Alexa

জুনায়েদের ‘ডিলিট করা’ প্রতিবাদ এবং কিছু তিতা সত্য

জুনায়েদের ‘ডিলিট করা’ প্রতিবাদ এবং কিছু তিতা সত্য

প্রতিবাদী টুইট করে জুনায়েদ পরে সেটি ডিলিট করে দেন- ছবি: টুইটার

দল নির্বাচন করা এমন একটা কাজ, যে কাজে আপনি কখনোই সবাইকে খুশি বা সুখী করতে পারবেন না। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল এমন ঘটনার নিত্য সাক্ষ্য দিচ্ছে। নির্বাচকদের কাজটা আসলেই থ্যাঙ্কলেস জব; একেবারে তিতা সত্য!

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের দলের ব্রাজিলের সুপারস্টার রোমারিওকে রাখেননি কোচ মারিও জাগালো। পরদিন রোমারিও’র কান্না ভেজা চোখের ছবি পত্রিকার পাতায়! দল থেকে বাদ পড়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নিজের প্রতিবাদের মাত্রাটা আরো বাড়িয়েছিলেন রোমারিও। ব্রাজিলে রোমারিও’র একটা রেষ্টুরেন্ট ছিলো। দিনকয়েক পরে সেই রেষ্টুরেন্টে দেখা গেলো টয়লেটের দরজাটায় নতুন এক নামফলক!

জ্বি, আপনি ঠিক ধরেছেন; টয়লেটের নামফলকে লেখা-মারিও জাগালো!

দল থেকে বাদ পড়ে, কেউ রাগেন। কেউ চেঁচামেচি করেন। কেউ কাঁদেন। সর্বশেষ এমন অভিনব একটা প্রতিবাদ করেছেন পাকিস্তানের পেসার জুনায়েদ খান। বিশ্বকাপ দল থেকে তাকে বাদ দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক।

প্রতিবাদে জুনায়েদ খান ঠোঁটে কালো টেপ লাগিয়ে একটা ছবি তোলেন। সেই ছবি টুইটারে পোস্ট করেন। তাতে লেখেন-‘আমি কিছুই বলতে চাই না। সত্য সবসময় তিতা।’

 বেশ কড়াধাঁচের প্রতিবাদ, সন্দেহ নেই। কিন্তু এমন প্রতিবাদ স্থায়ী করার সাহস যে বেশিসময় ধরে রাখতে পারলেন না জুনায়েদ। ২৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার পরে তার সেই টুইট ডিলিট করেন। ততক্ষনে অবশ্য তার সেই টুইট নেটিজেনে ভাইরাল হয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558423045772.png

প্রশ্ন হলো প্রতিবাদের টুইট কেন ডিলিট করে দিলেন জুনায়েদ খান? তবে কি তিনি নিজের প্রতিবাদের অবস্থান থেকে সরে এলেন? নাকি কোনো চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে এমন রক্ষনাত্মক হয়েছেন? নিজের টুইটে যে তিতা সত্য কথাটা বলতে চেয়েছিলেন জুনায়েদ সেটা আসলে কি?

এমনতর অনেক প্রশ্ন ও কৌতুহলের তৈরি হয়েছে জুনায়েদ খানের প্রতিবাদী টুইটকে ঘিরে।
 
মুলত সবচেয়ে বড় তিতা সত্য হলো-জুনায়েদ খানের ওপর পাকিস্তানের নির্বাচকরা আস্থা রাখতে পারেননি বলেই তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডে শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজের চার ম্যাচের মধ্যে জুনায়েদ খান দুটিতে খেলেছেন। উইকেট পেয়েছেন দুটি। তার বোলিং বিশ্লেষণ এক ম্যাচে ১০-০-৮৫-১। অন্য ম্যাচে ৮-০-৫৭-১। ইকোনোমি রেট ৮.৫০ ও ৭.১২! অথচ তিনি দলের স্ট্রাইক বোলার। এই দুই ম্যাচেই পাকিস্তান রান খরচ করে সাড়ে তিনশ’র ওপরে। ম্যাচের কোনো সময় জুনায়েদ খানের বোলিং দেখে মনে হয়নি তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। পারেনও নি। মুলত সেখানেই তিনি নির্বাচকদের আস্থা হারান।
 
বিশ্বকাপের উইকেট আরো ব্যাটিং বান্ধব হবে, সেই উইকেটে এমন বোলিং করলে দলকে আরো বেশি অসহায় দেখাবে। তাই এমন ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অভিজ্ঞতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই যুক্তিতে মোহাম্মদ আমির এবং ওয়াহাব রিয়াজকে দলে আনেন পাকিস্তানের নির্বাচকরা। বাদ পড়েন জুনায়েদ খান।

 ইংল্যান্ডের মাটিতে সম্প্রতি আরেকটি ম্যাচ খেলেন জুনায়েদ খান। সেই প্রস্তুতি ম্যাচেও বিপুল রান খরচ করেন তিনি। ১ উইকেট পান ৭৯ রান বিলিয়ে! পেছনের ছয়টি আর্ন্তজাতিক ম্যাচে জুনায়েদ খান পেয়েছেন মাত্র ৬টি উইকেট। প্রতিটি উইকেটের পেছনে তার ব্যয় হয়েছে ৬২’র বেশি রান।

এটা খরুচে হিসেবটা কিন্তু বেশ তিতা সত্যই, জুনায়েদ খান!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে চার ম্যাচে পাকিস্তান ব্যয় করে ১৪০০’র বেশি রান! সাড়ে তিনশ’র ওপর রান তুলে পাকিস্তান কোনো ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি। বোলারা ধুমসে পিটুনি খান। বোলারদের এই ব্যর্থতায় বিশ্বকাপ দলে বদল আনতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান।
এটাও নিরেট তিতা সত্য!

জুনায়েদের জায়গায় পাকিস্তানি নির্বাচকরা বিশ্বকাপের দলে নিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী ওয়াহাব রিয়াজকে। যিনি আবার সেই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে পাকিস্তানের হয়ে আর কোনো ওয়ানডে ম্যাচেই খেলেননি। ইংল্যান্ডের মাটিতেও তার পারফরমেন্স ভীষণ বাজে। এখানে খেলা ৭ ম্যাচে উইকেট তার মাত্র ৪টি। উইকেট প্রতি রান খরচের গড় ৯৬.২৫!

এমন বোলারকে ডেকে আনা হয়েছে বিশ্বকাপে? কারণ আর কিছু নয়, গেলো বিশ্বকাপের দলে তিনি ছিলেন তাই!

আরে ভাই দেশটার নাম যে পাকিস্তান! এটা আরেকটা তিতা সত্য!

আপনার মতামত লিখুন :