Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৮৩০ বছর আগের সরাইখানায় এক বিকেল

৮৩০ বছর আগের সরাইখানায় এক বিকেল
ওল্ডেস্ট ইন্ ইন ইংল্যান্ড : সরাইখানা নাকি হারানো পৃথিবী- ছবি:বার্তা২৪
এম. এম. কায়সার
স্পোর্টস এডিটর
বার্তা২৪.কম
নটিংহ্যামশায়ার
ইংল্যান্ড থেকে


  • Font increase
  • Font Decrease

এরা বলে পাব বা ইন্।

বাংলায় কি বলা যায়-সরাইখানা শব্দটাই সবচেয়ে বেশি যুতসই। তবে আসলে এটা নেহাৎ শুধু পানশালা নয়, সেই পরিচয় ছাপিয়ে আরো অনেক বড় কিছু! নটিংহ্যামের ঐতিহ্যের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই পাব। সাদা চুনকাম করা দেয়ালে কালো হরফে রোমান ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা-দ্য ওল্ডেস্ট ইন্ ইন ইংল্যান্ড।

এই ওল্ড মানে কতো ওল্ড জানেন?

চলতি ২০১৯ থেকে ১১৮৯ খ্রীস্টাব্দ বিয়োগ করলে উত্তর মিললো-৮৩০ বছর! পেছনের পাহাড়ের গাঁ ঘেষে থাকা সরু-সাদা দোতলা বাড়ির অবকাঠামো, এর বৈশিষ্ঠ্য, ভেতরের আঙ্গিক, আলো-আধাঁরি পরিবেশ, বৈচিত্র -সবকিছুই এই পাবের বয়সের সত্যিকারের সার্টিফিটেকই দিচ্ছে। এগার’শ শতাব্দীর সেই পাথুরে গুহার অবয়বটা এখনো ধরে রাখা হয়েছে। ভেতরে বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানি আছে কিন্তু মাথার উপরে, পাশের দেয়ালের কঠিন প্রস্তর এবং প্রতিটি কাঠের গুঁড়ির পাশে ঝোলানো হ্যারিকেনের টিমটিমে আলো ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আজ থেকে ৮৩০ বছর আগের ইতিহাসে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561015463618.jpg

নটিংহ্যামের রবিনহুড ক্যাসেল থেকে ১০০ গজ দুুরের এই পাবকে দেখিয়ে শহরের লোকজন গর্বের সুরে ঘোষণা দেয়-এটা ইংল্যান্ডের সবচেয়ে পুরানো সরাইখানা।

পাঁচ তারকা হোটেল পার্ক প্লাজা থেকে পায়ে হাঁটা দুরুত্ব নটিংহ্যাম ক্যাসেল। এখানে আসতেই তীরধনুকের মুর্তিতে বরিনহুডকে পাবেন। বরিনহুডের ব্রোঞ্জের মুর্তির পাশে দাড়িয়ে ছবি তোলার জন্য পর্যটকদের হুড়োহুড়ি। এই যুগে এসেও তার এত ভক্ত-সমর্থক আছে জেনে রবিননহুড নিশ্চিতভাবে খুশি হবেন!


পাবের প্রবেশমুখের দরজার ফলকে বড় করে লেখা-ইংল্যান্ডের সবচেয়ে পুরানো সরাইখানা। স্থাপিত ১১৮৯ খ্রীস্টাব্দ! বাইরের পুরো অংশটুকু গাছের সবুজ ছায়ায় ঢাকা। কাঠের চেয়ার-টেবিল পাতা। চারধারেই খানা পিনার আয়োজন। তবে শুধু পান আসক্তরাই যে এই আটশ বছর পুরানো পাবে এসে বিয়ারে গলা ভেজাচ্ছেন তা কিন্তু নয়। নাস্তা এমনকি চাইলে দুপুরের ফুল কোর্স লাঞ্চও মিলবে এই পাবে। বালু ও পাথরের সংমিশ্রনে তেরি পাবের চাতালগুলো দেখলে একবার বসে চারধারের প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে খানিকক্ষনের জন্য হলো সঁপে দিতে ইচ্ছে হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561015502636.jpg

সরু প্রবেশ পথ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে মনে হলো-এ কোথায় এলাম? এ যে পুরো পাহাড়ের গর্ত। বিশালাকৃতি পাহাড়ের মাঝখানের অংশ কেটে টুপির মতো করে যেন ওপর থেকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে! ভেতরের আলোর মাত্রা এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে এগারো শতাব্দীর সেই আবহ’র সঙ্গে অতিথিরা পরিচিত হতে পারেন। আট’শ বছর পুরানো সেই পাথুরে চাঁইয়ের ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় অদ্ভুত এক অনুভুতিতে পুরো শরীর মন আছন্ন হয়ে পড়বে। টাইম মেশিনে পেছনে ফিরে যাবার আয়োজন যেন করে রেখেছে নটিংহ্যামের এই সরাইখানা। ভেতরে অনেকগুলো ছোট ছোট খুপরি। সবগুলোতে ঢুঁ মারতে গিয়ে আশপাশের অনেকের ঢুঁস খেতে হলো-কাঁধের ধাক্কায় পাশের জনের বিয়ারের গ্লাস থেকে খানিকটা ‘জল’ ছলকেও পড়লে-‘সরি, সরি!’ শেষ না হতেই সান্তনা মিলল-‘ওকে ম্যান, নো প্রবলেম। কিপ গোয়িং।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561015524874.jpg

স্টিলের রেলিং দেয়া দোতলায় উঠতে দেখা মিলল আরও জমজমাট আড্ডার। বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বিকাল ও সান্ধ্যকালিন সময়টা উপভোগ করতে সবাই যেন সেই এগার শতাব্দী ফিরে গেছে! ইলেক্ট্রিক লাইনের পাশে গাছের শিকড় বের হয়ে পাথুরে পাহাড়ের গায়ের সঙ্গে মিশে গেছে-কিন্তু কোনকিছুই এখানে বৈশাদৃশ্য মনে হবে না। বারটেন্ডার টমি অবশ্য শতাব্দী পুরানো এই সরাইখানায় কলসের ঢাকনা খুলে কোন কিছু ঢালছে না, বিয়ার এবং অন্যান্য পানীয় ঢালার জন্য আধুনিক বারের প্রায় সব আয়োজনই আছে এখানে। এত লোক, সবার হাতেই গ্লাস, সবাই একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছে, চারধারে তুমুল আড্ডা, দারুণ উচ্ছাস, হৈচৈ-কিন্তু এই আড্ডার মাঝেও সরাইখানার বরফঠান্ডা পাথরের দেয়ালে হাত ছোঁয়াতেই যেন নিজেকে আবিস্কার করা গেল এগার’শ শতাব্দীর সেই যুগে।

সূর্য অস্ত গেছে। ফিরে আসার সময় সরাইখানার গেট পার হতে সামনের ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ির ছোটাছুটি। কিন্তু কানে যে তখনো বাজছে ঘোড়ার খুরের শব্দ!

এই মাত্র যেন হারানো পৃথিবী থেকে ঘুরে এলাম!

আপনার মতামত লিখুন :

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের

বল হাতে দাপটের পর লিড বিসিবি একাদশের
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন শহিদুল

ক্যাপ্টেন কে থিমাপ্পাইয়া সর্বভারতীয় স্মৃতি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে দারুণ একটা দিন কাটাল বিসিবি একাদশ। বল হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন সফরকারী দলের বোলাররা। তিন পেসার শহিদুল ইসলাম, আরিফুল হক ও ইবাদত হোসেনের দাপটে মাত্র ৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ।

এরপর জবাবে নেমে সাদমান ইসলামের ফিফটিতে প্রথম দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩৫ রান তুলেছে বিসিবি একাদশ। চারদিনের ম্যাচে এরইমধ্যে ৫৬ রানের লিড নিয়েছে মুমিনুল হকের দল। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সোমবার দিন শেষে জহুরুল ইসলাম ২৮ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৭ রানে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে দাপট দেখালেন বোলাররা। জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় ম্যাচটিতে দেখা যায়নি তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামকে। তবে তাদের অভাবটা বুঝতে দেননি শহিদুল, ইবাদত ও আরিফুল।

ম্যাচে টস ভাগ্যটাও ছিল বিসিবি একাদশের পক্ষে। বোলাররা আস্থার প্রতিদান নিয়ে প্রতিপক্ষের দলীয় ১৫ রানের মধ্যে তুলে নেন ৪ উইকেট। দলীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান তুলেন কেএস দেবাইয়া। ২০ রানে ৫ উইকেট নেন শহিদুল। ২২ রানে ৩ উইকেট আরিফুলের। ইবাদত শিকার করেন ৩৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে অবশ্য বিসিবি একাদশ শুরুতেই হারায় সাইফ হাসানকে। অধিনায়ক মুমিনুলও (১০) তেমন কিছুই করতে পারেন নি। তবে এরপরই তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন সাদমান ও জহুরুল। ৯ চার ও এক ছক্কায় ৯৩ বলে ৫৯ রান করেন সাদমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

কেএসসিএ সেক্রেটারি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪১ ওভারে ৭৯/১০ (অর্জুন ১২, রোহান ১, শিভম ০, নাগা ২, অভিনব ১২, প্রভিন ১৬, বিনয় ৭, কার্তিক ০, দেবাইয়া ১৮, আনন্দ ৮, বিদওয়াথ ১*; শহিদুল ৫/২০, ইবাদত ২/৩৬, আরিফুল ৩/২২)
বিসিবি একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১৩৫/৩ (সাইফ ৩, সাদমান ৫৯, মুমিনুল ১০, জহুরুল ২৮*, শান্ত ২৭*; দেবাইয়া ১/৩১, বিদওয়াথ ১/৪৫, আনন্দ ১/১৫)

১৯ দিনে ৫ স্বর্ণপদক হিমা দাসের

১৯ দিনে ৫ স্বর্ণপদক হিমা দাসের
প্রশংসায় ভাসছেন ভারতের অ্যাথলিট হিমা দাস

টানা ১৯ দিন ইউরোপের ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন হিমা দাস। লিখেছেন নতুন এক ইতিহাস। পাঁচটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছেন পাঁচটি স্বর্ণ পদক। আসামের এ সোনার মেয়ের অসাধারণ এ কৃতিত্বে গর্বিত পুরো ভারত। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন ভারতীয় এ নারী দৌড়বিদ।

১৯ বছরের হিমার এ অর্জনে যারপরনাই খুশী ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও বলিউড অভিনেত্রী আনুশকা শর্মাও।

রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ স্প্রিন্টার হিমাকে উৎসাহ দিয়ে টুইটারে লিখেন, ‘তিন সপ্তাহে পাঁচটি স্বর্ণপদক৷ তুমি চমৎকার হিমা দাস৷ দৌড়ে যাও, চমকে দিতে থাকো৷ এ সাফল্য যেন ২০২০ অলিম্পিকে আমাদের জন্য গর্ব বইয়ে নিয়ে আসে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদি এক টুইট বার্তায় লিখেন, ‘হিমা দাসের অভূতপূর্ব সাফল্যে পুরো দেশ গর্বিত৷ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে পাঁচটি স্বর্ণ পদক জিতে সবাইকে খুশী করেছো। অভিনন্দন রইল। এবং একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।’

হিমাকে গোল্ডেন গ্লার্ল উল্লেখ করে টুইটারে আনুশকা লিখেন, ‘১৯ দিন – ৫টি স্বর্ণ পদক – একটি সোনার মেয়ে! অভিনন্দন হিমা দাস! তুমি দৃষ্টান্তের দৃষ্টান্ত৷ তোমার সার্মথ্য ও অধ্যবসায় আগামী প্রজন্মের মেয়েদের প্রেরণা৷’ জবাবে আনুশকাকে হিমা লিখেন, ‘ধন্যবাদ আনুশকা শর্মা। আমি আপনার পাড় ভক্ত।’

হিমার ইউরোপ অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। চলে ২১ জুলাই পর্যন্ত। পোল্যান্ডের পোজনান গ্রাঁ প্রি (২০০ মিটার), পোল্যান্ডের কুতনো অ্যাথলেটিকস মিট (২০০ মিটার), চেক প্রজাতন্ত্রের তাবর অ্যাথলেটিকস মিট (২০০ মিটার), চেক প্রজাতন্ত্রের ক্লাদনো অ্যাথলেটিকস মিট (২০০ মিটার) ও প্রাগের নোভ মেস্তো নাড মেটুজি গ্রাঁ-প্রিতে হিমা ৪০০ মিটার স্বর্ণপদক জেতেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র