Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রংপুরে চালু হল ডিজিটাল ই-ট্রাফিক সেবা

রংপুরে চালু হল ডিজিটাল ই-ট্রাফিক সেবা
রংপুরে চালু হল ডিজিটাল ই-ট্রাফিক সেবা। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল ও মটর যান চালকদের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে রংপুরে চালু হয়েছে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর মেডিকেল মোড় এলাকায় বেলুন উড়িয়ে ডিজিটাল এই সেবার উদ্বোধন করেন মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ ও বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।

এরআগে রংপুর মহানগরে নতুন এই সেবার বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ জানান, দূর-দূরান্তে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করবে এই সেবা। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক মামলাসহ জরিমানার টাকা আদায় করতে পারবে পুলিশ। এক্ষেত্রে চালকরাও অতি সহজে ইউ-ক্যাশ সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করতে পারবে।

তিনি জানান, আরপিএমপি যাত্রার ২৫ দিনের মাথায় রংপুরে এই সেবা চালু করা হল। এতে করে সাধারণ মানুষের শ্রমশক্তির অপচয় রোধ, ট্রাফিক আইনের মামলায় হয়রানি ও দুর্ভোগ কমে আসবে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বা অফিস-আদালত ঘুরে ভোগান্তিতে পরতে হবে না। রংপুরের ১১টি পয়েন্টে ও বুথে ই-ট্রাফিক সেবা নিতে পারবে ভুক্তভোগীরা।

অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, ই-ট্রাফিক সেবা চালু হওয়ার ফলে রংপুরে ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন চলাচলে আরও বেশি শৃঙ্খলা আসবে। ট্রাফিক পুলিশ তাদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছভাবে পালন করতে পারবে। পাশাপাশি চালকরাও বৈধ কাগজ-পত্র নিয়ে চলাচলে বাধ্য হবে। এতে সড়ক দুর্ঘটার হার অনেক কমে আসবে। এসময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রংপুর বিভাগের আট জেলাতে ই-ট্রাফিক কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান।

উদ্বোধনী আয়োজনে আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (হেড কোয়ার্টার্স) মহিদুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মোত্তাকিন মিনান, অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওছার, সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ইমরুল কায়েস, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) দেলোয়ার হোসেনসহ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

খাদ্যে ভেজাল রোধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি

খাদ্যে ভেজাল রোধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

পাস্তুরিত ও খোলা দুধ এবং খাদ্যে ভেজালকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। এ বিষয়ে মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকর করতে হবে। তাহলেই খাদ্যে ভেজাল দেওয়া বন্ধ হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে এ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এমন মত দেন বক্তারা।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ‘খাদ্যে ভেজাল, নকল ওষুধ প্রস্তুত ও আমাদের দায়’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে চ্যারিটি মানবকল্যাণ সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, 'সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে প্রফেসর আ ব ম ফারুক, তিনি যে ঝুঁকিটা নিলেন, এরপর এই পাস্তুরিত দুধের কারবারিরা বললো- এগুলো (গবেষণা) ঠিক না। পরে রিসার্চে দেখা গেলো- ১৮টি পণ্যের মধ্যে ১১টিতে অতিরিক্ত লেড পাওয়া গেছে। তাহলে কী হলো? ওই ভদ্রলোককে তো হুমকি দেওয়া হয়েছিল।’

‘বিএসটিআইয়ের যে কর্মকর্তা আ ব ম ফারুকের রিসার্চকে কটাক্ষ করেছিলেন তাকে শাস্তি দেওয়া উচিৎ। একই সাথে পাস্তুরিত দুধের কোম্পানিগুলো এবং যারা খাদ্যে টেক্সটাইলের রং ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ভেজালের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন আছে, তাহলে সেটা কার্যকর করা হোক। আমি আরও একটু বাড়িয়ে বলব- সেই মৃত্যুদণ্ড প্রকাশ্যে দেওয়া হোক।'

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ ইনস্টিটিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পরমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআর’বি ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। সে পরীক্ষায় বিএসটিআই অনুমোদিত ১৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি পাস্তুরিত দুধে সিসা পাওয়া গেছে। কোম্পানিগুলো হল- মিল্কভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্মফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, আয়রন, পিউরা ও সেইফ মিল্ক।

‘১৮ কোটি মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। খাদ্যে ভেজাল ও নকল ওষুধ প্রস্তুতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।’

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাজেদা হক বলেন, এক সময় এসিড মারা হতো, কিন্তু তখন কঠোরভাবে শাস্তি প্রয়োগ করায় তা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। তেমনি খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তবেই ভেজাল রোধ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম নুরুদ্দিন খান, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

তানোরে মিটার না দেখে ঘরে বসে বিল তৈরি করে রিডাররা!

তানোরে মিটার না দেখে ঘরে বসে বিল তৈরি করে রিডাররা!
তানোরে নেসকো কার্যালয়

 

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় বিদ্যুতের বিল প্রস্তুতকারীরা (মিটার রিডার) মিটার না দেখে নিজের বাড়িতে বসে বিল তৈরি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিটার রিডারদের ফাঁকিবাজির কারণে ভৌতিক বিল গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের। মাসের পর মাস গ্রাহকেরা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

গ্রাহকদের কাছে সরবরাহকৃত বিলের সঙ্গে মিটার ওঠা ইউনিটের সামঞ্জস্যতা না থাকায় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) বারবার অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিল চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে তানোরের নেসকো কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভৌতিক বিল আসায় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ভিড় করে আছেন। তারা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সুরাহা না পেয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে লিপ্ত হচ্ছেন। প্রায় প্রত্যেকের হাতে বাড়তি বিলের কপি।

পৌর শহরের চাপড়াবাজার এলাকার মোসলেম উদ্দীন নামে এক গ্রাহক জানান, জুন মাসে যে বিলের কপি তিনি পেয়েছেন তাতে তার বাড়ির মিটারের ওঠা ইউনিটের চেয়ে ১০৫ ইউনিট বেশি লেখা হয়েছে। তাঁদের এলাকায় বিল প্রস্তুতকারী পারভেজ গ্রাহকদের বাসায় যান না। নিজ বাসায় বসেই আগের কয়েক মাসের বিলের গড় দেখে বিল তৈরি করে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

থানা সদরের গ্রাহক ও থানা মোড় বণিক সমিতির সভাপতি হামিদুর চৌধুরী বলেন, আমার বাড়িতে কেউ মিটার রিড করতে যায় না। মাস শেষে যে বিলের কাগজ সরবরাহ করা হয়, তাতে প্রায়ই অসমঞ্জস্যতা দেখি। তবে এবার তা বেশি দেখা গেছে। ১১৬ ইউনিট বেশি লেখা হয়েছে। বিল প্রস্তুতকারী শান্টু মিটারের কাছে না এসে বাসায় বসে সেই পুরোনো মিটারের গড় বিল ইউনিট করেই বিল তৈরি করে বলে শুনেছি।

নেসকো সূত্র জানায়, তানোর উপজেলার আবাসিক ও অনাবাসিক গ্রাহকের মিটারে ব্যবহৃত বিল বিতরণের জন্য দৈনিক ভাতার ভিত্তিতে ৬ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব প্রত্যেকটি মিটারের কাছে গিয়ে ইউনিট হিসেব করে বিল তৈরি করা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই জন মিটার রিডার বলেন, প্রত্যেক মাসে এক হাজার মিটার থেকে তাদের রিডিং নেওয়ার কথা। সেইগুলোর বিল তৈরি তাদের দায়িত্ব। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে তাদেরকে অতিরিক্ত মিটার রিডিংয়ের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে ঘরে বসে বিগত কয়েক মাসের গড় দেখে বিল তৈরি করে থাকেন।

জানতে চাইলে তানোর নেসকো কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী আবু সাঈদ হেলালী অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব গ্রাহক বাড়তি বিল জমা দিয়েছেন সেগুলো ফেরত দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে পরবর্তী মাস থেকে বিল কমিয়ে বা বাড়িয়ে প্রকৃত মিটার ইউনিট সমন্বয় করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র