Alexa

পাকিস্তানকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল অস্ট্রেলিয়া

পাকিস্তানকে উড়িয়ে জয়ে ফিরল অস্ট্রেলিয়া

আরো একটি জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল

মনে হচ্ছিল অনায়াসেই বিশ্বকাপে তৃতীয় জয়টা মুঠোবন্ধী হবে অ্যারন ফিঞ্চের। কিন্তু টনটনে শেষ বিকেলে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। অষ্টম উইকেট জুটিতে হিসাবের ছকটা উল্টে দিতে থাকেন সরফরাজ আহমেদ ও ওয়াহাব রিয়াজ। অসাধারণ এক জুটিতে প্রায় হারা ম্যাচেও নিয়ে আসেন প্রাণ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি! সেই প্রতিরোধ শেষে অনায়াসেই জয়ের বন্দরে ফেভারিটরা।

বিশ্বকাপে ঠিক চ্যাম্পিয়নের মতোই দাপটে এগিয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। নাটকীয়তার ইতি টেনে হাসিমুখ ফিঞ্চের। শুরুতে আফগানিস্তান, তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের পর এবার অজিদের শিকার পাকিস্তান।

সরফরাজ আহমেদের দলকে হারিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কাছে ৩৬ রানে হারের ধাক্কা সামলে ফের চেনা পথে তারা।

টনটনে বুধবার পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়েছে অ্যারন ফিঞ্চের দল।

ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এরপর ডেভিড ওয়ার্নারের শতরান ও ফিঞ্চের দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া ৪৯ ওভারে করে ৩০৭ রান। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে অলআউট হয়ে করে ২৬৬ রান।

যদিও টার্গেট তেমন বড় ছিল না পাকিস্তানের। কিন্তু চ্যালেঞ্জটা নিতে পারেনি ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা। দলের যখন ২ রান তখন সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার ফকর জামান (০)। তবে এরপরই বাবর আজমকে নিয়ে কিছুটা সময় লড়েছেন ইমাম-উল-হক। দলীয় ৫৬ রানে ভাঙে এই জুটি। ৩০ রানে ফেরেন বাবর।

তারপর বিপর্যয়ের মুখে হাল ধরেন ইমাম ও মোহাম্মদ হাফিজ। মনে হচ্ছিল ম্যাচটি বুঝি জিততে যাচ্ছে পাকিস্তানই। দু'জনই অজি বোলিং আক্রমণ উড়িয়ে দিয়ে লড়তে থাকেন। কিন্তু এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান প্যাট কামিন্স। তিনি ফিরিয়ে দেন ইমামকে। ৭৫ বলে ৫৩ রান তুলে ধরেন সাজঘরের পথ।

এরপরই তাকে এই ওপেনারকে অনুসরণ করেন হাফিজ। অ্যারন ফিঞ্চের বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৪৯ বলে ৪৬। তারপর হাসান আলি ১৫ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ফিরে গেলে নিভে যায় পাকিস্তানের আশার প্রদীপ। তবে চেষ্টা করেছিলেন সরফরাজ আহমেদ। সঙ্গে ওয়াহাব রিয়াজ বেশ লড়াই করেন। অষ্টম উইকেটে দু'জন যোগ করেন ৬৪ রান। কিন্তু রিয়াজ ৩৯ বলে ৪৫ রান করে ফিরতেই সব শেষ। এরপর অধিনায়ক সরফরাজ ৪৮ বলে ৪০ রানে ফেরেন সাজঘরে!

তিনটি উইকেট নেন পেসার প্যাট কামিন্স। দুটি করে উইকেট শিকার করেন মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে সেঞ্চুরি পেতেই পারতেন অ্যারন ফিঞ্চ। শুরু থেকে অধিনায়কোচিত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে দিয়ে সেই ইঙ্গিতটাই দিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ফিঞ্চ (৮২) শতক পূর্ণ করতে না পারলেও পেরেছেন তার সতীর্থ! সাজঘরে ফেরার আগে তার ওপেনিং পার্টনার ডেভিড ওয়ার্নার (১০৭) ঠিকই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।

বল টেম্পারিংয়ের নিষেধাজ্ঞা শেষে ফিরে অসাধারণ ক্রিকেট খেলছেন ওয়ার্নার। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে করেন অপরাজিত ৮৯ রান। ভারতের বিপক্ষেও তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। এবার শতরান!

১১ চার আর এক ছক্কায় অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ওয়ার্নারের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি এটি। বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১৫ বিশ্বকাপে পার্থে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ছিলেন তিনি। ফিঞ্চ ও ওয়ার্নারের ব্যাটিং বড় সংগ্রহের পথেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ফিনিশিংটা ভাল হয়নি তাদের। ফিঞ্চ ও ওয়ার্নারের ব্যাটিং বড় সগ্রহের পথেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু ফিনিশিংটা ভাল হয়নি তাদের। আরেকটু সরাসরি বলা যায় মোহাম্মদ আমিরের পেসেই শেষটা ভাল হয়নি অজিদের।

ওয়ার্নারের সঙ্গে ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন অধিনায়ক ফিঞ্চ। তিনি ফেরেন ৮৪ বলে ৮২ রানে। আর ওয়ার্নার ১১১ বলে ১১ চার ও এক ছক্কায় ১০৭ রান। তিনিই ম্যাচের সেরা।

এরপর আমির তার বোলিং তোপে ১০ ওভারে দুই মেডেনসহ ৩০ রানে নেন ৫ উইকেট। ওয়ানডেতে এই প্রথম পাঁচ উইকেট পেয়েছেন পাকিস্তানের এই পেসার। তবে ম্যাচ শেষে হাসি ছিল না তার মুখে। কারণ দল যে হেরেছে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ৩০৭/১০ (ফিঞ্চ ৮২, ওয়ার্নার ১০৭, স্মিথ ১০, ম্যাক্সওয়েল ২০, মার্শ ২৩, খাওয়াজা ১৮, কেয়ারি ২০, কোল্টার-নাইল ২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৩, রিচার্ডসন ১*; আমির ৫/৩০, আফ্রিদি ২/৭০, হাসান ১/৬৭, ওয়াহাব ১/৪৪, হাফিজ ১/৬০)।
পাকিস্তান: ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬/১০ (ইমাম ৫৩, ফখর ০, বাবর ৩০, হাফিজ ৪৬, সরফরাজ ৪০, মালিক ০, আসিফ ৫, হাসান ৩২, ওয়াহাব ৪৫, আমির ০, আফ্রিদি ১*; কামিন্স ৩/৩৩, স্টার্ক ২/৪৩, রিচার্ডসন ২/৬২, কোল্টার-নাইল ১/৫৩, ফিঞ্চ ১/১৩)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: ডেভিড ওয়ার্নার

আপনার মতামত লিখুন :