Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

নিজস্ব ‘ক্রিকেট ফর্মূলায়’ বিশ্বাসী গেইল

নিজস্ব ‘ক্রিকেট ফর্মূলায়’ বিশ্বাসী গেইল
ভক্ত-সমর্থকদের জন্যই ক্রিকেট খেলেন ক্রিস গেইল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে এক নজর আগে।

১০৩ টেস্টে ৭২১৪ রান। ১৫ সেঞ্চুরির মধ্যে দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরি। ২৮৯ ওয়ানডেতে ১০ হাজারের ওপর রান। সেঞ্চুরি ২৫টি। এর মধ্যে ডাবল সেঞ্চুরি আছে একটি। আর টি-টুয়েন্টিতে তো তাকে নাম ইউনিভার্সেল বস্! এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে যা করেছেন তার ধারে কাছে নেই কেউ। ক্যারিয়ারের ৩৮৪ টি টি-টুয়েন্টিতে রান ১২ হাজারের ওপরে। সেঞ্চুরি ২১টি।

বয়স ৩৯। এবার নিয়ে খেলবেন পাঁচটি বিশ্বকাপ। এমন রেকর্ড যার সেই ক্রিকেটারের কি আর নতুন করে নিজেকে প্রমাণের কিছু আছে?

না নেই। আর সে কারণেই ক্রিস গেইল নিজেও বলছেন-‘কারো কাছে আমার নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই। আমি ক্রিকেট খেলি আমার ভক্ত-সমর্থকদের জন্য। কয়েক বছর আগে আমার মনে হয়েছিলো অনেক হয়েছে, আর কতো খেলবো। নিজেকে প্রমান করার মতো তো আর কিছু নেই। তখনই ভক্ত-সমর্থকরা জোর দাবি করে জানিয়েছিলো-না এখনই যেও না! মুলত সেই ভক্ত-সমর্থকদের জন্যই আমি আজো খেলে চলেছি।’

ক্রিকেটের সঙ্গে গেইলের সেই পথচলা থেমে যাবে এবারের বিশ্বকাপের পরেই-‘ কোনোকিছুই তো আর চিরদিন টিকে না। আমি আশা করছি এবারের বিশ্বকাপে আমি আমার ফ্যানদের আনন্দ দিতে পারবো। বিশ্বকাপ জেতার জন্য চেষ্টা চালাবো। নিজেকে সেই উদ্দীপনায় উজ্জ্বীবিত করছি।’

১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে ক্রিস গেইলের অভিষেক। ২০ বছর ধরে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট খেলে চলেছেন। পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছেন। এত লম্বা সময় ধরে ক্রিকেট এবং এতোগুলো বিশ্বকাপ খেলার কথা কখনোই চিন্তা করেননি গেইল। সেই প্রসঙ্গে বললেন-‘এত বছর ধরে ক্রিকেট খেলবো কখনো ভাবিনি। সময় যেন ডানায় ভর করে উড়ে গেলো! এই যে এতোগুলো বিশ্বকাপ খেলবো, সেটাও কখনো চিন্তা করিনি। কিন্তু সেটাই ঘটলো। পেছনের বছরগুলোতে কঠিন পরিশ্রম আমার কাজে লেগে লেগেছে।’

নিজের ক্রিকেটকে একটু ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গেছেন ক্রিস গেইল। নিজস্ব একটা ‘ক্রিকেট ফর্মূলা’ বানিয়েছেন। সেটাই অনুসরণ করেন। তার খেলার স্টাইল খুব বেশি কারো সঙ্গে মিলে না। এমনকি ফিটনেস ঠিক রাখার জন্যও গেইলের কৌশল বাকিদের চেয়ে ভিন্ন।

জানাচ্ছিলেন-‘আমি অনেক সময় জিমনেসিয়ামে ব্যায়াম-ট্যায়াম করি না। ফিটনেসের জন্য ম্যাসাজ নেই। অথবা যোগ ব্যায়াম করি। প্রচুর সময় নেই বিশ্রামে কাটাতে। যাতে করে ম্যাচের দিন ফ্রেস হয়ে মাঠে নামতে পারি। মাঠে নিজেকে ফিট রাখতে হলো আমাকে কি করতে হবে-সেটা আমার ভালোই জানা।’

ব্যাটিং নিয়ে ক্রিস গেইল তার বিশ্লেষণে বলেন-‘প্রত্যেক ক্রিকেটারের নিজস্ব একটা ফর্মূলা থাকে। বিরাট কোহলির জন্য যা খাটতে বা কাজে লাগতে পারে সেটা আমার জন্য নাও লাগতে পারে। সবার উচিত নিজস্ব ফর্মূলায় স্থির থাকা।’

ব্যাটিং নিয়ে ক্রিস গেইলের ফর্মূলাটা খুবই পরিচিত-‘বল উইকেটে পড়লো, ব্যাট চালাও, বল গ্যালারিতে, ছক্কা!’

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও সেই ফর্মূলার গেইলের দেখা মিলছে তাহলে?

আপনার মতামত লিখুন :

নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন শ্রীশান্ত

নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন শ্রীশান্ত
আগামী বছর মাঠে নামতে পারবেন শ্রীশান্ত, ছবি: সংগৃহীত

আজীবন নিষেধাজ্ঞা শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন শান্তাকুমারন শ্রীশান্ত। ফিরতে যাচ্ছেন ক্রিকেট মাঠে। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞার খড়গ উঠে যাবে এ ভারতীয় পেসারের ওপর থেকে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ন্যায়পাল ডি.কে. জৈনের এক আদেশে শাস্তি থেকে মুক্ত হচ্ছেন এস শ্রীশান্ত।

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বসন্তকাল অতিক্রম করে এসেছেন শ্রীশান্ত। ক্রিকেটাঙ্গনে দর্শক হয়ে আছেন ছয় বছর ধরে।

৩৬ বছরের শ্রীশান্ত স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে নিষিদ্ধ হন ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। একই বছর আইপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হন তার রাজস্থান রয়্যালস সতীর্থ অজিত চান্ডিলা ও অঙ্কিত চাভান।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ বিবিসিআই ডিসিপ্লিনারি কমিটির রায় প্রত্যাখ্যান করেন সুপ্রিম কোর্ট। এপ্রিলে তিন মাসের মধ্যে শ্রীশান্তের শাস্তির বিষয় ন্যায়পাল ডি.কে. জৈনকে পুনর্বিবেচনা করার আদেশ দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। তার প্রেক্ষিতেই তার আজীবন নিষেধাজ্ঞা শাস্তি কমিয়ে সাত বছরে নিয়ে আসলেন জৈন। আগামী বছর তার শাস্তির সাতবছর পূর্ণ হবে।

অভিযোগ উঠে ছিল ১৪ রান দিয়ে ১ লাখ রূপী নেন ২৭ টেস্ট, ৫৩ ওয়ানডে ও ১০ টি-টুয়েন্টিতে ১৬৯ উইকেট শিকার করা শ্রীশান্ত। তবে বরাবরের মতো এখনো নিজেকে নির্দোষ দাবী করে যাচ্ছেন এ বোলার।

 

 

মাশরাফির মুছে ফেলা স্ট্যাটাস- ‘এই পৃথিবী অনেক নিষ্ঠুর’!

মাশরাফির মুছে ফেলা স্ট্যাটাস- ‘এই পৃথিবী অনেক নিষ্ঠুর’!
মুদ্রার অন্য পিঠও দেখতে হলো মাশরাফি বিন মর্তুজাকে

ক্রিকেট জীবনের ১৮ বছর। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ৩০৭টি ম্যাচ। চারটি বিশ্বকাপ খেলা। অধিনায়কত্ব করা ৮৫ ম্যাচ পরে এসে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার কাছে মনে হচ্ছে- ‘এই পৃথিবী অনেক নিষ্ঠুর’!

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে এমন মন্তব্য লিখেন মাশরাফি। বিশ্বকাপ শেষে মনের ভেতরে জমে থাকা দুঃখ-বেদনার স্পষ্টত পরিস্ফুটন ওয়ানডে অধিনায়কের এই চার শব্দের স্ট্যাটাসে!

দুঃখটা কেবল আমারই থাক। আনন্দ হোক সবার- সারাজীবন এই পথে হেঁটে চলা মাশরাফির ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই মনে হলো ভুল বাঁকে উঠে পড়ল জীবন গাড়ি। আর তাই আধঘণ্টার মধ্যেই নিজের লেখা সেই স্ট্যাটাস মুছে ফেলেন তিনি।

তবে ততক্ষণে নেটিং দুনিয়ায় ছড়িয়ে গেছে অধিনায়কের ‘ক্রিকেট দুঃখ’!

মাত্র মাস দুয়েকের ব্যবধানে কি অদ্ভুতভাবেই না বদলে গেছে মাশরাফির ক্রিকেট জীবন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেছে-‘তুমি কবে যাচ্ছ?’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566303158168.jpg

অথচ মে মাসে মাশরাফি যখন বিশ্বকাপে খেলতে যান তখন সেকি আয়োজন! সেকি স্বপ্নের ছড়াছড়ি! বাংলাদেশ বিশ্বকাপের শেষ চারে খেলবে বলে স্বপ্ন ঘুড়ির উড়াউড়ি। মাশরাফি নিজেই জানিয়ে যান- এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সেই বিশ্বকাপের মাঝেই তাকে শুনতে হলো- তা তুমি ক্রিকেট ছাড়ছ কবে?

আর এখন বিসিবি কার্যালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে বলা হচ্ছে-‘তুমি চাইলে যেতে পার!’

বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবী ব্যক্তিত্ব। একটা ভেঙেচুরে পড়া দলকে অসম্ভব মানসিক শক্তির জোরে টেনে তুলে বিশ্ব পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব তার। একজন তরুণ খেলোয়াড়ের সেরা পারফরমেন্স বের করে আনা, তার মধ্যে ম্যাচ উইনারের সুদৃঢ় ইচ্ছে শক্তি ছড়িয়ে দেওয়া, পুরো দলকে শক্তিমানের বিপক্ষে লড়াইয়ে জেতার জন্য উদ্দীপ্ত করা, দেশের হয়ে খেলে কিছু একটা করতে পারার মধ্যে যে অনিন্দ্য আনন্দ আছে অমন তাড়না তাগিদ তৈরি করা, অধিনায়ক মাশরাফির ‘আমরা করবো জয়ের’ সেই উদাত্ত আহ্বানই আমূল বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটকে।

সেই কীর্তিমানকে আজ শুনতে হচ্ছে-আচ্ছা, আপনার বিদায় মানপত্রের ছত্রক আপনি নিজেই লিখে দিন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566303173330.jpg

-ঠিক কেন এমন বিয়োগান্তক পরিস্থিতির তৈরি হলো যে, আজ মাশরাফিকে লিখতে হচ্ছে-‘পৃথিবীটা অনেক বেশি নিষ্ঠুর’!

শুধু ক্রিকেটারদের মধ্যে নয়, সাংবাদিক মহলেও অধিনায়ক মাশরাফি খুবই জনপ্রিয়। বন্ধু বৎসল। সেই ‘পরিচিত মহল’ থেকেও মাশরাফি দেখছেন পিঠে ছুরি মারতে উদ্যত অনেক পরিচিতকে। অধিনায়কের ‘অফ দ্য রেকর্ডকে’ কেউ যখন ‘অন দ্য রেকর্ড’ করে দেন ‘ব্রেকিং নিউজের’ লোভে, তখন তার আহত বোধ করাই স্বাভাবিক। বিশ্বাসের অমর্যাদা সব মানুষকেই আহত করে।

অধিনায়কের কাছে তাই এখন তার ক্রিকেট পৃথিবী অনেক বেশি নিষ্ঠুর!

বিশ্বকাপ শেষে কোনো একসময় মাশরাফি ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন সেটা প্রায় অনুমিত ছিল। কিন্তু কবে দাঁড়াবেন সেই সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা তিনি দেননি। সেটা নিয়ে যে বিসিবি কর্তাদেরও খুব একটা মাথা ব্যাথা ছিল তা নয়। কারণ এই বিসিবির প্রধান তো নিজেই একসময় বলেছিলেন-‘মাশরাফি কখন ক্রিকেট ছাড়বে, সেটা তার বিষয়। তার সিদ্ধান্ত।’

তবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটা অধিনায়কের সঙ্গে বিসিবির প্রেমময় সম্পর্কে একটা বিচ্ছেদ ঘটায়। লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচটায় মাশরাফি খেলছেন না- সেটা স্থির হয়। তেমন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন খোদ বিসিবি বস। কিন্তু পরদিন মাশরাফি নেমে পড়লেন টস করতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566303198157.jpg

অধিনায়ক ম্যাচে খেলবেন কিনা- সেটা তো অধিনায়কই স্থির করবেন। কিন্তু বাংলাদেশ হলো ক্রিকেট বিশ্বের তেমনই এক দেশ যেখানে বোর্ড সভাপতিই একাদশ গঠনে ‘প্রধানতম নির্বাচক’! বর্তমান সভাপতি এবং ঠিক তার আগের সভাপতি-দুজনেই এই ‘অযাচিত অতিরিক্ত ক্ষমতা’ ব্যবহার করেছেন।

লর্ডসে মাশরাফির একাদশে খেলা যে বিসিবি সভাপতির পছন্দ হয়নি, সেটা তিনি দেশে ফিরে সাফ জানিয়েও দিলেন। কোচ স্টিভ রোডস যে চাকরি হারালেন তার অন্যতম কারণও লর্ডসের একাদশ গঠনে সভাপতির সিদ্ধান্ত না মানা।

আর অধিনায়ক মাশরাফিকে মুলত সেদিনই থেকেই বিসিবি বাংলাদেশ ক্রিকেটে ‘মাইনাস’ ভাবতে শুরু করে। ‘নিষ্ঠুরতার’ সঙ্গে মাশরাফির প্রাথমিক পরিচয়ও সেদিন থেকেই।

তবে ২২ গজে এতদিন ক্রিকেট লড়াই জেতা মাশরাফির সামনের সময়ের পৃথিবী যে এখন আরো অনেক অনেক বড়ো-একেবারে ৫৬ হাজার বর্গমাইল। এখন তো তার সামনে আরো অনেক বেশি দুঃখী মানুষকে আনন্দিত করার সুযোগ।

সমস্যা হলো, ক্রিকেটের চেয়ে ‘রাজনীতির উইকেট’ যে আরো বেশি নিষ্ঠুর, আরো বেশি বিষময়!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র