Alexa

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অন্যরকম!

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ অন্যরকম!

কঠিন মিশনে উইন্ডিজের এই দলটার সঙ্গেই লড়তে হবে বাংলাদেশকে

বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেমন দল?

বিশ্বকাপ শুরুর কিছুদিন আগে স্টিভ ওয়াহকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিলো। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক স্টিভের উত্তর-‘ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এই বিশ্বকাপে মোকাবেলা করতে দলগুলো চিন্তায় থাকবে!’

সেই চিন্তার প্রথম শিকার পাকিস্তান। ট্রেন্টব্রিজে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে দুর্দান্ত কায়দায় এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথমে বল হাতে গতির ঝড়। তারপর ব্যাটিংয়ে তান্ডব। নিজেদের সেই বহু পুরানো স্টাইল নিয়েই ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবারের বিশ্বকাপ শুরু।

‘হু কেয়ারস’- টাইপের ক্রিকেট আর কি!

১৭ জুন টন্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের হোমওয়ার্ক শিটেও সেই এজেন্ডা থাকছে। বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন-‘আমরা ভালোই জানি ওয়েস্ট ইন্ডিজ আমাদের জন্য কি নিয়ে অপেক্ষা করছে। সেটা কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে, সেই পরিকল্পনাও আমরা ঠিক করছি।’

প্রতিপক্ষ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ ভালো। পেছনের দুটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতেছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডে সর্বশেষ তিনজাতি ক্রিকেটে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমবারের মতো বহুজাতিক কোনো ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি জিতেছে বাংলাদেশ ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই।

তবে সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর এই বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, এভিন লুইস, নিকোলাস পুরান, শিমরন হেটমায়ার, ওসানে থমাস-এই ছয় তারকাকে ছাড়াই আয়ারল্যান্ডে তিনজাতি ক্রিকেটে খেলেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ছয় ক্রিকেটার বিশ্বকাপের দলে ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যাটিং-বোলিং শক্তি এখন পুরোপুরি ‘সিক্সপ্যাক’!

পেছনের রেকর্ড কখনো সামনের ম্যাচ জেতায় না। হয়তো মানষিক ভাবে কিছুটা এগিয়ে থাকতে সহায়তা করে, কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ভালো ক্রিকেটই ম্যাচ জয়ের মুল উপায়। বাংলাদেশ দলও সেটা বেশ ভালোই জানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়েও তাই পেছনের রেকর্ডের সুখস্মৃতিতে আবিষ্ট নয় দল। সব চিন্তা এখন শুধু ১৭ জুনের ম্যাচকে ঘিরে।

বিশ্বকাপে টিকে থাকার হিসেব নিকেষের বড় চ্যালেঞ্জের এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জার অনেক। ক্রিস গেইল তার শেষ বিশ্বকাপ শুরু করেছেন ঝড়ো হাফসেঞ্চুরি দিয়ে। শুরুতেই তাকে থামিয়ে রাখতে হবে। এভিন লুইসকে ফেরাতে হবে প্রথম পাওয়ার প্লে’তেই। ড্যারেন ব্রাভো আরেক ডেঞ্জারম্যান। মিডলঅর্ডারে শেই হোপ, নিকোলাস পুরান, শিমরন হেটমায়ার-প্রত্যেকেই ম্যাচ উইনার।

ভাবছেন শেষ!

‘ব্যাটিং সন্ত্রাস’ হিসেবে থাকা আন্দ্রে রাসেল আছেন না! জ্যাসন হোল্ডারও ব্যাট হাতে কিছু কম যান না।

আর বোলার ওসানো থমাস প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিংয়ের সেই চিরচেনা ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছেন। টন্টনে ১৭ জুনের মাস্ট উইন ম্যাচে শর্টবল, বাউন্সার এবং ক্যারিবীয় ব্যাটিং ঝড়-অনেককিছুই একসঙ্গে সামাল দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

জয় শুরু, মাঝে হার এবং বৃষ্টিতে ম্যাচ বাতিল-এই তিন অভিজ্ঞতাও প্রায় সমানভাবেই পেয়েছে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৭ জুনের ম্যাচে সেই হিসেবও বদলে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :