Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ড. মোমেন ‘তৃতীয় সিলেটি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ড. মোমেন ‘তৃতীয় সিলেটি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. মোমেন ‘তৃতীয় সিলেটি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
সিলেট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থ মন্ত্রণালয় হারালেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেয়েছে সিলেট। সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকারে ‘সিলেটি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তালিকায় তার অবস্থান তৃতীয়। তার আগে বৃহত্তর সিলেটের আব্দুস সামাদ আজাদ এবং হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. এ কে আব্দুল মোমেন ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্ব পালনকালেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের মর্যাদা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ মহিলা শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং নেভাল ফোর্স পাঠানো শুরু করে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবদমান সমস্যার সমাধানে জাতিসংঘের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ড. মোমেন। বাংলাদেশ বিরোধপূর্ণ ওই সমুদ্রসীমা বিজয় করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ ড. মোমেন। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রী পরিষদে ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নেন।

এদিকে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিলেট অঞ্চলের জন প্রতিনিধিদের দায়িত্ব নতুন নয়। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ভুরাখালী গ্রামে জন্ম নেয়া এই প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ১৯৭৩ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রথম দফায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে ফের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন আব্দুস সামাদ আজাদ। এ দফায় ১৯৯৬ সালের মার্চ থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল না ফেরার দেশে চলে যান এই জাতীয় নেতা।

বাংলাদেশের খ্যাতনামা কূটনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রাক্তন স্পিকার হিসেবে সমধিক পরিচিত। তবে সিলেটের এই সন্তান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৮৪ সালের জুন থেকে ১৯৮৫ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ ৩য় সিলেটি হিসেবে পরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায়

অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায়
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে আইএমএফ-এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান দাইসাকু কিহারার সাক্ষাৎ

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশ এখন অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, এই স্থিতিশীলতায় সংসদ সদস্যদের অবদান অনস্বীকার্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্যরা সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। সঙ্গত কারণে জনগণের কাছে সংসদ সদস্যরা জবাবদিহি করে থাকেন। অন্যদিকে সংসদের কাছে সরকার জবাবদিহি করে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ) এর এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান দাইসাকু কিহারা’র নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন স্পিকার।

সাক্ষাৎকালে আইএমএফ-এর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও আইএমএফ-এর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত কয়েক বছর ধারাবাহিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে ৮.১ শতাংশ। রেমিটেন্স ও রিজার্ভও সমান গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন সেবা পৌঁছে দিচ্ছে বর্তমান সরকার।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জনবহুল বাংলাদেশের একটা বড় অংশই হচ্ছে তরুণ, তাই বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। তরুণ জনসমষ্টিই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সুষ্টির জন্য কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে বিগত দশ বছর কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ শক্ত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থানকে ধরে রাখতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন। আর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আইএমএফ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার আহবান জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইএমএফ প্রতিনিধিদলের প্রধান দাইসাকু কিহারা অর্থনৈতিক উন্নয়নে সংসদ সদস্যদের অধিক সম্পৃক্তকরণের উপায় সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রশংসা করেন তিনি।

তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ অনুকরণীয় উল্লেখ করে দাইসাকু কিহারা বলেন, কৃষিসহ অন্যান্য শিল্পে বাংলাদেশ বেশ অগ্রসরমান। তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নে অনেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. রুস্তম আলী ফরাজী, বাংলাদেশে নিযুক্ত আইএমএফ-এর আবাসিক প্রতিনিধি র্যা গনার গুডমুন্ডসনসহ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আহসান মঞ্জিল কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মেয়র খোকনের

আহসান মঞ্জিল কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি মেয়র খোকনের
আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে আলোচনা সভায় মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন (সামনে বসা, বামে)/ ছবি: বার্তা২৪.কম

ঢাকার ইতিহাস ঐতিহ্য বিকাশে নবাব পরিবারের ইতিহাস তরুণ সমাজের মাঝে তুলে ধরতে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘ইতিহাস সংস্কৃতি বিকাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জাদুঘরের পাশে থাকবে। যদি করণীয় কিছু থাকে, তাহলে সিটি করপোরেশনে জানাবেন। সবাই মিলে প্রাণের ঢাকা শহরকে গড়ে তুলতে চাই।’

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকালে পুরান ঢাকার আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিক্ষার উন্নয়নে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।

সভায় আহসান মঞ্জিল ভবন রক্ষার্থে পুনঃনির্মাণের জন্য সরকারের আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন শিল্পী হাশেম খান। তার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মেয়র এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561464182099.jpg

সাঈদ খোকন বলেন, ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে স্যার সলিমুল্লাহর অবদানের কথা না উল্লেখ করলেই নয়। কেননা যে ইতিহাস মানুষের হৃদয়ে থাকে, তার সঙ্গে বইয়ের পাতার ইতিহাসের অনেক সময় তাল মেলে না।’

তিনি বলেন, ‘নবাব সলিমুল্লাহ যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেন, তখন অনেকে বলেছিলেন সামাজিকভাবে এই এলাকা প্রস্তুত হয়নি। জানি না সে কথা কতটুকু সত্য। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নবাব সলিমুল্লাহর অবদানের ইতিহাস যুগে যুগে মানুষের হৃদয়ে থাকবে।’

শিল্পী হাশেম খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে আলোচনা করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক রিয়াদ আহমেদ, অধ্যাপক ড: আলমগীর, অধ্যাপক সুলতান শফি, অধ্যাপক সানিয়া নিশাত আমীন সহ আরও অনেকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র