Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

কড়া নিরাপত্তায় নতুন কারাগারে বন্দী স্থানান্তর শুরু

কড়া নিরাপত্তায় নতুন কারাগারে বন্দী স্থানান্তর শুরু
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সিলেটের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নতুন কারাগারে নেয়া হচ্ছে বন্দীদের, ছবি: বার্তা২৪
নূর আহমদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
সিলেট
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট শহরতলির বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নতুন কারাগারে বন্দীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত বছরের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নতুন কারাগারটি উদ্বোধন করেন।

মহিলা হাজতিদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে বাদাঘাটে নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল পৌনে সাতটার দিকে একটি প্রিজন ভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নবনির্মিত কারাগারে নিয়ে আসা হয় মহিলা হাজতিদের। এরপর কয়েদিদের নিয়ে আসা হয়। পর্যায়ক্রমে হাজতিদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

এর আগে পুরাতন কারাগারের প্রধান ফটকে নোটিশ সাঁটানো হয়। নোটিশে বলা হয়, ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দীদের সাথে তাদের আত্মীয় স্বজনসহ সকলের সাক্ষাৎ কার্যক্রম আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/11/1547183411985.gif

উদ্বোধনের পর থেকে নব নির্মিত কারাগারের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কারারক্ষীসহ কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন কারাগারে অফিস করা শুরু করেন।

বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন। এর মধ্যে কয়েদি (সাজাপ্রাপ্ত) ৫০০ এবং হাজতি হলেন ১ হাজার ৮০০ জন।

বন্দী স্থানান্তর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন এবং নগরীর ও ধুপাদীঘিপারে পুরাতন কারাগারে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সকাল থেকে পুরাতন কারাগার থেকে নতুন কারাগার পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ র‍্যাবের চৌকস দলের নেতৃত্ব বন্দীদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/11/1547183430045.gif

সিলেট নগরী থেকে ২৩০ বছর পর বাদাঘাটে স্থানান্তরিত হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। এর আগে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঐকান্তিক চেষ্টায় মূলত কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে নব নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেন।

নগরীর ধোপাদিঘীরপাড় এলাকায় এতদিন ছিল সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। নতুন কারাগার নির্মাণের পর এই কারাগারটি এখন করা হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২। ১৭৮৯ সালে এলাকায় আসামের তৎকালীন কালেক্টর জন উইলিয়াম প্রায় ১ লাখ ভারতীয় রুপি ব্যয়ে ২৪.৬৭ একর জমির ওপর ‘সিলেট কারাগার’ নামে এটি নির্মাণ করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/11/1547183511727.gif

তৎকালীন আসাম রাজ্যের একমাত্র টিবি হাসপাতাল ছিল এ কারাগারেই। ১৯৯৭ সালে এ কারাগারকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। কারাগারের ধারণক্ষমতা ১২১০ জন হলে এখানে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি আছেন। এছাড়া ২০০ বছরের পুরনো হওয়ায় কারাগারটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব বিবেচনায় শহরতলির বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১০ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) সিলেট কারাগার স্থানান্তর প্রকল্প পাস হয়। পরে প্রকল্পের লে-আউট প্ল্যান প্রণয়ন করে সিলেট গণপূর্ত বিভাগ। তাদের অধীনেই নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত’
প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের আলোচনা সভা/ ছবি: বার্তা২৪.কম

‘বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লাখের বেশি মাদকাসক্ত রয়েছে। এসব মাদকাসক্তের ৮৪ ভাগ পুরুষ ও ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী থেকে শুরু করে নারী ও শিশু কিশোররাও মাদকের সাথে জড়িত।’

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শতকরা ৯০ ভাগ কিশোর তরুণ মাদকের সাথে যুক্ত। এদের ৪৫ ভাগ বেকার ও ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্রাজুয়েট। উচ্চশিক্ষিতদের সংখ্যা ১৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল, বাংলাদেশ এন্টি ড্রাগ ফেডারেশনের সভাপতি নুর মোহাম্মদ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী প্রমুখ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561462186623.jpg

সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘ধর্মের পথে থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকা যায়। মাদকাসক্তদের ৮০ শতাংশই যুবক। শেখ হাসিনার হাত ধরে যে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছি, তার মূল চালিকাশক্তিই হলো তরুণ সমাজ। সেই তরুণরাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পরে, তাহলে উন্নয়নের প্রধান বাধা হবে মাদক।’

তিনি বলেন, ‘যুব সমাজের সাথে মহিলারাও এই মাদকে আসক্ত হচ্ছে। জনগণকে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে যুবকদের মধ্যে যে হতাশা, তা নির্মূল করতে হবে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘আজকের যুব সমাজই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। তারাই যদি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়বে।’

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও
রাজশাহীতে পানে রোগ, ছবি: বার্তা২৪.কম

রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি পানের চাষ হয় মোহনপুরে। অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষ উপযোগী মাটির কারণে কৃষকেরা ধানের চেয়ে বেশি পান চাষ করে। ফলে জেলার সবচেয়ে ছোট এই উপজেলায় আবাদকৃত পান বরেন্দ্র অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও পাঠানো হয়।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছর বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পানে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। সদ্য গজানো পান পাতায় কালো দাগ পড়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পচে যাচ্ছে। এ ধরনের বালাই উপজেলার পান চাষিরা আগে কখনও দেখেনি। ফলে তারা উপজেলা কৃষি অধিদফতরের দ্বারস্থ হয়।

কৃষকদের কাছে তথ্য পেয়ে কৃষি কর্মকর্তারা দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পানের বরজে ঘুরে ঘুরে রোগ বালাইয়ের কারণ ও ধরন চিহ্নিত করে। পরে কৃষি অফিস থেকে নির্ধারিত কিছু প্রতিষেধক পানের বরজে ব্যবহার করতে বলেন। গত সপ্তাহ থেকে তারা ওই সব প্রতিষেধক ব্যবহার করলেও তাতে কোনো সুফল মেলেনি। ফলে লোকসানের শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানের বরজ ঘুরে দেখা গেছে, কচি সবুজ হয়ে গজানো পান পাতায় হঠাৎ কালো কালো দাগ পড়ছে। দিন গড়িয়ে রাত, পরদিন সকালে বরজে গিয়ে দেখা যাচ্ছে ওই পান পাতার কোনোটি পচে যাচ্ছে আবার কোনোটি শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এই মড়ক দেখা দিয়েছে।

মোহনপুরে পানে রোগের উপদ্রব, কাজে আসছে না প্রতিষেধকও

কৃষকেরা কৃষি অফিস অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে স্কোর, এমিস্টার টপ, টিল্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক নিয়ম মেনে ব্যবহার করছে। তবে ফল পাচ্ছেন না। বিভিন্ন পানের বরজে গিয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরিদর্শন করতেও দেখা যায়। তবে তারা বালাইয়ের ধরন দেখে রোগ সম্পর্কে এখনো তেমন কিছু বলতে পারছেন না।

উপজেলার কেশরহাট পৌর এলাকার কৃষক কাশেম উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'পান পাতায় হঠাৎ কালচে দাগ দেখা যাচ্ছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা পচে যাচ্ছে। শুধু পাতায় নয়, গাছের গোড়ায় একই ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দুই সপ্তাহ পর এলাকার বরজে কোনো পান গাছ বেঁচে থাকবে না।'

উপজেলার ধুরইল গ্রামের পান চাষি শফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বরজে রোগ দেখে আমিসহ কয়েকজন চাষি উপজেলা কৃষি অফিসে জানিয়েছিলাম। তারা বরজ পরিদর্শন করে অনুমোদিত কিছু কীটনাশক ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়। সেগুলো ৫/৬ দিন ব্যবহার করছি। কোনো কাজেই আসছে না। বিষয়টি কৃষি অফিসে জানালে, তারা সুফল পেতে আরও কিছুদিন ব্যবহার করতে বলছেন। কিন্তু ততদিনে তো বরজ উজাড় হয়ে যাবে।'

আরেক চাষি রায়হান বলেন, 'আমরা কীটনাশক ব্যবহারে সুফল পাচ্ছি না, এটি জানানো হলে বিভিন্ন কৃষি অফিস অনুমোদিত কোম্পানির লোকজন প্রতিদিনই বরজে আসছে। তারা দেখেশুনে আবার সেই একই ওষুধ দিচ্ছে।'

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোছা. রহিমা খাতুন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'হঠাৎ করে বরজে রোগ-বালাইয়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকে মাঠে নেমে পরামর্শ দিচ্ছেন সকল উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগণ। নির্ধারিত প্রতিষেধক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাতে দ্রুত সুফল আসবে বলে আশা করছি।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র