মারা যান। শামসু মল্লিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামি ছিলেন। সে রূপসার কাশেম মল্লিকের ছেলে।

ওই আসামি গত কয়েকদিন ধরেই জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানান খুলনার জেলার মো. জান্নাত উল ফরহাদ।

তিনি বলেন, 'জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ আগস্ট থেকে তিনি জেলা কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।'

খুলনা জেলার রূপসা থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। রূপসা থানার মামলা নং-১০ (৬) ১৯ জিআর -১৮৮/১৯।

উক্ত ব্যক্তির মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

ইউনিমার্ট ও বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলকে জরিমানা

ইউনিমার্ট ও বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলকে জরিমানা
ইউনিমার্টে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, উত্তর সিটি করপোরেশনের অভিযান/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ইউনিমার্টকে জরিমানা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য আইন ভঙ্গ করায় বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলকেও জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে ডিএনসিসি’র নগর ভবনের নিচের ইউনিমার্ট ও বেঙ্গল ব্লুবেরিকে জরিমানা করা হয়। ডিএনসিসি’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার ও আব্দুল হামিদ মিয়া পৃথক দু’টি অভিযানে এই জরিমানা আদায় করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566487047787.jpg

ইউনিমার্টের অপরাধ তাদের ফার্মেসিতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ৪ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রায় তরল দুধ না রাখায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৫, ৫১ ও ৫২ ধারা ভঙ্গ করেছে। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566486844667.jpg

এ বিষয়ে ইউনিমার্টের এক্সিকিউটিভ কোয়ালিটি কন্ট্রোল ওয়াকিল আহমেদ বলেন, আমরা যে ফ্রিজ ব্যবহার করছি সেটা নির্দিষ্ট সময় যাওয়ার পর ডিফ্রস্ট হয়।  ডিফ্রস্ট হলে তাপমাত্রা ছেড়ে দেয়, তখন দেখা যায় তাপমাত্রা কিছুটা হেরফের হয়। আর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ একটা উপায়ে সংগ্রহ করে ফেরত দিতে হয় সেটা করতে গিয়ে ভুলবশত এটা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566487065559.jpg

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, তরল দুধ ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিচে রাখার কথা সেটি রাখা হয়নি। যা একটি অপরাধ। নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৫, ৫১ এবং ৫২ ধারায় তাদের ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড। আর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হবে। এছাড়া পরবর্তিতে আবারও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পেলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/22/1566486900316.jpg

বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলের জরিমানার বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার বলেন, তাদের ফ্রিজে কন্টামিনেশন হয়েছে, তার মানে হচ্ছে একই ফ্রিজে এক সঙ্গে মাছ, মাংস, সবজিসহ বিভিন্ন জিনিস রয়েছে। তাছাড়া ফ্রিজে কোনও খাদ্য পণ্য রাখলে তার গায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লিখে রাখতে হয় যেটা তারা করেনি। এজন্য গুলশান ৯০ নম্বর রোডে বেঙ্গল ব্লুবেরি হোটেলকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র