Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য-ম্যুরালের নগরী রংপুর

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য-ম্যুরালের নগরী রংপুর
মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য-ম্যুরালের নগরী রংপুর। ছবি: বার্তা২৪.কম
ফরহাদুজ্জামান ফারুক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
রংপুর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির উর্বর ভূমি রংপুর। রঙে রসে সমৃদ্ধ প্রাচীনতম এ জেলার রয়েছে দিগন্ত জোড়া সৌন্দর্য। প্রকৃতির রঙ আর ভাওয়াইয়ার সুর রয়েছে এই নগরীতে। ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৌরবময় ইতিহাসের আলো ছড়ায় এ জেলা। এই আলোতে রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর সংগ্রাম ইতিহাসের কথা।

তীরধনুক আর লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণের অবিস্মরণীয় ইতিহাসের জন্ম দিয়েছিল স্বাধীনতাকামী রংপুরের মানুষরা। সেই সাহসী অগ্রজদের অনেকেই হয়তো বেঁচে নেই। কিন্তু তাদের সে দিনের স্মৃতি আজও বেঁচে আছে। উজ্জ্বল হয়ে আছে সাহস, দৃঢ়তা আর আত্মত্যাগের অনবদ্য ইতিহাস।

একাত্তরে রংপুরবাসীর স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রামের কথাগুলো শুধু বইয়ের পাতাতে নয়, তুলে ধরা হয়েছে ভাস্কর্য-ম্যুরালসহ বিভিন্ন স্থাপনাতে। অসংখ্য শহীদের রক্তে ভেজা রংপুর মহানগরীতে ইতিহাস যেন বরাবরই জাগ্রত। একটু সময় নিয়ে পুরো নগরীর একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরলেই চোখে পড়বে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভাস্কর্য আর ম্যুরাল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547274626424.jpg

রংপুরের প্রবেশদ্বার দমদমা পার হয়ে মডার্ন ব্রিজের কাছে এসে মাথা উঁচু করতেই নজর কাড়বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি। বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ এ সন্তানের প্রতিকৃতিসহ গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ ফুটে উঠেছে ‘অর্জন’ নামক ভাস্কর্যটিতে। মডার্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারিত হয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা। শিল্পীর শৈল্পিক ভাবনায় তুলে ধরা হয়েছে ২৫ মার্চের ভয়াল কালো রাতে পাকিস্তানি হায়েনাদের বর্বরতার চিত্র। রংপুরের মানুষের ২৮ মার্চের ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণে ব্যবহৃত তীরধনুক আর লাঠিসোঁটাও রয়েছে ভাস্কর্যের বুক জুড়ে। অর্জনে ফুটে উঠেছে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সফলতম দিন ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় উল্লাস আর পরাজিত বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি।

সেখান থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে সোজা কারমাইকেল কলেজ রোডে এলেই গর্জন শুনতে না পেলেও দেখা মিলবে বাঘ মামার সঙ্গে। লালবাগ বাজার মোড়ে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে দাঁড়িয়ে। রেলক্রসিং পার হয়ে সোজা যেতে যেতে ‘শাপলা চত্বরে’ দেখা যাবে প্রস্ফুটিত ও অপ্রস্ফুটিত শাপলা ফুলের। ‘একটি ফুলের জন্য’ শিরোনামে নির্মিত হয়েছে এই ভাস্কর্য। ভাসমান শাপলার চারপাশ অঙ্কিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যকে লালন করে। সেখানে প্রায় সময়ই বিভিন্ন বসয়ী মানুষ নিজেকে ক্যামেরা বন্দী করেন জাতীয় ফুলের সঙ্গে।

শাপলা চত্বর থেকে নাক বরাবর যেতে যেতে জাহাজ কোম্পানি মোড়। এখান থেকে সোজা পায়রা চত্বর। এই চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা পাখা মেলে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে। পায়রার নিচের অংশ জুড়ে আছে ভাষা শহীদদের প্রতিকৃতি, আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি আর একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মুক্তি দিতে অসময়ে বিদায় নেয়া সন্তানদের মুখ। মুক্ত পায়রায় জড়িয়ে আছে লাল-সবুজের প্রিয় পতাকা আর জাতীয় সঙ্গীতের প্রথম দুই চরণ।

পায়রা চত্বর থেকে সুপার মার্কেট মোড় ও রংপুর সিটি করপোরেশন ভবন পার হলেই ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ। এই মাঠের প্রবেশদ্বারে তৈরি ভাস্কর্যের কারুকল্পে আছে ভাওয়াইয়ার সুর, গরুর গাড়ি আর মুক্তিযুদ্ধ-ভাষা আন্দোলন। সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে রয়েছে পাকিস্তানিদের টর্চার সেল ঐতিহাসিক রংপুর টাউন হল আর শহীদের রক্তমাখা বধ্যভূমি।

পাবলিক লাইব্রেরি থেকে বের হয়ে কালেক্টরেট সুরভি উদ্যানের দিকে গেলে চোখে পড়বে রংপুর জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ফলক। সেখান থেকে জিলা স্কুল মোড়ের দিকে এগোলে জাতির জনকের বিশাল ম্যুরাল। এই ম্যুরালে প্রতিদিনই ভালোবাসার ফুল পড়ে পিতার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা থেকে। বিকেলের পর এখানকার আশপাশ মুখরিত থাকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা অনুরাগীদের আড্ডায়।

জিলা স্কুল মোড় থেকে সোজা গেলেই ধাপ চেক পোস্ট। এখানে ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশ তোরণের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ ‘অংশুমান’। হাতে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা আর ঘাড়ে রাইফেল। এটি বিজয় বাংলাদেশের চিত্র। এ ভাস্কর্যটিতে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৮ মার্চ রংপুরে ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণে শহীদ হওয়া সাওতাল অংশুমানের নাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/12/1547274644232.jpg

এসব ভাস্কর্য ও মুর‌্যাল ছাড়াও রংপুর মহানগরীর নিসবেতগঞ্জ এলাকাতে রয়েছে তীরধনুকের আদলে তৈরি ‘রক্তগৌরব’। মুলাটোল পাকার মাথা মোড়ে রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি। সাতমাথা মোড়ে রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির চাদরে তুলে ধরা হয়েছে শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিচ্ছবি।

স্বাধীনতাকামী রংপুরের মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে তৈরি এসব ভাস্কর্য ও মুর‌্যাল একদিকে নগরীর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, এমনটাই দাবি সচেতন মহলের।

ইতিহাস চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে নগরীর ভাস্কর্য ও মুর‌্যালগুলো সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রংপুর মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জ। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরণা। নতুন প্রজন্মের মাঝে এ অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিজড়িত এসব ভাস্কর্য ও মুর‌্যালের ভূমিকা অনেক বেশি।’ এ সময় তিনি রংপুরে আরও বেশি করে ভাস্কর্য মুর‌্যাল তৈরি এবং সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন :

রূপায়ণের মুকুলসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রূপায়ণের মুকুলসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
অগ্নিকাণ্ডে বিধ্বস্ত এফআর টাওয়ার/ ফাইল ছবি

বনানীর এফআর টাওয়ার (ফারুক-রূপায়ণ টাওয়ার) নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দু’টি দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ২ ও ৩।

মামলা দুটোর বাদী প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক। রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ ২৩ জনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে ২৬ জন মারা যান।

দুদকের অভিযোগ, এফআর টাওয়ারের ১৫ তলা থেকে ২৩ তলা পর্যন্ত অনিয়মের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের নকশার অনুমোদন নেওয়া হয়। পরে ভবনটির দু’টি নকশা হাতে পায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। একটি নকশায় ১৮তলা ও অন্যটিতে ২৩তলা দেখানো হয়েছে।

একটি মামলায় পাঁচ জনকে এবং আরেকটি মামলায় ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মুকুল ও ফারুক দু’টি মামলারই আসামি। মামলার বিষয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সারোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।’

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’
প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের আলোচনা সভা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে। এসব মাদকাসক্তের ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী থেকে শুরু করে নারী ও শিশু কিশোররাও মাদকের সাথে জড়িত।’

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ কিশোর তরুণ মাদকের সাথে যুক্ত। এদের ৪৫ ভাগ বেকার ও ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্রাজুয়েট। উচ্চশিক্ষিতদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561462186623.jpg

সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মের পথে থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকা যায়। মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশই যুবক। শেখ হাসিনার হাত ধরে যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি, তার মূল চালিকাশক্তিই হলো তরুণ সমাজ। সেই তরুণরাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পরে, তাহলে উন্নয়নের প্রধান বাধা হবে মাদক।’

তিনি বলেন, ‘যুব সমাজের সাথে মহিলারাও এই মাদকে আসক্ত হচ্ছে। জনগণকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে যুবকদের মধ্যে যে হতাশা, তা নির্মূল করতে হবে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজকের যুব সমাজই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র