Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ম্যাচ শেষে মাশরাফির বিশ্লেষণ

ম্যাচ শেষে মাশরাফির বিশ্লেষণ
সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মর্তুজা, ছবি: সংগৃহীত
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
নটিংহ্যামশায়ার
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

'এই ম্যাচটাও আমাদের হতে পারত' এমন আরেকটি আফসোস অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার গলায়। অস্ট্রেলিয়া এমন দল, যারা খেলার মাঠে খুব বেশি সুযোগ দেয় না। যে সামান্য সুযোগ আসে সেটা কাজে লাগাতে হয়। নইলে আফসোস আরও বাড়ে। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের জবাবে ৩৩৩ রান তোলা ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে বসে মাশরাফি সেই দুঃখেই কাতর।

অধিনায়ক বললেন, 'আসলে এটা এমন উইকেট ছিল, উভয় দলই এখানে আগে ব্যাট করতে চাইবে। তারপরও আমরা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের সময় শুরুতে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিলাম। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। এমন উইকেটে হাফ চান্সগুলোকেই কাজে লাগাতে হয়। নইলে পস্তাতে হয়। আমরা ভালোই জানতাম শুরুতে উইকেট তুলতে না পারলে ওদের যে ব্যাটিং লাইন আপ সেটা দিয়ে পরের দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলবে। আমার মতে উইকেট নিতে পারায় আমরা ওদের ব্যাটিংয়ের সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে পারিনি।'

ওয়ার্নারের ক্যাচ মিস। শুরুতে রান আউট মিস। মাঝে কোনো উইকেট নিতে পারা। শেষের খরুচে বোলিং-৪৮ রানে হারা ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট এমন অনেককিছু, 'এই ধরনের ম্যাচে যেকোনো কিছু হতে পারে। ডেভিড ওয়ার্নারকে আউটের প্রথম সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তারপর সে যখন সেঞ্চুরি করল, সেখানেও তাকে থামাতে পারিনি। একশ থেকে আবার যে একশ পঞ্চাশের বেশি করে ফেলল! শেষের বোলিংটা আমাদের মোটেও ভালো কিছু হয়নি। শেষ ছয় ওভারে আমাদের খরচ হয়েছে একশর বেশি রান! ওই সময়ের বোলিং আমাদের ম্যাচ থেকে অনেক দূরে নিয়ে গেছে।'

পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় দুটি। তিনটি হার। একটি বৃষ্টিতে নষ্ট। বাকি আছে আরও তিন ম্যাচ। সেই তিন ম্যাচে যদি বাংলাদেশ জিতেও তবু নিশ্চিত নয় শেষ চারে পৌঁছানো। অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মাশরাফি জানালেন, 'এখনো যেকোনো কিছু হতে পারে। এখনই আমাদের বাদ দিয়ে দেয়ার কিছু নেই। আমাদের এখনো তিনটি ম্যাচ বাকি আছে। সেই তিনটি ম্যাচে কঠিন ক্রিকেট খেলতে হবে। জানি সামনের পথটা কঠিন। বাকি তিন ম্যাচ আমরা জিতলেও যে সেমিতে খেলব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তখন তাকিয়ে থাকতে হবে। এখন আমাদের সামনে একটাই কাজ, বাকি তিন ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলা। নিজেদের অবস্থানকে নিজেদের মতো করে রাখা।'

মূলত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশে সম্ভাবনা শেষ করে দেয়। মাশরাফিও সেটা মানলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরাই আমাদের কাজটা এই ম্যাচে কঠিন করে দেয়। ওয়ার্নার, ফিঞ্চ ও খাজা ওপরের দিকে দুর্দান্ত কায়দায় ব্যাট করে। শেষের দিকে এসে ম্যাক্সওয়েলও ভালো ব্যাটিং করে। ট্রেন্টব্রিজের এই উইকেটে রান আছে- সেটা আমরা জানতাম। তবে এখানে ৩২০ বা ৩৩০ রান তাড়া করা যায়। কিন্তু সেই টার্গেট ৩৭০/৮০ হয়ে গেলো তখন সেটা অবশ্যই অনেক কঠিন।'

আপনার মতামত লিখুন :

পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা?

পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা?
শ্রীলঙ্কাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। সিরিজটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় হোম সংযুক্ত আরব আমিরাতেই খেলার কথা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বিদেশের মাটিতে নয়। খেলতে চাচ্ছে নিজেদের দেশের মাটিতে। এজন্য শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পাকিস্তানের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রস্তাবটা একেবারে বাতিলও করেনি। নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত জানাবে তারা।

সিঙ্গাপুরে এশিয়া কাপ মিটিং থেকেই দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। লন্ডনে সদ্য শেষ হওয়া আইসিসির বার্ষিক সভায়ও এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে দুপক্ষ। লাহোর ও করাচির নিরাপত্তা পরিকল্পনা পরিদর্শন করতে  নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল পাঠাবে শ্রীলঙ্কা। প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন হাতে পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে এসএলসি।

যদি পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে শ্রীলঙ্কা রাজি হয়ে যায়। তাহলে এটা হবে ২০০৯ সালে লাহোরে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচের আয়োজন।

২০০৯ সালে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাটা হয়েছিল পাকিস্তান সফরত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের ওপর। হামলায় নিরাপত্তা কর্মীসহ নিহত হয় আটজন। আহত হয় কয়েকজন লঙ্কান ক্রিকেটার। এর পর ক্রিকেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পাকিস্তান। এবং নিজেদের সব হোম সিরিজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই খেলে যাচ্ছে তারা।

ছয় বছর পাকিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচই হয়নি। গত চার বছরে কৌশলে অবশ্য কিছু ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান ঘরের মাঠে। তবে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন এখনো অনেক দূরের ব্যাপার।

২০০৯ সালের সেই কালো অধ্যায়ের পর আইসিসির প্রথম পূর্ণ সদস্য হিসেবে জিম্বাবুয়ে পাকিস্তান সফর করে ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালের মার্চে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে হয় পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল।
পরে সেপ্টেম্বরে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি খেলতে যায় বিশ্ব একাদশ। একই বছর শ্রীলঙ্কার টি-টুয়েন্টি দল একটি ম্যাচ খেলতে সফর করে পাকিস্তান।

টি-টুয়েন্টিতে নারিন-পোলার্ডের প্রত্যাবর্তন

টি-টুয়েন্টিতে নারিন-পোলার্ডের প্রত্যাবর্তন
ফের জাতীয় দলে কিয়েরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন

প্রায় দুবছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টুয়েন্টি দলে ফিরলেন সুনীল নারিন। জাতীয় দলে এ তারকা স্পিনারের প্রত্যাবর্তনে সঙ্গী হয়েছেন কিয়েরন পোলার্ডও। ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে ডাক পেয়েছেন তারা।

তাদের সঙ্গে দলে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন অনভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যান্থনি ব্রামবল।

হাঁটুর ইনজুরির জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। এখনো সন্দেহ রয়েছে তার ফিটনেস নিয়ে। কিন্তু তারপরও দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনিও। তবে শর্ত আছে, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই কেবল খেলার সুযোগ মিলবে এ তারকা অলরাউন্ডারের।

কানাডা গ্লোবাল টি-টুয়েন্টিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় খেলছেন না ক্রিস গেইল। এই সুযোগে ওপেনিংয়ে তার জায়গায় দলে ঢুকে গেছেন জন ক্যাম্পবেল।

ক্যারিবিয়ানদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ছিলেন নারিন। কিন্তু আঙ্গুলের চোটের জন্য ৫০ ওভার ক্রিকেটের মহাযজ্ঞে অংশ নিতে ঠিক নিজের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি এ মেগাস্টার। তবে এ সিরিজে স্পিন আক্রমণে তার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন খারি পিয়ের।

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় বসতে যাচ্ছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্বাচকদের দৃষ্টি তাই এখন ওই টুর্নামেন্টের দিকে। যেখানে তারা শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে।

লক্ষ্যটা সামনে রেখে দলের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের কাঁধে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে অবশ্য নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন জেসন হোল্ডার।

২৮ বছরের ব্রামবল গত তিন বছরের মধ্যে অফিসিয়াল কোনো টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। কিন্তু তারপরও নিকোলাস পুরানের উইকেটকিপিং ব্যাক-আপ হিসেবে দলে রাখা হয়েছে তাকে।

বিরাট কোহলির ভারতের বিপক্ষে লডারহিলে ৩ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে টি-টুয়েন্টি সিরিজ। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি হবে ৪ আগস্ট।

৬ আগস্ট গায়ানার তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে দলে পরিবর্তন আনতে পারেন নির্বাচকরা। টি-টুয়েন্টি সিরিজের পর ভারতের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে উইন্ডিজ।

উইন্ডিজ টি-টুয়েন্টি দল
কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), অ্যান্থনি ব্রামবল (উইকেটরক্ষক), জন ক্যাম্পবেল, শেলডন কটরেল, শিমরন হেটমার, এভিন লুইস, সুনীল নারিন, কিমো পল, খারি পিয়ের, কিয়েরন পোলার্ড, নিকোলাস পুরান (উইকেটরক্ষক), রভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল ও ওশানে টমাস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র