Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

লাউয়াছড়ায় বেদখল ঠেকানো যাচ্ছে না

লাউয়াছড়ায় বেদখল ঠেকানো যাচ্ছে না
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া উদ্যান/ ছবি: বার্তা২৪.কম
তোফায়েল পাপ্পু
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
মৌলভীবাজার
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বেদখল হয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল লাউয়াছড়ার বনভূমি। দিন দিন বনের জমি দখল হয়ে পড়ায় আবার সংকটে পড়েছে বন্যপ্রাণী। প্রায়ই বন্যপ্রাণী বনের বাইরে বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটছে।

অনেক সময় মারাও যাচ্ছে এসব বণ্যপ্রাণী। সবর্শেষ বুধবার (২ জানুয়ারি) লাউয়াছড়ায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায় একটি মায়া হরিণ। এর আগেও লাউয়াছড়ায় বেশ কয়েকটি হরিণ ট্রেনে কাটা পড়ে। দিন দিন এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মৌলভীবাজার রেঞ্জের প্রায় দুই হাজার ৭৪০ হেক্টর এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ছিল পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্যে এই বনের প্রায় এক হাজার ২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ, সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা দেওয়া হয়।

বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় জীববৈচিত্র্যময় বন গবেষণা কেন্দ্রসহ এই উদ্যানে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর বিচরণ। লাউয়াছড়ায় ৪৬০ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৪ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ছয় প্রজাতির সরীসৃপ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ১৭ প্রজাতির পোকামাকড় রয়েছে। নানা সমস্যা ও সংকটে ওখানকার প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যগুলো এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jan/06/1546792350513.gif

জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর বনের জমি বেদখল হওয়া ঠেকানো যাচ্ছে না। বনের জমি দখল করে ব্যক্তিমালিকানায় লেবু, আনারসসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করা হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণির আবাসস্থল সংকট ও উদ্যানের পরিসর ক্রমাম্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ডরমিটরি টিলা সংলগ্ন পূর্ব এলাকায় প্রায় ১৫ একর ভূমি দখল করে গত চার বছর ধরে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। ডরমিটরি এলাকার পশ্চিম পার্শ্বে হীড বাংলাদেশ অফিস সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের আরও একটি টিলার প্রায় ১৫ একর ভূমি দখলে নিয়ে লেবু বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।

লেবু বাগান ঘেষা টিলা সমুহে গাছগাছালি ও লতাগুল্ম কেটে টিলা খসে নতুন করে বাণিজ্যিকভাবে আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব টিলায় দীর্ঘদিন ধরে টিনসেড ঘর করে লোকজন বসানো হয়েছে দখলকৃত টিলা দেখভালের জন্য।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এসব টিলাভূমি দখলে নিলেও বনভিবাগ বিভাগ নিষ্ক্রিয় রয়েছে। ফলে উদ্যানে বসবাসরত বন্যাপ্রাণীর আবাসস্থল সংকোচিত হয়ে আসছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে এবং পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, যারা এসব ভূমি দখল করছে তারা এলাকার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হয়ে আসছে। তারা বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে লেবু বাগান গড়ে তোলেছে। এদের কেউ কেউ ইতোপূর্বে জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় সহকারী বন সংরক্ষক মো.আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত ৫ ডিসেম্বর ডরমিটরি এলাকা সংলগ্ন দখলকৃত এলাকা উচ্ছেদ করে আমাদের আওতায় নিয়ে আসছি। তবে হীড বাংলাদেশ সংলগ্ন অফিসের পার্শ্ববর্তী টিলা দখলে নিয়ে টিনসেড ঘরে লোকজনের বসবাস বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা
খুলনায় নারী নেত্রীদের মতবিনিময় সভা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

যোগ্যতা নিয়েই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে অংশ নিতে চান খুলনার নারী নেত্রীরা। খুলনার নারী নেত্রীরা বলেছেন, স্বামী, সন্তান, সংসার, চাকরি সামলে নারীদের কাজ করতে হয়। তারপরও তারা এগিয়ে চলছে। তাই কোটা নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই নারীরা এগিয়ে যাবে। রাজনৈতিক দলের কমিটিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এক মঞ্চে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির তৃনমূলের নারী নেত্রীরা এসব কথা বলেন। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিএমএ সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাড. ফরিদ আহমেদ, নিমাই মন্ডল, জুবায়ের আহমেদ জবা, বিএনপি নেতা বিএম কামরুজ্জামান টুক, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যক্ষ দেলোয়ারা বেগম, হোসনে আরা চম্পা, মহিলা দলের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট তসলিমা খাতুন ছন্দা, নারী নেত্রী শোভা রাণী হালদার প্রমুখ।

এতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নারী সংগঠনের অর্ধ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামির মৃত্যু

খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসামির মৃত্যু
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ছবি: সংগৃহীত

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন শামসু মল্লিক (৭৫) নামের এক আসামি মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে তিনি মারা যান। শামসু মল্লিক নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলার আসামি ছিলেন। সে রূপসার কাশেম মল্লিকের ছেলে।

ওই আসামি গত কয়েকদিন ধরেই জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানান খুলনার জেলার মো. জান্নাত উল ফরহাদ।

তিনি বলেন, 'জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ আগস্ট থেকে তিনি জেলা কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।'

খুলনা জেলার রূপসা থানায় দায়ের হওয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। রূপসা থানার মামলা নং-১০ (৬) ১৯ জিআর -১৮৮/১৯।

উক্ত ব্যক্তির মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র