Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জেতা সম্ভব, আমরা জিতবো-ভারত ম্যাচ নিয়ে সৌম্য

জেতা সম্ভব, আমরা জিতবো-ভারত ম্যাচ নিয়ে সৌম্য
ভারতের বিপক্ষে জয়ে চোখ রেখেই নামবেন সৌম্য সরকার
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
বার্মিংহ্যাম
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিপক্ষ ভারত। ভেন্যু বার্মিংহ্যাম। এই দুই যোগ করলে সৌম্য সরকারের একটু দুঃশ্চিন্তায় পড়ারই কথা।

সর্বশেষ এই ভেন্যুতে ভারতের বিপক্ষে তিনি শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন। তবে ২০১৭ সালের ১৫ জুনের সেই দুঃস্মৃতিকে ২০১৯ এর ২ জুলাই সুখস্মৃতি বানিয়ে ফিরতে চান বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে থাকার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের সামনে আপাতত দুটো আবশ্যিক শর্ত হলো-গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচে জয়। সেই লড়াইয়ে ২ জুলাই ভারত এবং ৫ জুলাই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

পাকিস্তান ম্যাচ পরে। তাই আপাতত ২ জুলাই ভারত ম্যাচ নিয়েই এখন সব পরিকল্পনা এবং ভাবনা বাংলাদেশ দলের। সেই পরিকল্পনার অংশবিশেষ বৃহস্পতিবার বার্মিংহ্যামে হায়াত রিজেন্সি টিম হোটেলের সামনে দাড়িয়ে বাংলাদেশ মিডিয়ার সঙ্গে ভাগাভাগি করলেন সৌম্য সরকার।
 
ভারত বিশ্বকাপে এসেছে হট ফেভারিট হিসেবে। আর বাংলাদেশের নামের পাশে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকে লেখা হচ্ছিলো- নেহাত অংশগ্রহণকারি আরেকটি দল হিসেবেই! তবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ থেকেই বাংলাদেশ সেই হিসেবও বদলে দিয়েছে। এই বিশ্বকাপের বিপদজনক এবং চমকপ্রদ দল এখন বাংলাদেশ। যারা অনায়াস কায়দায় ৩২১ রান তাড়া করে ম্যাচ জিততে পারে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার দাবি নিয়ে সামনে বাড়া দলের নাম।

আর তাই ২ জুলাইয়ের ম্যাচ শুরুর আগে যারা ভারতের এগিয়ে থাকা গলা ফাটাচ্ছেন তাদের জন্য সৌম্য সরকারের সহজ পরামর্শ- ‘ভারত আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে, এমন চিন্তা নিয়ে মাঠে নামলো তো আমরা অনেক আগেই পিছিয়ে যাবো! জিততে হবে-এই চিন্তা নিয়েই নামতে হবে। আমরাও রেসে আছি-এমন মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে। আমরা এখানে একটা বড় টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছি। এই টুর্নামেন্টের মাঝপথে এসে আমরা যদি কাউকে আলাদা ভাবে দেখি, তাহলে আমরা ঐ যে বললাম, প্রথম থেকেই পিছিয়ে যাবো। যে ক্রিকেট খেলছি আমরা এই বিশ্বকাপে সেই ধারাটা যদি ভারত ম্যাচে তিন বিভাগেই ধরে রাখতে পারি তাহলে ভারতের বিপক্ষে জেতা সম্ভব। এবং আমরা জিতবো।’

তারপরও হিসেব-নিকেষ থেমে নেই। ভারত অনেক শক্তিমান। ওদের কিভাবে থামাবে বাংলাদেশ-এমনসব অংক এবং ফুর্মলা জাহির করছেন অনেকে। তবে বাংলাদেশ দলের জোর বিশ্বাস একটাই-নিজেদের ক্রিকেটীয় কাজগুলো যদি সঠিক ভাবে করা সম্ভব হয় তবে সামনে থাকা সব প্রতিপক্ষই উড়ে যাবে সেদিন। দলের সেই বিশ্বাস আরেকবার উচ্চারিত হলো সৌম্যের কণ্ঠে- দু’দলের মধ্যে সহজ একটা পার্থক্য হলো, ওরা ইন্ডিয়া, আমরা বাংলাদেশ। ব্যস আর কিছু না! মাঠে যেদিন যারা ভালো খেলবে, সেদিন তারাই সেরা। বিশ্বকাপ অনেক বড়ো টুর্নামেন্ট। এমন বড়ো টুর্নামেন্টে যদি নাম ধরে প্রতিপক্ষকে বড়ো দলের কাতারে ফেলে দিলে, সমস্যা তো নিজেদেরই হবে। শুরুতেই তাহলে ব্যাকফুটে চলে যাবে দল। তাই কে বড়ো দল, সেই চিন্তা না করে একটা পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামা এবং সেটা ঠিক মতো প্রয়োগ করাটাই বড়ো কথা।’

২ জুলাই বার্মিংহ্যামে সেই ‘বড়’ কাজও এবার করতে চায় বাংলাদেশ!

আপনার মতামত লিখুন :

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম

সাকিব প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেন তামিম
সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে ও তামিম ইকবাল

নতুন মিশনে এখন শ্রীলঙ্কায় তামিম ইকবালের দল। মাশরাফি বিন মর্তুজার ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে নেতৃত্ব পেয়েছেন তিনি। যদিও তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে পাচ্ছেন না দলের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসানকে। তারপরও ছন্দ ধরে রাখতে প্রস্তুত তামিম। সোমবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তেমনটাই শোনালেন টাইগারদের এই অধিনায়ক।

এই সফরটা নানা কারণে আলোচিত। কারণ গত এপ্রিলে শ্রীলঙ্কায় আত্মঘাতী বোমা হামলার পর অনেকটাই স্থবির হয়ে ছিল দেশটি। ঠিক এমন সময়ে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক দল হিসেবে সফরে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। অবশ্য নিরাপত্তা নিয়ে কোন শঙ্কা নেই তামিমদের। দুই দিনেই শ্রীলঙ্কার আতিথেয়তায় খুশি দলের ক্রিকেটাররা।

মাঠের লড়াইয়ের আগে কলম্বোতে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব প্রসঙ্গটাও এসেছে। কারণ সদ্য শেষ বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন তিনি। ছয়শর বেশি রান ও ১১ উইকেটে বিশ্বকাপের সেরা তারকার একজন। তাকে পাচ্ছেন না তামিম। ছুটিতে রয়েছেন সাকিব।

এই প্রসঙ্গে সোমবার তামিম ইকবাল বলছিলেন, ‘এই সিরিজের দলে যারা আছেন তারা প্রত্যেকেই যোগ্য। যারা এই টিমে নেই আমি আসলে তাদের নিয়ে কথা বলতে চাইছি না। সবাই জানে সাকিব স্পেশাল। দুর্দান্ত একটি বিশ্বকাপ খেলে এসেছে ও। কিন্তু এই সফরে নেই। তাই তার বিষয়ে আমরা কথা না বলি। প্রথম ওয়ানডেতে যে ১১ জন খেলার সুযোগ পাবে, আমি নিশ্চিত তারা সুযোগটা কাজে লাগাবে।’

নিরাপত্তা ইস্যুটাও এসেছে সংবাদ সম্মেলনে। কড়া নিরাপত্তা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কারণটাও সংগত। গত এপ্রিলেই দেশটিতে বোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আড়াইশর বেশি মানুষ। এ অবস্থায় নিরাপত্তা পেয়ে তামিম জানাচ্ছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে। এখানকার নিরাপত্তা অসাধারণ। দুই মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আমাদের ক্রিকেট বোর্ড আর দেশের মানুষ সবাই এ সফর নিয়ে ইতিবাচক ছিল। এমন পরিস্থিতিতে আমরাও পড়েছিলাম। তখন শ্রীলঙ্কা আমাদের সহায়তা করেছিল। দেখুন, আমরা একটা পরিবারের মতো। এমন ঘটনার পর একে অপরের সহায়তা করা খুব দরকার। এখানে আমরা এখন ক্রিকেট ছাড়া কিছু ভাবছি না।’

দল কেমন করবে শ্রীলঙ্কায় তিন ম্যাচ ওয়ানডেতে। লক্ষ্যটাই বা কি তামিম ইকবালের? এমন প্রশ্নে টাইগার ক্যাপ্টেন বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিরিজ আমাদের জন্য। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার নেই দলে। তবে যারা আছে তাদের সামর্থ্য রয়েছে। এটা জানি শ্রীলঙ্কার মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো করা কঠিন। তবে এখানে সব সিরিজে ভালো করেছিলাম। আশা করি সেই ছন্দটা ধরে নিতে পারব আমরা।’

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা সফর। এরপর ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই স্বাগতিকদের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১ আগষ্ট দেশে ফেরার কথা রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের।

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শহিদুল

ক্যাপ্টেন কে থিমাপ্পাইয়া সর্বভারতীয় স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দারুণ একটা দিন কাটাল বিসিবি একাদশ। বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন সফরকারী দলের বোলাররা। তিন পেসার শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক ও ইবাদত হোসেনের দাপটে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ।

এরপর জবাবে নেমে সাদমান ইসলামের ফিফটিতে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। চারদিনের ম্যাচে এরইমধ্যে ৫৬ রানের লিড নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সোমবার দিন শেষে জহুরুল ইসলাম ২৮ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দাপট দেখালেন বোলাররা। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ম্যাচটিতে দেখা যায়নি তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে। তবে তাদের অভাবটা বুঝতে দেননি শহিদুল, ইবাদত ও আরিফুল।

ম্যাচে টস ভাগ্যটাও ছিল বিসিবি একাদশের পক্ষে। বোলাররা আস্থার প্রতিদান নিয়ে প্রতিপক্ষের দলীয় ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৪ উইকেট। দলীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান তুলেন কেএস দেবাইয়া। ২০ রানে ৫ উইকেট নেন শহিদুল। ২২ রানে ৩ উইকেট আরিফুলের। ইবাদত শিকার করেন ৩৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য বিসিবি একাদশ শুরুতেই হারায় সাইফ হাসানকে। অধিনায়ক মুমিনুলও (১০) তেমন কিছুই করতে পারেন নি। তবে এরপরই তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান ও জহুরুল। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৯৩ বলে ৫৯ রান করেন সাদমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ৭৯/১০ (অর্জুন ১২, রোহান ১, শিভম ০, নাগা ২, অভিনব ১২, প্রভিন ১৬, বিনয় ৭, কার্তিক ০, দেবাইয়া ১৮, আনন্দ ৮, বিদওয়াথ ১*; শহিদুল ৫/২০, ইবাদত ২/৩৬, আরিফুল ৩/২২)
বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৫/৩ (সাইফ ৩, সাদমান ৫৯, মুমিনুল ১০, জহুরুল ২৮*, শান্ত ২৭*; দেবাইয়া ১/৩১, বিদওয়াথ ১/৪৫, আনন্দ ১/১৫)

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র