Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (শেষ পর্ব)
বিশ্বকাপটা মনে রাখার মতো হলো না বাংলাদেশের
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে, আজ শেষ পর্ব-

ব্যয়বহুল বোলিং:

৮ ম্যাচে বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যয় ২৪৯৫ রান। প্রতি ম্যাচে হিসেবটা দাড়াচ্ছে ৩১১ রানের কিছু বেশি। এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই বলা হচ্ছিলো এটি হবে বড়ো স্কোরের বিশ্বকাপ। এখানে তিনশ রান উঠবে। আবার সেই রান তাড়া করে জেতাও যাবে। তবে তিনশ প্লাস রান দেয়ার ক্ষেত্রে যে বাংলাদেশ বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে সেটা কে ভেবেছিলো?

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ৮ ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিংই সবচেয়ে বেশি খরুচে। তিনশ’ প্লাস রান খরচা দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ শুরু (ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ৩০৯)। আবার ঠিক একই কায়দায় তিনশ রানের ব্যয়ে বিশ্বকাপ শেষও (লর্ডসে পকিস্তান, ৩১৫)।
৮ ম্যাচের ছটিতেই বাংলাদেশ তিনশর বেশি রান খরচ করেছে। আফগানিস্তান ছাড়া আর কোনো প্রতিপক্ষকে বাংলাদেশ ম্যাচে অলআউট করতে পারেনি। এই পরিসংখ্যানই জানাচ্ছে বোলিংয়ে বিশ্বকাপটা মোটেও ভালো কাটেনি বাংলাদেশের।

অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাখাও মিললো সেই সত্যতা-‘আমি মনে করি বোলিং আমাদের আপ টু দ্য মার্ক ছিলো না। আমার থেকে শুরু করে বাকিদেরও। বিশেষ করে প্রথম ১০-১৫ বা ২০ ওভার পর্যন্ত আমাদের বোলিং ভালো হয়নি। সেই সময়ে আমাদের অবশ্যই উইকেট পেতে হতো।’

পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশের বোলিং তেমন ‘পাওয়ার’ দেখাতে পারেনি। মাত্র একটি ম্যাচে শুরুর দশ ওভারে বাংলাদেশ দুটি উইকেট পায়। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে শুরুর বোলিং ভালো হলেও শেষের বোলিংয়ে ম্যাচের হিসেব মেলাতে পারলো না বাংলাদেশ!
এই বোলিং নিয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা যায়। একটা-দুটো ম্যাচে লড়াই করা যায়। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া যায় না-এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের বোলিংয়ের ফুটনোট এটাই!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/07/1562503676985.JPG

মাশরাফির ম্রিয়মান পারফরমেন্স:

বোলিংয়ে বাজে সময় নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা বোলার মাশরাফির আর সুসময় এলোই না! ৮ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১টি উইকেট! লম্বা ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পারফরমেন্সে এতো বাজে সময় কাটেনি মাশরাফির।

ছন্দ ফিরে পেলে ম্যাচে মানিয়ে নেয়াটা মাশরাফির জন্য নেহাতই সময়ের ব্যাপার। কিন্তু পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে সেই ছন্দের দেখাই যে পেলেন না অধিনায়ক। অনুশীলনে চেষ্টা করেছেন বেশ। ম্যাচের আগের দিন লম্বা সময় নেটে কাটিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বিস্তর গবেষণাও চলেছে। বোলিং কোচ কোটর্নি ওয়ালসের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজের ফর্ম এবং পারফরমেন্সের শুরুর সঙ্কট শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাশরাফি।

অধিনায়কের পারফরমেন্স ক্রিকেট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে বোলার মাশরাফি ছিলেন প্রভাবহীন। শুরুতে বোলিং করেন। আবার মাঝ থেকেও শুরু করেন। কোনো সময় শেষের দিকেও বল হাতে আক্রমণে নামেন। কিন্তু কোনোকিছুতেই সাফল্যের দেখা যে পেলেন না বোলার মাশরাফি। টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে কোনো উইকেট না পেলেও ৮ ওভারে ১ মেডেনসহ তার ৩৭ রানকে ‘ভালো’ পারফরমেন্স মানতেই হচ্ছে।

৮ ম্যাচে সবমিলিয়ে ৫৬ ওভার বল করেন মাশরাফি। রান খরচ ৩৬১। শিকার ১ উইকেট। তাও আবার সাত ম্যাচে নিজের বোলিং কোটা শেষ না করা- দলের স্ট্রাইক বোলারের জন্য এটা ভয়াবহ দুঃস্বপ্নের মতোই। অধিনায়ক হিসেবে তিন ম্যাচ জিতেছেন। কিন্তু বোলার হিসেবে এই বিশ্বকাপ মাশরাফিকে যা দিলো তার নাম-দুঃস্বপ্ন!

এবং ফিটনেস সমস্যা:

বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সময়ই শঙ্কটা জেগেছিলো-১৫ জনের দলে ইনজুরির সংখ্যাই যে বেশি! বিশেষ করে পেস বোলিং বিভাগের প্রায় সবাই চোটে ছিলেন। রুবেল হোসেনের সাইড স্ট্রেইন। সাইফুদ্দিনের পিঠে ব্যথা। গোড়ালিতে চোট ছিলো মুস্তাফিজের। আবু জায়েদ রাহীও ইনজুরিতে ছিলেন। সামান্য চোট ছিলো মাশরাফিরও। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইনজুরি তালিকায় ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কাঁধে এমন চোট যে জোরে থ্রো করতেও সমস্যা হয় তার। বোলিং করা যাবে না-শুধু ব্যাটিং, এমন শর্ত মেনেই তিনি ফিটনেস পান!

বিশ্বকাপের মাঠে এসেও ইনজুরি এবং চোট নিয়ে সমস্যায় পড়ে বাংলাদেশ। ট্রেন্টব্রিজ ম্যাচের আগে সাইফুদ্দিন ও মোসাদ্দেক জানান- খেলার মতো ফিটনেস নেই তাদের। আফগানিস্তান ম্যাচেও চোট নিয়ে খেলায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনজুরির মাত্রা আরো বাড়ে। বার্মিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মিস করেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ দলের নড়াচড়ায় ক্ষিপ্রতার অভাবেই স্পষ্ট ফিটনেস সঙ্কট!

আরো পড়ুন-

 

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)

 

আপনার মতামত লিখুন :

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম
সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ও তামিম ইকবাল

নতুন মিশনে এখন শ্রীলঙ্কায় তামিম ইকবালের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে নেতৃত্ব পেয়েছেন তিনি। যদিও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাচ্ছেন না দলের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানকে। তারপরও ছন্দ ধরে রাখতে প্রস্তুত তামিম। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই শোনালেন টাইগারদের এই অধিনায়ক।

এই সফরটা নানা কারণে আলোচিত। কারণ গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর অনেকটাই স্থবির হয়ে ছিল দেশটি। ঠিক এমন সময়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক দল হিসেবে সফরে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অবশ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই তামিমদের। দুই দিনেই শ্রীলঙ্কার আতিথেয়তায় খুশি দলের ক্রিকেটাররা।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব প্রসঙ্গটাও এসেছে। কারণ সদ্য শেষ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। ছয়শর বেশি রান ও ১১ উইকেটে বিশ্বকাপের সেরা তারকার একজন। তাকে পাচ্ছেন না তামিম। ছুটিতে রয়েছেন সাকিব।

এই প্রসঙ্গে সোমবার তামিম ইকবাল বলছিলেন, ‘এই সিরিজের দলে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই যোগ্য। যারা এই টিমে নেই আমি আসলে তাদের নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সবাই জানে সাকিব স্পেশাল। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ খেলে এসেছে ও। কিন্তু এই সফরে নেই। তাই তার বিষয়ে আমরা কথা না বলি। প্রথম ওয়ানডেতে যে ১১ জন খেলার সুযোগ পাবে, আমি নিশ্চিত তারা সুযোগটা কাজে লাগাবে।’

নিরাপত্তা ইস্যুটাও এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। কড়া নিরাপত্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কারণটাও সংগত। গত এপ্রিলেই দেশটিতে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আড়াইশর বেশি মানুষ। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পেয়ে তামিম জানাচ্ছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে। এখানকার নিরাপত্তা অসাধারণ। দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমাদের ক্রিকেট বোর্ড আর দেশের মানুষ সবাই এ সফর নিয়ে ইতিবাচক ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমরাও পড়েছিলাম। তখন শ্রীলঙ্কা আমাদের সহায়তা করেছিল। দেখুন, আমরা একটা পরিবারের মতো। এমন ঘটনার পর একে অপরের সহায়তা করা খুব দরকার। এখানে আমরা এখন ক্রিকেট ছাড়া কিছু ভাবছি না।’

দল কেমন করবে শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে। লক্ষ্যটাই বা কি তামিম ইকবালের? এমন প্রশ্নে টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ আমাদের জন্য। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নেই দলে। তবে যারা আছে তাদের সামর্থ্য রয়েছে। এটা জানি শ্রীলঙ্কার মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো করা কঠিন। তবে এখানে সব সিরিজে ভালো করেছিলাম। আশা করি সেই ছন্দটা ধরে নিতে পারব আমরা।’

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই স্বাগতিকদের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১ আগষ্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শহিদুল

ক্যাপ্টেন কে থিমাপ্পাইয়া সর্বভারতীয় স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দারুণ একটা দিন কাটাল বিসিবি একাদশ। বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন সফরকারী দলের বোলাররা। তিন পেসার শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক ও ইবাদত হোসেনের দাপটে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ।

এরপর জবাবে নেমে সাদমান ইসলামের ফিফটিতে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। চারদিনের ম্যাচে এরইমধ্যে ৫৬ রানের লিড নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সোমবার দিন শেষে জহুরুল ইসলাম ২৮ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দাপট দেখালেন বোলাররা। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ম্যাচটিতে দেখা যায়নি তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে। তবে তাদের অভাবটা বুঝতে দেননি শহিদুল, ইবাদত ও আরিফুল।

ম্যাচে টস ভাগ্যটাও ছিল বিসিবি একাদশের পক্ষে। বোলাররা আস্থার প্রতিদান নিয়ে প্রতিপক্ষের দলীয় ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৪ উইকেট। দলীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান তুলেন কেএস দেবাইয়া। ২০ রানে ৫ উইকেট নেন শহিদুল। ২২ রানে ৩ উইকেট আরিফুলের। ইবাদত শিকার করেন ৩৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য বিসিবি একাদশ শুরুতেই হারায় সাইফ হাসানকে। অধিনায়ক মুমিনুলও (১০) তেমন কিছুই করতে পারেন নি। তবে এরপরই তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান ও জহুরুল। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৯৩ বলে ৫৯ রান করেন সাদমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ৭৯/১০ (অর্জুন ১২, রোহান ১, শিভম ০, নাগা ২, অভিনব ১২, প্রভিন ১৬, বিনয় ৭, কার্তিক ০, দেবাইয়া ১৮, আনন্দ ৮, বিদওয়াথ ১*; শহিদুল ৫/২০, ইবাদত ২/৩৬, আরিফুল ৩/২২)
বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৫/৩ (সাইফ ৩, সাদমান ৫৯, মুমিনুল ১০, জহুরুল ২৮*, শান্ত ২৭*; দেবাইয়া ১/৩১, বিদওয়াথ ১/৪৫, আনন্দ ১/১৫)

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র