Alexa

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ডের অপেক্ষায় সাকিব

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই রেকর্ডের অপেক্ষায় সাকিব

অভিজাত মাইলফলকের সামনে সাকিব আল হাসান

বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগেভাগে একটা সুসংবাদ পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানে আরেকবার ফিরে এসেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার-এই মর্যাদা নিয়েই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছেন সাকিব। আর ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেই প্রথম ম্যাচেই আরেকটি রেকর্ড সাকিবকে ডাকছে হাতছানি দিয়ে। অলরাউন্ডারদের আরেকটি ক্লাবে এই তিনি প্রবেশ করলেন বলে! প্রয়োজন মাত্র আরেকটি উইকেট। তাহলেই ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেট শিকারের অলরাউন্ডারদের যে সংক্ষিপ্ত তালিকা আছে সেই ফলকে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের নামটাও লেখা হবে।

এখন পর্যন্ত চারজন ক্রিকেটার আছেন অলরাউন্ডারদের মর্যাদাপূর্ণ সেই ক্লাবে। সাকিব হবেন পঞ্চম সদস্য। তবে একটু জানিয়ে রাখি। তার আগের চারজন জ্যাক ক্যালিস, সনাৎ জয়াসুরিয়া, শহীদ আফ্রিদি ও আব্দুল রাজ্জাক প্রত্যেকেই এই অর্জনের জন্য যে ক’টি ম্যাচ খেলেছিলেন সাকিবকে খেলতে হচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম ম্যাচ! সেই বিবেচনায় সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে দ্রুততম সময়ে এই ক্লাবে যোগ দেয়া মাত্রই সাকিবের নামটা তালিকার একনম্বরে থাকবে! বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা সাকিবের ম্যাচটি হবে ১৯৯তম। তার আগে ৫ হাজার রান ও ২৫০ উইকেট ক্লাবে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে যোগ দেয়া ক্রিকেটার হলেন পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাক। ২৩৪ ম্যাচ খেলে রাজ্জাক এই ক্লাবের নাম লিখিয়েছিলেন। অতএব নিশ্চিত থাকতে পারেন সাকিব এই এলিট ক্লাবে যোগ দিচ্ছেন সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব নিয়েই!

আগাম অভিনন্দন সাকিবকে তাহলে জানিয়ে রাখাই যায়।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিসের সঙ্গে একই রেকর্ডে থাকার সৌভাগ্য তো সবার হয় না। মজার বিষয় হলো এই বিশ্বকাপে সাকিবের খেলা প্রথম ম্যাচেই সেই রেকর্ডটা হয়ে যেতে পারে। আর সেই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যাক ক্যালিসের দেশ! অলরাউন্ডারদের এই ক্লাবে থাকা আগের চার ক্রিকেটারই ক্যালিস, জয়াসুরিয়া, আফ্রিদি ও রাজ্জাক আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। তারাও সাকিবের জন্য একটা আগাম অভিনন্দন নোট লিখে রাখতে পারেন-‘ওয়েল কাম টু ফ্যাবুলাস ফাইভ ক্লাব!’ সাকিবকে নিয়ে এই ক্লাবের সদস্য সংখ্যা হবে পাঁচ।

নিজের সম্ভাব্য এই রেকর্ড সম্পর্কে সাকিবও বেশ উৎসাহিত। বললেন-‘বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো রেকর্ডে নাম লেখানোটা আমার জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হবে। আমি অপেক্ষায় আছি। এখনো রেকর্ডের জন্য আরেকটা উইকেট পেতে হবে। আশা করছি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই সেটা পাবো।’

সম্ভাব্য এই অর্জনকে ব্যক্তিগতভাবে সাকিব কিভাবে দেখছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সাকিব জানান-‘গ্রেট ক্রিকেটারদের সারিতে তাদের সঙ্গে যখন নিজের নাম থাকে, তখন অবশ্যই আনন্দ হয়, গর্ব হয়। এই আনন্দ, এই গর্ব, এই সাফল্য আমাকে সামনের সময়টা আরো ভালো পারফর্ম করতে উজ্জ্বীবিত করে।’

২ জুন ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় এবং সাকিবের রেকর্ড দুটোই তাহলে একসঙ্গে হোক!

আপনার মতামত লিখুন :