Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা : পলাতক আসামির ফাঁসির আদেশ

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যা : পলাতক আসামির ফাঁসির আদেশ
সেন্ট্রাল ডেস্ক ২


  • Font increase
  • Font Decrease
শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামকে হত্যার দায়ে তার এক সময়ের কথিত বন্ধু পলাতক আসামি মোস্তাফিজুর রহমানকে ফাঁসির দণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। টাঙ্গাইলের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার রোববার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার হিজলহাটি মৃধাপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে আমিনুল বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির (বিসিডব্লিউএস) সংগঠক এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। দণ্ডিত মোস্তাফিজুর রহমান মাগুরা জেলার কাদিরপাড়া (পূর্বপাড়া) এলাকার সমসের কারিগরের ছেলে। তিনি মামলার শুরু থেকেই পলাতক বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সাভারের বাইপাইল থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানা পুলিশ ব্রাহ্মণশাসন এলাকায় টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশ থেকে তার লাশ থেকে উদ্ধার করে। কিন্তু তখন পরিচয় না জানায় এবং ‘কোনো দাবিদার না থাকায়’ ঘাটাইল থানা পুলিশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হিসেবে লাশটি দাফন করে। পরে পত্রিকায় ছাপা হওয়া লাশের ছবি দেখে পরিবারের সদস্যরা আমিনুলকে শনাক্ত করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে লাশ তুলে গাজীপুরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয় আমিনুলকে। এক সময় ডিইপিজেডের নতুন জোনের শাশা ডেনিম টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে কাজ করলেও ২০০৬ সালে চাকরি ছেড়ে তিনি শ্রমিক সংগঠনের কাজে পুরো সময় দিতে শুরু করেন। দণ্ডিত আসামি মোস্তাফিজকে মানুষ তার বন্ধু হিসেবেই চিনত। ওই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন মানবাধিকার ও শ্রমিক সংগঠন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। আমিনুলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ফাহিমাও সে সময় বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায় করতে গিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন গার্মেন্ট কারখানার মালিকদের ‘শত্রু’ হয়েছিলেন তার স্বামী। এ কারণে মালিকরা ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে’ তাকে হত্যা করিয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সে সময় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন তোলে। ঢাকা সফরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের তখনকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, আমিনুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে বিদেশি ক্রেতারা ‘ভুল সঙ্কেত’ পাবে। আমিনুলের লাশ উদ্ধারের পর ঘাটাইল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। পরে আমিনুলের ভাই রফিকুল ইসলাম ঘাটাইল থানায় আরেকটি এজাহার দেন; সেখানে মোস্তাফিজুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা বোরকা পরা অজ্ঞাতনামা এক নারীকে আসামি করা হয়। ওই এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আশুলিয়ায় আমিনুলের সংগঠনের কার্যালয়ে যান মোস্তাফিজুর। সঙ্গে ছিলেন ওই নারী। তারা আমিনুলকে ডেকে নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এজাহারটি পুলিশের করা হত্যা মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। প্রথমে ঘাটাইল থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় যায়। ২০১২ সালের নভেম্বরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকার সিআইডি। এক বছর তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ফজলুল কবীর টাঙ্গাইল জেলা আদালতে মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এ মামলার বিচার চলার মধ্যেই বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন (বিজিআইডাব্লিউএফ) ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি (বিসিডাব্লিউএস) নতুন করে তদন্ত করার দাবি জানায়। তাদের বক্তব্য ছিল, কেবল মোস্তাফিজকে আসামি করে এ হত্যার পেছনের ‘আসল ব্যক্তিদের’ আড়াল করা হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপের মধ্যে সরকার সে সময় আসামি মোস্তাফিজুর রহমানের সন্ধান চেয়ে এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করে। কিন্তু তাকে আর পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি করেন আইনজীবি মুলতান উদ্দিন আহমেদ। আর পলাতক মোস্তাফিজের পক্ষে মামলা লড়েন রাষ্ট্র-নিযুক্ত আইনজীবী গোলাম মোস্তফা। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুলতান উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন।”
আপনার মতামত লিখুন :

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা

বৃষ্টি কমেছে, বেড়েছে তাপমাত্রা
ছবি: শাদরুল আবেদীন

বাংলাদেশের উপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অনেকটাই কমেছে। এটি এখন উত্তর বঙ্গোপসাগরে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারাদেশে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে উন্নতি ঘটছে।

মাঝে মাঝে অবশ্য আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে দেশের দু-এক জায়গা ছাড়া তেমন কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

গরমে জনজীবন কিছুটা অতিষ্ঠ হলেও বন্যায় কবলিত পানিবন্দিদের মাঝে স্বস্তি ফিরবে। তারা নিজ ভিটায় ফিরে যেতে পারবেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নিজেদের আবারও গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষদের আর্তনাদ থেকেই যাবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389450967.jpg

আবহাওয়া অফিস বলছে, 'মৌসুমী বায়ু অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। এতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা কমে গেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে তাপমাত্রা। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩২ থেকে ৩৩ ডিগ্রি ছিল তবে এখন তা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে।'

বুধবার ১৭ জুলাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় মংলায় ৩৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় কুমারখালীতে ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকালে রাজধানীতে আকাশ মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের প্রখরতাও বাড়তে থাকে। এতে গরমের তীব্রতাও বাড়ে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563389436185.jpg

রোদ থেকে বাঁচতে অনেকেই ছাতা ব্যবহার করেছেন। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'গতকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব কমেছে। তাপমাত্রা বেড়েছে তিন থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় তিন থেকে চারদিন পর আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আরও এক থেকে দেড় মাস এভাবেই চলবে।'

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, রাজশাহী সাতক্ষীরা চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের উপর দিয়ে বেড়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া

জালিয়াতি চক্রকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিপ্লব বড়ুয়া
ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও তার নামে ভুয়া চিঠিপত্র।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার ভুয়া সিল-প্যাড ব্যবহার করে জা‌লিয়া‌তি কর‌েছে এক‌টি প্রতারক চক্র।

এ ভুয়া চক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বুধবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নং: ৯৮১।

জিডিতে তিনি জানান, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমার সিল-প্যাড ব্যবহার করে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বরাবর কোন ধরনের পত্র, সুপারিশ বা নির্দেশনা প্রদান করি নাই। অথচ একটি জালিয়াতচক্র আমার নামে ভুয়া চিঠিপত্র বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করেছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য  জালিয়াতচক্র কর্তৃক এ ধরনের মারাত্মক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563387562162.jpg

আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতচক্র সম্পর্কে সকলকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্যাডে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর নকল করে গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়। যেটি একটি জাল চিঠি ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র