Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-২)
হতাশাতেই মিশন শেষ টাইগারদের
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
লন্ডন
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৩ জয়। ৫ হার। বৃষ্টিতে বাতিল একটি ম্যাচ। বিশ্বকাপের দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে। র‌্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল হিসেবেই খেলতে এসেছিল বাংলাদেশ। ফিরে গেলো সেই একই অবস্থানে থেকে। অনেক সম্ভাবনা নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করা বাংলাদেশ ফিরছে সেমিফাইনালের আগে। মাঠের ক্রিকেটে ভাল-মন্দ দুই সময়ই দেখেছে বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে। ভুলও করেছে বেশ। সেই ভুলের খোঁজ এই ধারাবাহিক রিপোর্টে-

ভুল একাদশ:

সতেজ বাতাস। বৃষ্টি স্নাত মাঠ। দুদিনের ঢাকা উইকেট। সুইং। সব অনুষঙ্গ প্রমাণ দিচ্ছে-কার্ডিফের উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবেন। সেই উইকেটে বাংলাদেশ টসে জিতে আগে বোলিংয়ের সুযোগটা নিলো। কিন্তু তিন পেসার ও তিন স্পিনারের আগের ম্যাচের একাদশ নিয়েই কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও নামলো বাংলাদেশ।

এমন উইকেটে বোলিং করতে না পারার দুঃখ নিয়েই রুবেল হোসেন আরেকটি ম্যাচে শুধু বসে কাটালেন। রুবেল হোসেন খেলতে নামলেই যে বাংলাদেশকে জিতিয়ে আনতেন, সেই নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং মাঠের আনুষাঙ্গিকতা জানাচ্ছে ইংল্যান্ড ম্যাচে একজন পেসার কম নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ।

কার্ডিফের এই ম্যাচে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলিংকে নিয়ে স্রেফ খেললো ইংল্যান্ড! দুই ইংলিশ ওপেনারের জুটিতেই জমা হলো ১২৮ রান।

অথচ এই ম্যাচেই ইংল্যান্ড তাদের মুল স্পিনার মঈন আলীকে বসিয়ে রেখে একাদশে নিয়ে এলো বাড়তি পেসার হিসেবে লিয়াম প্লাঙ্কেটকে। কার্ডিফের বৃষ্টিতে ভেজা উইকেটে পাঁচ পেসার খেলিয়ে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিলো ইংল্যান্ড মাত্র ২৮০ রানে। বাংলাদেশের ১০ উইকেটের ৯টি উইকেটই তুলে নিলেন ইংল্যান্ড পেসাররা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562427973382.jpeg

বামিংহ্যামের এজবাস্টনেও মাঠের আকৃতি নিয়ে ম্যাচের আগে অনেক চর্চা চলে বাংলাদেশ দলে। মাঠের একপাশ ছোট-এটা জেনে একাদশ থেকে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজকে বাদ দেয়া হলো! অথচ পুরো বিশ্বকাপে মিরাজ তার ১০ ওভারের বোলিংয়ে রান আটকে রাখার জন্য দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করছিলেন। ভারত ম্যাচে মিরাজকে বাদ দেয়া হলেও সেই ম্যাচে স্পিনার সাকিব রানের খরচ হলো মাত্র ৪১। দলের সবচেয়ে ইকোনোমি বোলার তিনিই।

নিশ্চিতভাবে এই ম্যাচে মিরাজের অফস্পিন মিস করে বাংলাদেশ।

শুরুর সংকট:

ভালো শুরু যে কোনো দলকে এগিয়ে দেয়। কিন্তু এই বিশ্বকাপে তামিম- সৌম্যের ওপেনিং জুটির সর্বোচ্চ রান ৬০। বাকি ম্যাচগুলোতে কখনো সৌম্য আগে, কখনো তামিম ফিরেছেন আগেভাগে। ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রায় সব ম্যাচেই ওয়ানডাউন পজিশনে সাকিবকে নামতে হয়েছে প্রথম পাওয়ার প্লে’তে।

অন্যদিকে যে চার দল সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে, তাদের ওপেনাররা দলের সেরা পারফর্মার। রোহিত শর্মা ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন। ইংল্যান্ডের ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩টি। ডেভিড ওয়ার্নারের এই বিশ্বকাপে রান পাঁচ শ’র উপরে।

বাংলাদেশের ওপেনাররা দক্ষিণ আফ্রিকার যে ম্যাচে ৬০ রানের জুটি গড়েন, সেই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতে। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে দলের ওপেনাররা উইকেটে সেট হওয়ার পর আউটের বাজে নজির গড়েন। তামিম ইকবাল এই ভুলে পড়েন পুরো বিশ্বকাপেই!

যখনই তার ইনিংস বড় করার কথা, তখনই আউট! তামিম শুধুমাত্র একটি হাফসেঞ্চুরি পান এই বিশ্বকাপে। আর সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে করলেন মাত্র ১৬৪ রান। ম্যাচ প্রতি রান গড় ২০.৫! শুরুর ব্যাটিংয়ের এই সঙ্কট শেষ ম্যাচ পর্যন্ত এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/06/1562427996777.jpg

ফিল্ডিংয়ে পিচ্ছিল হাত:

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ দিক কোনটা?

শেষ ম্যাচে এই প্রশ্নের উত্তরে অধিনায়ক মাশরাফির স্পষ্ঠ উচ্চারণ-‘বোলিং এবং ফিল্ডিং ছিলো আমাদের নেভেটিভ দিক। এই বোলিং এবং বাজে ফিল্ডিং-ই বিশ্বমানের দলগুলোর সঙ্গে আমাদের পার্থক্য বুঝিয়ে দিচ্ছে। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো ফাইট দিয়েছি। কিন্তু বোলিং আমাদের আপ টু দ্য মার্ক ছিলো না।’

৮ ম্যাচে সহজ-কঠিন সবমিলিয়ে বাংলাদেশ আটটি ক্যাচ মিস করেছে। ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস হয়েছে ট্রেন্টব্রিজে। সেই ম্যাচ ওয়ার্নার শেষ করেন ১৪৪ রানে। রোহিত শর্মার ক্যাচ পড়েছে এজবাস্টনে। সেই ম্যাচে রোহিত শেষ পর্যন্ত করেন ১০৪ রান। লর্ডসে ৫৭ রানে ক্যাচ পড়ে বাবর আজমের। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সেই ম্যাচে করলেন ৯৬ রান! শুধু ক্যাচ মিসই নয়। গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও কখনো কখনো হাস্যকর হয়েছে বাংলাদেশ দলের। নিশ্চিত রান আউট মিস হয়েছে। ম্যাচ জিততে হলে হাফ চান্সকে ফুল চান্স করতে হয়। বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে ফুল চান্সকেই জিরো চান্স করেছে!

আরো পড়ুন-

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যতো ভুল (পর্ব-১)

আপনার মতামত লিখুন :

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম
সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ও তামিম ইকবাল

নতুন মিশনে এখন শ্রীলঙ্কায় তামিম ইকবালের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে নেতৃত্ব পেয়েছেন তিনি। যদিও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাচ্ছেন না দলের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানকে। তারপরও ছন্দ ধরে রাখতে প্রস্তুত তামিম। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই শোনালেন টাইগারদের এই অধিনায়ক।

এই সফরটা নানা কারণে আলোচিত। কারণ গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর অনেকটাই স্থবির হয়ে ছিল দেশটি। ঠিক এমন সময়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক দল হিসেবে সফরে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অবশ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই তামিমদের। দুই দিনেই শ্রীলঙ্কার আতিথেয়তায় খুশি দলের ক্রিকেটাররা।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব প্রসঙ্গটাও এসেছে। কারণ সদ্য শেষ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। ছয়শর বেশি রান ও ১১ উইকেটে বিশ্বকাপের সেরা তারকার একজন। তাকে পাচ্ছেন না তামিম। ছুটিতে রয়েছেন সাকিব।

এই প্রসঙ্গে সোমবার তামিম ইকবাল বলছিলেন, ‘এই সিরিজের দলে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই যোগ্য। যারা এই টিমে নেই আমি আসলে তাদের নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সবাই জানে সাকিব স্পেশাল। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ খেলে এসেছে ও। কিন্তু এই সফরে নেই। তাই তার বিষয়ে আমরা কথা না বলি। প্রথম ওয়ানডেতে যে ১১ জন খেলার সুযোগ পাবে, আমি নিশ্চিত তারা সুযোগটা কাজে লাগাবে।’

নিরাপত্তা ইস্যুটাও এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। কড়া নিরাপত্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কারণটাও সংগত। গত এপ্রিলেই দেশটিতে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আড়াইশর বেশি মানুষ। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পেয়ে তামিম জানাচ্ছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে। এখানকার নিরাপত্তা অসাধারণ। দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমাদের ক্রিকেট বোর্ড আর দেশের মানুষ সবাই এ সফর নিয়ে ইতিবাচক ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমরাও পড়েছিলাম। তখন শ্রীলঙ্কা আমাদের সহায়তা করেছিল। দেখুন, আমরা একটা পরিবারের মতো। এমন ঘটনার পর একে অপরের সহায়তা করা খুব দরকার। এখানে আমরা এখন ক্রিকেট ছাড়া কিছু ভাবছি না।’

দল কেমন করবে শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে। লক্ষ্যটাই বা কি তামিম ইকবালের? এমন প্রশ্নে টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ আমাদের জন্য। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নেই দলে। তবে যারা আছে তাদের সামর্থ্য রয়েছে। এটা জানি শ্রীলঙ্কার মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো করা কঠিন। তবে এখানে সব সিরিজে ভালো করেছিলাম। আশা করি সেই ছন্দটা ধরে নিতে পারব আমরা।’

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই স্বাগতিকদের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১ আগষ্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শহিদুল

ক্যাপ্টেন কে থিমাপ্পাইয়া সর্বভারতীয় স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দারুণ একটা দিন কাটাল বিসিবি একাদশ। বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন সফরকারী দলের বোলাররা। তিন পেসার শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক ও ইবাদত হোসেনের দাপটে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ।

এরপর জবাবে নেমে সাদমান ইসলামের ফিফটিতে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। চারদিনের ম্যাচে এরইমধ্যে ৫৬ রানের লিড নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সোমবার দিন শেষে জহুরুল ইসলাম ২৮ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দাপট দেখালেন বোলাররা। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ম্যাচটিতে দেখা যায়নি তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে। তবে তাদের অভাবটা বুঝতে দেননি শহিদুল, ইবাদত ও আরিফুল।

ম্যাচে টস ভাগ্যটাও ছিল বিসিবি একাদশের পক্ষে। বোলাররা আস্থার প্রতিদান নিয়ে প্রতিপক্ষের দলীয় ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৪ উইকেট। দলীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান তুলেন কেএস দেবাইয়া। ২০ রানে ৫ উইকেট নেন শহিদুল। ২২ রানে ৩ উইকেট আরিফুলের। ইবাদত শিকার করেন ৩৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য বিসিবি একাদশ শুরুতেই হারায় সাইফ হাসানকে। অধিনায়ক মুমিনুলও (১০) তেমন কিছুই করতে পারেন নি। তবে এরপরই তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান ও জহুরুল। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৯৩ বলে ৫৯ রান করেন সাদমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ৭৯/১০ (অর্জুন ১২, রোহান ১, শিভম ০, নাগা ২, অভিনব ১২, প্রভিন ১৬, বিনয় ৭, কার্তিক ০, দেবাইয়া ১৮, আনন্দ ৮, বিদওয়াথ ১*; শহিদুল ৫/২০, ইবাদত ২/৩৬, আরিফুল ৩/২২)
বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৫/৩ (সাইফ ৩, সাদমান ৫৯, মুমিনুল ১০, জহুরুল ২৮*, শান্ত ২৭*; দেবাইয়া ১/৩১, বিদওয়াথ ১/৪৫, আনন্দ ১/১৫)

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র