Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

উত্তরবঙ্গে জঙ্গিদের অপতৎপরতা বেড়েছে

উত্তরবঙ্গে জঙ্গিদের অপতৎপরতা বেড়েছে
ছবি: বার্তা২৪
শাহরিয়ার হাসান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় নির্বাচনের আগে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী। তাই নির্বাচন পরবর্তীতে আবারও সংগঠিত হতে চেষ্টা করছেন তারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, তাদের এই অপতৎপরতা উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক আর তারা অবস্থান করছেন দুর্গম জনশূন্য এলাকায়। হঠাৎ নির্দিষ্ট এলাকা কেন্দ্রিক জঙ্গিদের অপতৎপরতার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

তবে র‍্যাব- পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গিদের ওপরে কড়া নজরদারি আছে সকল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর।

র‍্যাব সদরদফতরের তথ্য বলছে, হলি আর্টিজেনের ঘটনার পর থেকে শুধু র‍্যাব বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের প্রায় ৫৫০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন ২৫ জনের বেশি। আত্মসমর্পণ করেছেন ১০ জন।

তাছাড়া গত ছয় মাসে ১৩০ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। যেখানে শুধু জেএমবি সদস্যই রয়েছে ৯৯ জন।

তবে সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে গঠিত র‍্যাব ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট গুলো অন্তত ১০টি আস্তানায় হানা দিয়ে বিভিন্ন স্তরের ২২ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে।

সর্বশেষ রোববার (৭ জানুয়ারি) রংপুরের তারাগঞ্জ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উত্তরবঙ্গের প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবদুর রহমান বিশ্বাসসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব ১৩।

র‍্যাব সদরদফতর সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত প্রধান সমন্বয়ক আব্দুর রহমান বিশ্বাস, জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা আবুল কাশেমের ছেলে। আবুল কাশেম কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কর্তৃক ২০১৭ সালের মার্চে মিরপুর থেকে গ্রেফতার হলে উত্তরবঙ্গের জঙ্গি সংগঠনের হাল ধরেন তার ছেলে।

জানা যায়, তিনি মূলত উত্তরবঙ্গে জেএমবি কার্যক্রম পরিচালনা, নাশকতা পরিকল্পনায় মূল ব্যক্তি হিসেবে সহায়তা করে থাকেন।

জঙ্গিদের উত্তরবঙ্গের সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙ্গা রাখতে, বিভিন্ন লোকজনদেরকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থ সাহায্য নিতেন তারা। যা দিয়ে তারা সংগঠন পরিচালনা করাসহ অস্ত্রশস্ত্র কিনতেন।

পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে, নতুন সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য পরিকল্পনা কাজে টাকা ব্যায় করতেন।

উত্তরবঙ্গ ভিত্তিক এই জঙ্গি সংগঠনের পরিকল্পনা, শুধু উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক নয়। দেশজুড়ে নানা ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করতেন তারা। বিশেষ করে বিভিন্ন এনজিও থেকে অর্থ ছিনতাই,  ইসলাম বিরোধী কথা বার্তা প্রচার করা ব্যক্তিদের হত্যা করা ছিল তাদের মূল পরিকল্পনার অংশ।

নির্বাচন পরবর্তীতে জঙ্গিদের এই অপতৎপরতাকে কিভাবে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা, জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আব্দুর রশিদ বার্তা২৪কে বলেন, শুধু জঙ্গি সংগঠন না। নির্বাচনের আগে ও পরে যে কোনো অপশক্তি তৎপর হয়ে ওঠে। যখন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জঙ্গিদের মতাদর্শ মিলে যায়। তখন নির্বাচনের সময় বা নির্বাচন পরবর্তীতে জঙ্গিদের ওই দলটির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কার্যক্রম চালায়। ফলে তাদের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পায়।

উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক জঙ্গিদের অপতৎপরতার ও তাদের সক্ষমতার বিষয়ে জানতে চাইলে, র‍্যাব ১৩'র প্রধান মোজাম্মেল হক বার্তা২৪কে বলেন, দুইদিন আগে আটক হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্য সহযোগীদের নাম জানতে পেরেছি।

নাশকতার পরিকল্পনা, সরকার ও রাষ্ট্র বিরোধী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তারা। এই ধরনের পরিকল্পনা সঙ্গে আর যারা যারা জড়িত আছে অতি দ্রুত তাদেরকে আমরা গ্রেফতার করব।

মোজাম্মেল হক বলেন, উত্তরবঙ্গের জঙ্গিদের বর্তমান প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে, সেক্ষেত্রে অন্যদের কেউ আটক করে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক

রূপসা সেতুর টোল আদায়ে অনিয়ম পেয়েছে দুদক
রূপসা সেতুর টোল আদায় নিয়ে দুদকের অভিযান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

খুলনার রূপসা (খানজাহান আলী) সেতুর টোল আদায় নিয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।

অভিযানে ট্রাকের টোল আদায়ে অনিয়মের প্রমাণ পান তারা। এ ঘটনায় টোল আদায়কারী কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে দুদক।

দুদক খুলনার উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হাসান জানান, সেতু পারাপারের ক্ষেত্রে বড় ট্রাকের টোল (খাজনা) ২৭৫ টাকা। কিন্তু ডাটা এন্ট্রি অপারেটররা ২৫০ টাকা নিয়ে মাঝারি ট্রাকের রশিদ কাটতো। মাঝারি ট্রাকের টোল ১৮০ টাকা। বাকি ৭০ টাকা তারা আত্মসাৎ করতো। এভাবে প্রতিদিন ২২০/২৫০টি ট্রাকের টোলের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতো আদায়কারীরা।

Rupsha Bridge

তিনি বলেন, প্রথমে আমরা সেতুর কাছে দাঁড়িয়ে ট্রাকের রশিদ যাচাই করেছি। কিন্তু কোনো ট্রাকচালকের কাছে রশিদ পাওয়া যায়নি। চালকরা বড় ট্রাকের জন্য কেউ ২৫০ টাকা, কেউ ২৪০ টাকা করে দিয়েছে বলে স্বীকার করেন। অথচ বড় ট্রাকের টোল ২৭৫ টাকা। টাকা কম দেওয়ার কারণে তাদের রশিদ দেওয়া হয় না বলে চালকরা জানান। পরে টোলঘরে অভিযান চালালে দেখা যায়- সেখানে ছোট ট্রাকের টোল কাটা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখা যায়- প্রতিটি বড় ট্রাকের টোল মাঝারি ট্রাক হিসেবে আদায় করা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তা জানান, এই অনিয়মের সঙ্গে সবাই জড়িত। আটক করলে সবাইকে করতে হবে, সেতুতে গাড়ি পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক বিভাগকে জানানো হয়েছে।

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

জাহালম কাণ্ডে প্রতিবেদন নিয়ে দুদকের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট
জাহালম

ভুল মামলার আসামি পাটকল শ্রমিক জাহালমের সাড়ে তিনবছর কারাভোগের ঘটনায় আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে দুদককে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১১ জুলাই জাহালমের কারাভোগের ঘটনা তদন্ত করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদক। ওই প্রতিবেদনে দুদক কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা ও অর্থআত্মসাতের ঘটনায় একটি চক্রের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকের যারা ছিল তারা যাতে টাকা নিয়ে পালিয়ে না যায়। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আসাদুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

পরে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের আভ্যন্তরীন একটি তদন্ত হয়েছিল। দুদকের পরিচালক (আইন) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে একটা প্রতিবেদন দিয়েছেন। গত ১১ জুলাই রিপোর্টটি আমরা আদালতে দাখিল করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পড়েছি। আদালত বলেছেন, দুদকের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন এটা খুবই সমর্থনযোগ্য।

তিনি বলেন, যেহেতু এটা দুদকের একটি আভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন। কাজেই এ প্রতিবেদন দুদকের সচিবের কাছে গত ৩০ মে তদন্তকারি জমা দিয়েছেন। এখন এ প্রতিবেদন কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালত বলেছেন, যেহেতু কমিশনের কাছে উপস্থাপন হচ্ছে। আমরা দেখতে চাই কমিশন কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে আগামী ২১ আগস্ট এ মামলার পবরর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন যদি কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেটি ওই দিন আদালতকে জানাতে বলেছেন।

গত ২৭ জুন জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্ত কমিটিকে ১১ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ১৩ মে জাহালমের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র, সম্পূরক অভিযোগপত্র এবং ব্যাংকের নথি দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জাহালমের কারাবাসের বিষয়টি গত ২৮ জানুয়ারি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। দৈনিক প্রথম আলোতে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন তিনি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২৬ মামলা থেকে জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের পর মুক্তি পায় তিন বছরের বেশি কারাবাস করা জাহালম। বিনা অপরাধে কারাভোগ করায় তাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ রুলের শুনানি চলছে হাইকোর্টে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র