Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বাংলাদেশ জিতল ‘লড়াই’, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ!

বাংলাদেশ জিতল ‘লড়াই’, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ!
মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ আশা জাগালেও শেষরক্ষা হয়নি
এম.এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
নটিংহ্যামশায়ার
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

৪৮ রানে হারা ম্যাচে প্রতিযোগিতা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। জিততে পারতো বাংলাদেশও-এমন কিছু বললে অনেকেই হয়তো অবিশ্বাসের চোখে তাকাবেন! কিন্তু স্কোরকার্ড দেখে নয়, যারা এই ম্যাচ দেখেছে তারা নিশ্চিত জানেন ৩৮১ রানের পিছু ধাওয়া করতে নেমে এই ম্যাচে বাংলাদেশেরও সম্ভাবনা ছিল।

আসলে অস্ট্রেলিয়া শুধু এই ম্যাচ জিতল অংকের খাতায়। বাংলাদেশ যা জিতল তার নাম-লড়াই। তার নাম-সাহস! অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের জবাবে বাংলাদেশ তুলল ৮ উইকেটে ৩৩৩।

বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি আনন্দ উদযাপন হয়তো মুশফিক করতে পারলেন না। তবে তার এই সেঞ্চুরি এবং গোটা ম্যাচে বাংলাদেশের সম্মিলিত ব্যাটিং আরেকবার জানিয়ে দিলো-এই বাংলাদেশ ক্রমশই বিস্মিত করছে ক্রিকেট বিশ্বকে!

অস্ট্রেলিয়ার হৃদকম্প এতদূর থেকেও ঠিক শোনা যাচ্ছিলো! ৩৮১ রান তুলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের টেনশন এবং সাদা চেহারা আরও ‘সাদা’ হয়ে যাওয়া ঠিকই টের পাওয়া গেলো! মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটিং নড়িয়ে দিলো অস্ট্রেলিয়ার ভিত। এবং সত্যিকার অর্থে বললে ম্যাচের একসময় অজিরা ঠিকই ‘ভীত’ হয়ে পড়েছিলো হারের ভয়ে!

হ্যাঁ স্কোরবোর্ডে ৩৮১ রান জমা করেও!

যে ক্ল্যাসিক কায়দায় মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রান তাড়া করছিলেন পঞ্চম উইকেটে বাংলাদেশের সেই জুটিই অস্ট্রেলিয়ার শিরদাঁড়ায় ভয়ের একটা স্রোত বইয়ে দেয়; হারের!

এই ম্যাচের শেষভাগ পুরোপুরি টি-টুয়েন্টি মেজাজের হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের শেষ ৩৬ বলে চাই ৯৩ রান। তখনো অনেক বড় টার্গেট। কিন্তু ম্যাচের আগের দিন বলা মাশরাফির সেই কথাটা যে এই বাংলাদেশ দলের সব ক্রিকেটারদের অন্তরের বিশ্বাস-‘কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়; লড়বে বাংলাদেশ।’

সত্যিকার অর্থেই লড়ল বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের পিছু তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ২৩ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। রান আউট হয়ে ফিরেন সৌম্য সরকার। তামিম ও সাকিব দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠছিলেন। দুজনে বেশ চমৎকার কায়দায় দলের ইনিংসকে সামনে বাড়াচ্ছিলেন। সাকিব টুর্নামেন্টে আরেকটি হাফসেঞ্চুরির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্টয়নিসের একটি স্লোয়ার বুঝতে না পেরে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। ৪১ বলে ৪১ রান করে ফেরেন সাকিব। চলতি বিশ্বকাপের পাঁচ ম্যাচে এই প্রথম সাকিব অন্তত হাফসেঞ্চুরি নিচে আউট হলেন।

তামিম ইকবাল অবশ্য চলতি টুর্নামেন্টে নিজের হাফসেঞ্চুরি পেলেন। কিন্তু ইনিংসটা ৬২ রানের চেয়ে বেশি বড়ো করতে পারলেন না। পাঁচে ব্যাট করতে নামা লিটন দাসকে বাউন্সার দিয়েই স্বাগত জানালো অস্ট্রেলিয়া!

মিচেল স্টার্ক প্রথম বলটাই শর্ট দিলেন। বাউন্সার! লিটন মাথা নিচু করে সেই বাউন্সার এড়ানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু সফল হলেন না। বল সোজা গিয়ে লাগলো তার হেলমেটে। বলের ধাক্কায় লিটন তাল সামাল দিতে পারলেও হেলমেট খুলে ফেলেন। বলের ধাক্কাটা লাগে তার হেলমেটের একপাশে। মাথা ঝাঁকুনি দিতে থাকেন লিটন। কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা- সেটা জানার জন্য সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক মাঠে ছুটেন। বারকয়েক লিটনকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক যখন দেখলেন কোনো সমস্যা হয়নি। তখন আবার খেলা শুরু করেন আম্পায়াররা। তবে স্টার্কের বাউন্সারে ক্ষতিগ্রস্ত হেলমেটটা বদলে ফেলেন লিটন।

আগের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা লিটন দাসকে এই ম্যাচে ভালোই হোমওয়ার্ক করে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। লিটন ব্যাট হাতে পাল্টা হামলা চালাতে পছন্দ করেন সেটা জেনে গেছে অস্ট্রেলিয়া। তাই শুরুতেই লিটনের আত্মবিশ্বাস যাতে নড়িয়ে দেয়া যায় সেজন্যই স্টার্ক তাকে প্রথম বলেই বাউন্সার দেন।

পরের ওভারেই অন্যপ্রান্ত থেকে প্যাট কামিন্সকেও আক্রমণে আনেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। দু’প্রান্ত থেকে নিজের দলের সেরা ফাস্ট বোলারকে বাংলাদেশের ইনিংসের মাঝপথে আক্রমণে আনার উদ্দেশ্যই হলো গতির চোটে বাংলাদেশকে সঙ্কটে ফেলা।

লিটন দাস তিন বাউন্ডারিতে এই ম্যাচেও শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বলে এলবি হলেন ২০ রান তুলে। মুশফিকের সঙ্গে এসে জুটি বাঁধলেন মাহমুদউল্লাহ। এই দুজনের ব্যাটে যা মিললো তার নাম-সাহস! তার নাম- জেতার জেদ! অসম্ভব সুন্দর ব্যাটিং করেন দুজনে বাংলাদেশকে রানকে যেভাবে সামনে বাড়ালেন তাতে অস্ট্রেলিয়ার ৩৮১ রানের স্কোরকে খুব দুরের পথ মনে হচ্ছিলো না!

দুজনেই দলের ব্যাটিংকে ম্যাচের একদম গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করলেন। দারুণভাবে তাতে সফলও হলেন। রক্ষণের সঙ্গে আক্রমণের মিশেল-ক্লাসিক ভঙ্গির এই ব্যাটিংয়ে জুটিতে যোগ হলো ১২৭ রান। তাও আবার মাত্র ১৬.১ ওভারে! মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫০ বলে ৬৯ রান করে।

শেষের টি-টুয়েন্টির আদলে সাব্বির রহমানের জন্য মঞ্চ তৈরি তখন। চাই ২৭ বলে ৮০ রান। কিন্তু সাব্বির রহমান যে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রথম বলেই আউট! দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে কোল্টার-নাইল মূলত ওখানেই অস্ট্রেলিয়ার জয়টা নিশ্চিত করে দিলেন।

আগের দিন লড়াইয়ের কথা বলা মোসাফির আরেকটি কথা মনে পড়লো এদিন ম্যাচ শেষে-‘৩৩০/৩৪০ রান তাড়া করা যায়, কিন্তু প্রতিপক্ষের স্কোর ৩৭০/৩৮০ হয়ে গেলে সেটা তখন...।’

অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে তো সেটাই হলো!

আপনার মতামত লিখুন :

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল

শ্রীলঙ্কায় গরম, তাই জাতীয় দলে শফিউল
শ্রীলঙ্কা সফরে জাতীয় দলে শফিউল ইসলাম

হঠাৎ করেই জাতীয় দলে ডাক পেয়ে গেলেন শফিউল ইসলাম। আনুষ্ঠানিকভাবে সফর শুরু হওয়ার পর তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন এই পেসার। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার কলম্বোতে টাইগার শিবিরে যোগ দেবেন তিনি।

কেউ ইনজুরিতে পড়েনি, তারপরও হঠাৎ কেন দলে শফিউল? এমন প্রশ্নের মুখে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানালেন, ‘দেখুন, শ্রীলঙ্কা থেকে টিম ম্যানেজমেন্ট আরও একজন পেসার চেয়েছে। ওরা জানাল-সেখানে নাকি বেশ গরম। হাতে বিকল্প বোলার রাখতে চাইছে। দল তো ১৪ জনের ছিল। শফিউল যোগ দিলে ১৫ জনে দাঁড়াবে।’

২৯ বছর বয়সী এই পেসার ২০১৬ সালে খেলেন তার সবশেষ ওয়ানডে। ৫৬ ওয়ানডে খেলা শফিউল ২০১৭ সালের পর থেকেই আছেন জাতীয় দলের বাইরে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলে অবশ্য আলোচনাতেই ছিলেন তিনি। গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে নেন ১৯ উইকেট। এছাড়া আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৫৯ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট।

শুক্রবার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। পরের দুটি ওয়ানডে ২৮ ও ৩১ জুলাই।

ওয়ানডের বাংলাদেশ দল-
তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, তাসকিন আহমেদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, ফরহাদ রেজা, মোসাদ্দেক হোসেন, তাইজুল ইসলাম, এনামুল হক, শফিউল ইসলাম।

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা

ওয়ানডে ছাড়লেও টি-টুয়েন্টিতে থাকছেন মালিঙ্গা
ভক্তদের হতাশই করলেন লাসিথ মালিঙ্গা

অনেক দিন ধরেই লাসিথ মালিঙ্গার অবসর নিয়ে নানা গুঞ্জন উড়ে বেড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কার নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান আসান্থা ডি মেলের পর তার অবসরের খবরটা দিয়ে ভক্তদের হতাশ করেছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। তবে এবার খবরটা নিশ্চিত করলেন মালিঙ্গা নিজেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেই একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিচ্ছেন শ্রীলঙ্কার এ তারকা পেসার। তবে খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট।

২৬ জুলাই শুক্রবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টাইগারদের বিপক্ষে খেলেই ৫০ ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসরে চলে যাচ্ছেন মালিঙ্গা। তাই ভক্ত-সমর্থকদের গ্যালারিতে বসে নিজের বিদায়ী ম্যাচ উপভোগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন লঙ্কান এ তারকা ক্রিকেটার, ‘শুক্রবার শেষবারের মতো আমাকে ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে দেখবেন আপনারা। যদি পারেন, দয়া করে ম্যাচটি দেখতে আসবেন।’

স্ত্রী তানিয়া পেরেরার ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তা পোস্ট করে সমর্থকদের মালিঙ্গা জানান, যে অফিসিয়াল ও খেলোয়াড়রা তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই।

৩৫ বছরের এ বোলার জানান, ‘নির্বাচকরা তাকে সাইডলাইনে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন দুই বছর আগে। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপের মাধ্যমে জাতীয় দলে নিজের মূল্যটা প্রমাণ করতে পেরেছি।’

এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন মালিঙ্গা। সাত ইনিংসে নেন ১৩ উইকেট।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে সামনে রেখে মঙ্গলবার অনুশীলনের ফাঁকে মালিঙ্গা জানান, একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও খেলে যাবেন টি-টুয়েন্টি। তার দৃষ্টি এখন ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে।

মালিঙ্গা বলেন, ‘প্রত্যাশা করি, আগামী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে যেতে পারব।’ টুর্নামেন্টের মূল আসরে খেলার আগে বাংলাদেশের মতো লঙ্কানদেরও পার হতে হবে বাছাই পর্বের বৈতরণী।

গুঞ্জন আছে অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাবেন মালিঙ্গা। নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন। নতুন ঠিকানাতেই গড়বেন কোচিং ক্যারিয়ার।

২১৯ ইনিংসে ৩৩৫ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক ২০১১ সালে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া মালিঙ্গা। তার আগে আছেন কেবল মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫২৩) চামিন্দা ভাস (৩৯৯)।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এখন শ্রীলঙ্কা সফর করছে বাংলাদেশ। ২৬ জুলাই মাঠে গড়াচ্ছে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। একই ভেন্যুতে পরের দুটি ম্যাচ হবে ২৮ ও ৩১ জুলাই। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র