Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ফের একপেশে ইতিহাস, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত

ফের একপেশে ইতিহাস, পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল ভারত
বিশ্বকাপের ময়দানে আরো একবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের দাপট
আপন তারিক
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস তার চেনা পথেই হাটলো। ছক উল্টে দিতে পারল না পাকিস্তান। বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে দ্বৈরথ মানেই যেন তাদের নিশ্চিত হার। এবার নিয়ে সাতবারের লড়াইয়ে প্রতিবারই হাসিমুখ ম্যান ইন ব্লু'দের। রোববার ব্যাটে-বলে দাপট বিরাট কোহলিদের। ক্রিকেটের সেরা দ্বৈরথে মাঠের লড়াইয়ে এবারও ছিল না প্রাণ! সেই একপেশে ইতিহাস!

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইটা ছিল একেবারেই নিস্প্রাণ। বৃষ্টির বাধায় শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ ও লুইস ম্যাথডে ভারত জিতেছে ৮৯ রানে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত সংগ্রহ করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রান। যা কীনা পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ ছিল নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের ৯ উইকেটে ৩৩৪ রান। আর ভারতের সর্বোচ্চ ছিল গতবার করা ৭ উইকেটে ৩০০ রান।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560711018374.jpg

এরপর বল হাতেও একইভাবে আধিপত্য থাকল ভারতের। জয়ের পথেই ছিল দল। ৩৫ ওভারে পাকিস্তান যখন ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ তখনই ফের শুরু হয় বৃষ্টি। এরপর খেলা শুরু হলে কঠিন এক লক্ষ্য দাঁড়ায় পাকিস্তানের সামনে। ৩০ বলে চাই ১৩৬! মিশন ইমপসিবল।

আর সেই লড়াইয়ে ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১২ রানে আটকে যায় পাকিস্তান। বৃষ্টির শঙ্কা নিয়ে শুরু হওয়া এই মহারণে টস জিতে সরফরাজ আহমেদের শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্তটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েই থাকল।

বড় সংগ্রহের সামনে জবাব দিতে নেমে অপয়া ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৭ রানে সাজঘরে ফেরেন ইমাম উল হক। তবে এরপরই প্রতিরোধ গড়েছিলেন ফকর জামান ও বাবর আজম। দু'জন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে করেন ১০৪ রান। বাবর ৪৮ রানে বিদায় নিতেই শুরু উইকেট পতনের মিছিল। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ভারতের হাতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560711052750.jpg

ফকর জামান ৭৫ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে দলীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন। শেষ দিকে ইমাদ ওয়াসিমের ৪৬ রানের ইনিংস শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে।

ভারতের হয়ে বিজয় শঙ্কর ৫.২ ওভারে ২২ রানে নেন ২টি উইকেট। হার্দিক পান্ডিয়া ও কুলদীপ যাদব তুলে নেন দুটি করে উইকেট।

এর আগে শিখর ধাওয়ানের ইনজুরিতেই ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়ে যান লোকেশ রাহুল। আর সেটি কাজেও লাগালেন তিনি। রোহিত শর্মার সঙ্গে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে গড়েন রেকর্ড। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ড রোহিত-রাহুল গড়েন ১৩৬ রানের ওপেনিং জুটি। এটিই এখন পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ে রানের জুটি। তারা ভেঙ্গে ফেলেন শচীন টেন্ডুলকার ও নভজ্যোৎ সিং সিধুর গড়া ১৯৯৬ বিশ্বকাপের রেকর্ড। তারা গড়েছিলেন ৯০ রানের জুটি।

রেকর্ড গড়া জুটিতে রাহুল ফেরেন ৫৭ রানে। ৭৮ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা। রোহিত শর্মা তুলে নেন শতরান। ১১৩ বলে করেন ১৪০ রান। ৩৪ বলে ফিফটি করেন তিনি। ক্যারিয়ারের ২৪তম শতরান করেন ৮৫ বলে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560711083531.jpg
 
বিরাট কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৬৫ বলে ৭৭ রান। আউট না হয়েও প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি! হঠাৎ আমিরের বলে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট তিনি। যদিও পরে দেখা যায় বলটি তার ব্যাটেই লাগেনি! আম্পায়ারের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করে কিংবা রিভিউ না নিয়েই সাজঘরে ফিরে যান কোহলি। 

এই ইনিংস খেলার পথে ব্যাটিং লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকারকে পেছনে ফেলেন কোহলি। ২৭৬ ইনিংসে ওয়ানডেতে দ্রুততম ১১ হাজার রানের  রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই রেকর্ড ভাঙ্গেন কোহলি মাত্র ২২২ ইনিংসে।

মোহাম্মদ আমির ৪৭ রানে নেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট শিকার করেন হাসান আলি ও ওয়াহাব রিয়াজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/17/1560711104455.jpg

সব মিলিয়ে ব্যাটে-বলে ম্যাচটা দুঃস্বপ্ন হয়েই থাকল পাকিস্তানের জন্য। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠার পথটাও কঠিন হয়ে গেল তাদের। ৫ ম্যাচে দলটির অর্জন মাত্র ৩ পয়েন্ট। ৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিন নম্বরে আছে ভারত। শীর্ষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
ভারত: ৫০ ওভারে ৩৩৬/৫ (রাহুল ৫৭, রোহিত ১৪০, কোহলি ৭৭, পান্ডিয়া ২৬, ধোনি ১, শঙ্কর ১৫*, কেদার ৯*; আমির ৩/৪৭, হাসান ১/৮৪, ওয়াহাব ১/৭১)
পাকিস্তান: (লক্ষ্য ৪০ ওভারে ৩০২) ৪০ ওভারে ২১২/৬ (ইমাম ৭, ফখর ৬২, বাবর ৪৮, হাফিজ ৯, সরফরাজ ১২, মালিক ০, ওয়াসিম ৪৬*, শাদাব ২০*; শঙ্কর ২/২২, পান্ডিয়া ২/৪৪, কুলদীপ ২/৩২)
ফল: ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৮৯ রানে জয়ী ভারত
ম্যাচসেরা: রোহিত শর্মা

আপনার মতামত লিখুন :

আবাহনীর জালে মোহামেডানের ৪ গোল

আবাহনীর জালে মোহামেডানের ৪ গোল
চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে চমকে দিয়ে বড় জয় মোহামেডানের

রীতিমতো বিস্ময়কর! রেলিগেশনের লড়াইয়ে থাকা মোহামেডানের কাছেই কীনা হেরে গেল আবাহনী। হারটাও বেশ বড়। চ্যাম্পিয়নদের জালে এক হালি গোল দিয়েছে সাদা-কালো শিবির। মঙ্গলবার ফেভারিটদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডান ৪-০ গোলে হারিয়েছে আবাহনীকে। অথচ লিগের প্রথম পর্বে এই দলটির বিপক্ষেই ৩-০ গোলে জিতেছিল ধানমন্ডির ক্লাবটি। 

এই হারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই থেকে অনেকটাই পিছিয়ে গেল আবাহনী। টানা ছয় ম্যাচ জয়ের পর হোঁচট খেল তারা। চার বছর পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে জয় পেল মোহামেডান!

ম্যাচে মোহামেডানের হয়ে দুটি করেন তকলিস আহমেদ। একটি করে গোল সোলেমান আর জাহিদ হাসান এমিলির। এ জয়ে ২০ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে আটে নম্বরে মোহামেডান। ২১ ম্যাচে আবাহনীর অর্জন ৫১ পয়েন্ট।

খেলার ১৬তম মিনিটে সুলেমানে দিয়াবাতের পাস থেকে বল পেয়ে ব্যবধান গড়ে দেন তকলিস আহমেদ। এরপর তিনিই দ্বিগুণ করেন ব্যবধান। ৫০তম মিনিটে জয়ের আশা শেষ হয়ে যায় আবাহনীর। তাদের জালে বল পাঠান মালির ফরোয়ার্ড দিয়াবাতে। তারপর ৬৬তম মিনিটে জাহিদ হাসান এমিলি গোল (৪-০) করলে হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563291221174.jpg

এদিকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মঙ্গলবারে আরেক ম্যাচে মতিন মিয়ার হ্যাটট্রিকে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে অনায়াসে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ৫-০ গোলে জয় তুলে নেয় তারা। দলের জয়ে অপর দুই গোলদাতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও আলমগীর কবির রানা।

নোয়াখালীতে রাফায়েল ওডোইন করেন হ্যাটট্রিক। তার দাপটে একই দিন নোফেল স্পোর্টিং ক্লাবকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র।

এ অবস্থায় ২০ ম্যাচে ১৯ জয় ও এক ড্রয়ে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগের শীর্ষে রয়েছে বসুন্ধরা। ২০ ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেখ রাসেল। ব্রাদার্সের অর্জন ১৬ পয়েন্ট।

মানহানির মামলায় ২ লাখ ডলার পেলেন গেইল

মানহানির মামলায় ২ লাখ ডলার পেলেন গেইল
মাঠের বাইরে সুখবর ক্রিস গেইলের

অস্ট্রেলিয়ার তিন পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে জিতেছিলেন ক্রিস গেইল। পেয়েছিলেন ক্ষতিপূরণের আদেশ। এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, দ্য এজ ও ক্যানবেরা টাইমসের করা আপিলেও জিতলেন ক্যারিবিয়ান এ সুপারস্টার।

২০১৫ সালে সিডনিতে এক নারী ম্যাসেজ থেরাপিস্টের সামনে গেইল নিজেকে বাজে ভাবে উপস্থাপন করে ছিলেন। এমন দাবী করে খবর ছাপে অস্ট্রেলিয়ার ওই তিন পত্রিকা।

গেইল দাবী করেন, খবরটা মোটেই সত্য নয়। মানহানির মামলা করে জিতে যান এ মারকুটে ব্যাটসম্যান। ক্ষতিপূরণ হিসেবে গতবছর গেইলকে ২ লাখ ১০ হাজার ডলার (১ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড বা ৩ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) দেওয়ার আদেশ দেন নিউ সাউথ ওয়েলসের সুপ্রিম কোর্ট।

বিচার চলাকালে ম্যাসেজ থেরাপিস্ট লিয়ান্নে রাসেল অভিযোগ করেন, ড্রেসিং রুমে গেইল খানিকটা বাজে ভাবে নিজেকে জাহির করেছিলেন। এতে তিনি মর্মাহত হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন।

২০১৬ সালে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এক নারী সাংবাদিককে গেইল বলে ছিলেন, ‘লজ্জা পেয়েও না, সোনা।’ এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই নারী শুরুতে যোগাযোগ করেন ফেয়ারফ্যাক্স মিডিয়ার সঙ্গে। পরে যোগাযোগ করেন তিন পত্রিকার মালিকের সঙ্গে।

গেইল দাবী করেন, মিসেস রাসেলের অভিযোগ বানোয়াট। পরে ওই তিন পত্রিকা খবরের সত্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে জুরি বোর্ড গেইলের পক্ষে রায় দেন। গেইলের আইনজীবী মৌখিকভাবে মিসেস রাসেলকে আক্রমণ করে করেছেন দাবী করে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ছিল ওই তিন পত্রিকা। কিন্তু কোনো লাভ হল না। জয় হল গেইলেরই।

তবে একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের পরিমাণটা যথেষ্ট নয় দাবী করে গেইলের পাল্টা আপিলও বাতিল করে দেন কোর্ট।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র