Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলো আফগানিস্তান!

পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলো আফগানিস্তান!
হাসমাতউল্লাহ শাহীদি, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বকাপ এখনো শুরু হয়নি। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচেই যে বড় অঘটন ঘটে গেলো! আফগানিস্তান হারিয়ে দিলো পাকিস্তানকে।

বৃস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ডে পাকিস্তানের ২৬২ রানের স্কোর আফগানিস্তান ৩ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেয়। বিশ্বকাপের চার সেমিফাইনালিস্টদের একটি দল হিসেবে অনেকেই রেখেছেন পাকিস্তানকে। সেই ফেভারিট পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলো ১০ দলের র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বরে থাকা দল আফগানিস্তান।

ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারা পাকিস্তান বোলারদের ব্যর্থতায় বড় অসহায়বোধ করছিলো। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের সেই বোলিং দুর্দশা কাটলো না।

প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফলকে মূখ্য বিষয় মনে করা হয় না। ক্রিকেটীয় প্রক্রিয়াটা সঠিক হচ্ছে কিনা- সেই খোঁজটাই বেশি থাকে সাধারণত প্রস্তুতি ম্যাচে। তো এই প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের প্রক্রিয়াও ভালো কিছু হলো না, সেই সঙ্গে ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছে হারে আত্মবিশ্বাসেও ছেদ পড়লো!

বাবর আজমের সেঞ্চুরি ও মিডলঅর্ডারে শোয়েব মালিকের ৪৪ রানের সুবাদে প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৬২ রানে। কোটার পুরো ৫০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি পাকিস্তান।

পেসার দৌলত জাদরান ২টি উইকেট পান। তবে পাকিস্তানের ইনিংস সামনে বাড়ার গতিপথ রুদ্ধ করে দেন দুই স্পিনার মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। নবী ১০ ওভারে ৪৬ রানে ৩ উইকেট পান।

রশিদ খানের ৯ ওভারের স্পেলে ১ মেডেনসহ ৩১ রানে শিকার ২ উইকেট। জবাবি ইনিংসে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটিতে যোগ হয় ৮০ রান। শুরুর চার ব্যাটসম্যান উইকেট জমে গিয়ে খেলেন। মোহাম্মদ শাহজাদ ২৫ বল ২৩ রান করে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

তবে আরেক ওপেনার হযরতউল্লাহ জাজাই এই ম্যাচকে পুরোদুস্তর টি-টুয়েন্টি বানিয়ে দেন! ২৮ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় করেন ৪৯ রান। স্ট্রাইক রেট ১৭৫! মিডলঅর্ডারে হাসমাতউল্লাহ শাহীদি ম্যাচে ফিনিসারের দায়িত্ব পালন করেন। ১০২ বল মোকাবেলা করে অপরাজিত ৭৪ রান করে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

জয়ের কাছাকাছি এসে শেষের দিকে আফগানিস্তান টপাটপ তিনটি উইকেট হারালেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে দেননি হাসমাতউল্লাহ শাহীদি। এই ম্যাচে পাকিস্তানের সেরা বোলার ওয়াহাব রিয়াজ।

৪৬ রানে তিনি ৩ উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের দ্বিতীয় এবং শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ কার্ডিফে ২৬ মে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান: ২৬২/১০ ( ৪৭.৫ ওভারে, বারব আজম ১১২, শোয়েব মালিক ৪৪, নবী ৩/৪৬, রশিদ ২/২৭)।

আফগানিস্তান: ২৬৩/৭ (৪৯.৪ ওভারে, হযরতউল্লাহ জাজাই ৪৯, রহমাত শাহ ৩২, হাসমাতউল্লাহ শাহীদি ৭৪*, নবী ৩৪, ওয়াহাব রিয়াজ ৩/৪৬)।

ফল: আফগানিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।

আপনার মতামত লিখুন :

কেকেআরে বিশ্বকাপ জয়ী কোচ বেলিস

কেকেআরে বিশ্বকাপ জয়ী কোচ বেলিস
নতুন দ্বায়িত্বে ট্রেভর বেলিস

ইংল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উঠার পরই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়েছিলেন কোচ ট্রেভর বেলিস। তার দল বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক চাকরিটা আর করছেন না তিনি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মিশন শেষে সেটাই করলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ এবার যোগ দিলেন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর)।

দিন কয়েক আগেই সাবেক কোচ জ্যাক ক্যালিসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেকেআর। তখনই বোঝা গিয়েছিল, দলটি নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছে আইপিএলের আগামী আসর। লক্ষ্যটা সামনে রেখে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের দলটি সাবেক গ্রেট প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের ফেলে যাওয়া শূন্য জায়গাটা পূরণ করল বেলিসকে দলে ভিড়িয়ে।

বেলিস এখন কাজ করবেন সাবেক নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে। কিউই এ ধারাভাষ্যকার কাজ করবেন অবশ্য ব্যাটিং কোচ হিসেবে।

বেলিস এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত কেকেআরে কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দলের দুটি শিরোপাই আসে তার সময়েই। বেলিস কাজ করেন বিগ ব্যাশ দল সিডনি সিক্সার্সের সঙ্গেও। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা শ্রীলঙ্কার কোচও ছিলেন তিনি।

পরে অস্ট্রেলিয়ান কোচ ২০১৫ সালে মনোযোগী হন ইংল্যান্ডকে নিয়ে। শ্রীলঙ্কা দলে নিজের সহকারী পল ফারব্রেসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইংলিশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। দুই দিন আগে সেই দলকে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপাও উপহার দিয়েছেন।

বিদায় বলেই ফেললেন ইনজামাম

বিদায় বলেই ফেললেন ইনজামাম
কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইনজামাম-উল-হক

শেষ পর্যন্ত সরেই যেতে হলো ইনজামাম-উল-হককে। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারের পরই বিপাকে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচক। তখনই বলা হচ্ছিল সরে দাঁড়াবেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হচ্ছে ৩১ জুলাই৷ বুধবার জানিয়ে দিলেন, এরপর আর চুক্তি নবায়নে আগ্রহী নন তিনি।

পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক স্পষ্ট বললেন- দেশটির জাতীয় দলের নির্বাচকের পদে থাকবেন না তিনি।

২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রধান নির্বাচকের চেয়ারে বসেছিলেন এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। এরমধ্যে তার বিচক্ষণতায় দল বেশ এগিয়েছে। জিতেছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। যদিও সদ্য শেষ বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন লিগ থেকেই বিদায় নেয় পাকিস্তান।

একইসঙ্গে তার দল নিয়েও উঠে প্রশ্ন। বিশেষ করে মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজকে শুরুতে দলের বাইরে রেখে পড়েন সমালোচনার তোপে। শেষ পর্যন্ত দুজনকেই দলে নিতে বাধ্য হন। আর পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে চমক দেখান দু'জনই।

এ অবস্থায় ব্যর্থতা কাঁধে নিয়েই নির্বাচকের দ্বায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইনজামাম। বিদায় বেলায় বলেন, ‘তিন বছরের বেশি সময় ধরে পাকিস্তান দলের নির্বাচক কমিটিতে আছি। কিন্তু এবার আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি- নতুন করে চুক্তি করব না। সেপ্টেম্বরে আইসিসি টেস্ট চ্যম্পিয়নশিপ শুরু। ২০২০ সালে টি-টুয়েন্টি আর ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তার আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগ দেয়ার এটাই সেরা সময়। এ কারণেই সরে দাঁড়াচ্ছি আমি।’

এখানেই শেষ নয়, ৪৯ বছর বয়সী ইনজি আরো বলেন, ‘দেখুন, ক্রিকেট আমার আবেগের জায়গা। এক সময় দেশের হয়ে খেলেছি। এরপর নির্বাচক হয়ে গত তিন বছর দল নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ নিয়েছি। কিন্তু আর এই কাজ করতে চাই না আমি।’

বলা হচ্ছে অনেকটা অভিমানেই সরে দাঁড়াচ্ছেন ইনজামাম। কারণ সমালোচনার তোপ সহ্য করতে পারছেন না তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র