Barta24

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬

English

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও আয়েশি এক জয়

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও আয়েশি এক জয়
লিটন-তামিমের ব্যাটে অনায়াস জয়ের পথ খুঁজে নেয় বাংলাদেশ দল
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

উইকেট যতোই ব্যাটিং বান্ধব হোক না কেন, ২৯২ রান মোটেও কম কোনো স্কোর নয়। কিন্তু সেই রান তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিংটা এতই অনবদ্য হলো যে সেখানে যেকোনো রানই তখন কম! যে কোনো টার্গেটই ছোট!

আয়ারল্যান্ডের ২৯২ রান বাংলাদেশে অনায়াস কায়দায় টপকে গেলো তা দেখে এই ম্যাচের রিপোর্ট কার্ডে কোচ স্টিভ রোডস শব্দটা লিখে ফেলতেই পারেন-আয়েশি জয়!

৬ উইকেটে ম্যাচ জয়। তাও আবার হাতে ৪২ বল বাকি রেখে! নাহ্ এই ম্যাচে মোটেও প্রতিযোগিতার কোনো আমেজই যে মিললো না। একতরফা এবং একরোখা ভঙ্গিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং পুরো ম্যাচে শাসন করলো। পাওাই পেলো না আয়ারল্যান্ডের বোলিং।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের স্কোরকার্ডের দিকে চোখ বুলালেই কোচ শান্তির পরশ খুঁজে পাবেন। দলের প্রথম তিনজনেরই হাফসেঞ্চুরি। ওপেনিং জুটিতে যোগ হলো ১১৭ রান। তাও আবার মাত্র ১৬.৪ ওভারে। তামিম করলেন ৫৩ বলে ৫৭। প্রথম সুযোগ পেয়ে লিটন দাসের ব্যাট হাসলো ৬৭ বলে ৭৬ রানের বড়ো ইনিংসে। সাকিব আল হাসান টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পেলেন। ৫১ বলে হার না মানা ৫০ রান। মুশফিকও যথারীতি ব্যাট হাতে ধারাবাহিক। করলেন ৩৩ বলে ৩৫ রান। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আরেকবার পারফেক্ট ফিনিসার। ২৯ বলে অপরাজিত ৩৫ রান এলো তার ব্যাটে।

শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা এতো ভালো ব্যাট করছেন যে দলের বাকিদের ব্যাটিং নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হচ্ছে না। টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচেই ব্যাটিংয়ে এমন ধারাবাহিকতাই দেখিয়েছে বাংলাদেশ। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/15/1557942140078.jpg

বোলিংও খুব একটা মন্দ হচ্ছে না। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচে চার বদল নিয়ে নামা বাংলাদেশ বেশকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষাও সেরে নিয়েছে। তৃতীয় ওপেনার হিসেবে লিটন দাস আস্থায় রেখেছেন দলকে। নতুন বোলার আবু জায়েদ রাহী তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই চমকপ্রদ পারফরমেন্স দেখিয়েছেন। ৯ ওভারে ৫৫ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। ২০১৫ সালের জুন মাসের পর এই প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো বোলার পাঁচ উইকেট পেলেন। হলেন ম্যাচসেরা।

এই চমৎকার পারফরমেন্স দিয়ে আবু জায়েদ রাহী তার বিশ্বকাপ যাত্রা আরেকবার নিশ্চিত করলেন!

তবে বোলার হিসেবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচকে সাকিব দ্রুতই ভুলে যেতে চাইবেন। ৯ ওভারে কোন উইকেট ছাড়াই এই ম্যাচে সাকিবের খরচ ৬৫ রান। ওয়ানডেতে এরচেয়ে বেশি রান তিনি আগেও খরচ করেছেন। তবে এই ম্যাচের এক ওভারে তার ২৩ রানের খরচটা নতুন কোনো ঘটনা। ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এই প্রথম এক ওভারে এতো বেশি রান খরচ করলেন সাকিব।

ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫০ রান করে সাকিব অবশ্য বোলিংয়ের সেই দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলেছেন নিশ্চয়ই! টুর্নামেন্টের ফাইনালে শুক্রবার লড়বে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: আয়ারল্যান্ড: ২৯২/৮ (স্টার্লিং ১৩০, পোর্টারফিল্ড ৯৪, উইলসন ১২, রাহী ৫/৫৮, সাইফুদ্দিন ২/৪৩, রুবেল ১/৪১, সাকিব ০/৬৫, মাশরাফি ০/৪৭)। বাংলাদেশ: ২৯৪/৪ (৪৩ ওভারে, তামিম ৫৭, লিটন ৭৬, সাকিব ৫০, মুশফিকুর ৩৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৫*, মোসাদ্দেক ১৪, সাব্বির ৭*, র‌্যাঙ্কিন ২/৪৮)। ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আবু জায়েদ রাহী।

আপনার মতামত লিখুন :

ফিদে রেটিং দাবা শুরু মঙ্গলবার

ফিদে রেটিং দাবা শুরু মঙ্গলবার
সংবাদ সম্মেলনে স্পন্সর ওয়ালটন ও আয়োজক দাবা ফেডারেশনের কর্মকর্তারা

ঈদের পর ফের ব্যস্ত হয়ে উঠছে দেশের দাবা অঙ্গন। বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের আয়োজনে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে ‘ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর মহানগরী ফিদে রেটিং দাবা প্রতিযোগিতা-২০১৯’। রেটিং ২১০০ এর নিচে ও রেটিং বিহীন দাবাড়ুরা খেলতে পারবেন এই টুর্নামেন্টে।

৯ রাউন্ড সুইস লিগ পদ্ধতিতে ফিদে রেটিং দাবা শেষ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর।

রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দাবা ক্রীড়া কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান আয়োজক ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এই টুর্নামেন্টের শীর্ষ ১৬ দাবাড়ু জাতীয় ‘বি’ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

এবারও টুর্নামেন্টের স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ওয়ালটন গ্রুপ। ২০১৪ সাল থেকেই ওয়ালটন গ্রুপ প্রিমিয়ার ডিভিশন, প্রথম বিভাগ দাবা লিগ এবং বিজয় দিবস র‌্যাপিড দাবা প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (গেমস এন্ড স্পোর্টস, মার্কেটিং) এফএম ইকবাল বিন আনোয়ার (ডন), বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গাজী সাইফুল তারেক, বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম-সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, মাসুদুর রহমান মল্লিক দিপু ও প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক হারুন অর রশিদ।

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস

শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনার টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড! নায়ক বেন স্টোকস
ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের নায়ক বেন স্টোকস

আহ্ টেস্ট ম্যাচ! কি দুর্দান্ত ম্যাচ! টান টান লড়াই! ব্যাট-বলের জমাট লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার মাত্র ১ উইকেটে! ন্যূনতম ব্যবধানে ইংল্যান্ডের এই জয়ই জানান দিচ্ছে কি দারুণ জমেছিলো এই ম্যাচ!

জয়ের জন্য ইংল্যান্ড শেষ রান না নেয়া পর্যন্ত বোঝাই যাচ্ছিলো না এই টেস্ট কে জিতবে- ইংল্যান্ড নাকি অস্ট্রেলিয়া?

বেন স্টোকসের ব্যাটে সব সন্দেহ, দ্বিধা দূর করে ইংল্যান্ড জিতলো তাদের টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ম্যাচ। স্টোকসের অপরাজিত ১৩৫ রানের ইনিংস হেডিংলির মাঠে ইয়ান বোথামের ১৯৮১ সালের অ্যাশেজের হার না মানা ১৪৯ রানের সেই ম্যাচ জয়ী ইনিংসের কথাই মনে করিয়ে দিলো। বোথামের মতো এই টেস্টও পুরোপুরি একা হাতে ইংল্যান্ডকে জেতালেন বেন স্টোকস।

শেষ উইকেটে হার না মানা ৭৬ রানের ইংল্যান্ডের অবিশ্বাস্য জুটিই সব হিসেবের সমাধান করে দিলো। এই ৭৬ রানের মধ্যে মাত্র ১ রান করলেন শেষ ব্যাটসম্যান জ্যাক লিচ। বাকি সব স্টোকসের কৃতিত্ব।

ম্যাচ জিততে শেষ ইনিংসে ইংল্যান্ডের সামনে টার্গেট ৩৫৯ রানের। শেষ ইনিংসে এরচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড আছে ইংল্যান্ডের। কিন্তু সেই ম্যাচ তারা জিততে পারেনি। ড্র করেছিলো। এই প্রথম চতুর্থ ইনিংসে এতো বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জিতলো ইংল্যান্ড। তাও আবার যে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তারা গুটিয়ে গিয়েছিলো ৬৭ রানে!

হোঁচট খেয়েও কিভাবে উঠে দাঁড়াতে হয়? কিভাবে ফিরে আসতে হয়? কিভাবে প্রায় শূন্য অবস্থান থেকে জিততে হয়? সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলো ইংল্যান্ড হেডিংলি টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে।

১১ বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ২১৯ বলে বেন স্টোকসের হার না মানা ১৩৫ রান অ্যাশেজের ইতিহাসে সেরা ইনিংসের একটি হয়ে রইলো। এই জয়ের সুবাদে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এখন ১-১ ড্র। সিরিজের চতুর্থ টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর, ওল্ড ট্রাফোর্ডে।

চতুর্থদিনে জস বাটলার আউট হওয়ার পর এই ম্যাচের পাল্লা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ে। দলের নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্টুয়ার্ট ব্রড যখন আউট হলেন তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ২৮৬ রান। ম্যাচ জিততে তখনো তাদের চাই ৭৩ রান। প্রায় অসম্ভব সেই কাজ শেষ উইকেটে করে ফেললো ইংল্যান্ড। আসলে বলা উচিত করে দিলেন বেন স্টোকস। একপ্রান্ত আঁকড়ে রেখে অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যানকে বাঁচিয়ে খেলার যে দুর্দান্ত ব্যাটসম্যানশিপ উপহার দিলেন বেন স্টোকস এই টেস্টে-তা হেডিংলির দর্শকরা অনেক অনেকদিন মনে রাখবে।

শেষের দিকে এসে অবশ্য কিছুটা ভাগ্যেরও সহায়তা পায় ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য ১৭ রান দুরে থাকতে বেন স্টোকের ক্যাচ মিস করেন মার্কাস লাবুসচাঙ্গে। ইংল্যান্ড যখন জয় থেকে ৯ রান দুরে তখন নাথান লায়নের এক ওভারে জোড়া আফসোসে মন ভাঙল অস্ট্রেলিয়ার। জ্যাক লিচকে রান আউটের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নাথান লায়ন। পরের বলেই বেন স্টোকস এলবিডব্লিউ ছিলেন। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সম্মত হলেন না। অস্ট্রেলিয়া তাদের রিভিউ আগেই নষ্ট করে ফেলেছে! রিপ্লেতে পরিষ্কার দেখা গেলো বেন স্টোকস এলবি। কিন্তু রিভিউ যে নেই!

শেষের এই টেনশনের মধ্যে কামিন্সের বলে এক রান নিয়ে স্কোর সমান করে দিলেন লিচ। সম্ভবত তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান সিঙ্গেল রান নিলেন লিচ। পরের বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বেন স্টোকস ইংল্যান্ডকে এনে দিলেন অবিস্মরণীয় এক জয়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৭৯/১০ (৫২.১, ওয়ার্নার ৬১, লাবুসচাঙ্গে ৭৪, পাইন ১১, আর্চার ৬/৪৫, ব্রড ২/৩২)। দ্বিতীয় ইনিংস: ২৪৬/১০ (৭৫.২ ওভারে, খাজা ২৩, লাবুশানে ৮০, হেড ২৫, ওয়েড ৩৩, স্টোকস ৩/৫৬, আর্চার ২/৪০, ব্রড ২/৫২)।
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৬৭/১০ (২৭.৫ ওভারে, জো ডেনলি ১২, হ্যাজেলউড ৫/৩০, কামিন্স ৩/২৩, প্যাটিসন ২/৯)। দ্বিতীয় ইনিংসে: ৩৬২/৯ (১২৫.৪ ওভারে, জো রুট ৭৭, জো ডেনলি ৫০, বেয়ারস্টো ৩৬, স্টোকস ১৩৫*, হ্যাজেলউড ৪/৮৫)। ফল: ইংল্যান্ড ১ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: বেন স্টোকস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র