Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

১ রানে নাটকীয় ফাইনাল জিতে মুম্বাই চ্যাম্পিয়ন  

১ রানে নাটকীয় ফাইনাল জিতে মুম্বাই চ্যাম্পিয়ন   
ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

আহ্, কি ফাইনাল! আহ্ কি ম্যাচ!! একেই বলে ক্লাসিক ক্রিকেট! ট্রফি কে জিতবে সেই সিদ্ধান্ত মিলল টুর্নামেন্টের শেষ বলে। দারুণ নাটকীয়তায় ঠাসা আইপিএলের ফাইনাল জিতল মুম্বাই, মাত্র ১ রানে।

শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে চেন্নাইয়ের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৯ রানের। শেষ বলে সেই হিসেব কমে এল ২ রানে। অর্থাৎ এক বলে দুই রান করলেই ট্রফি চেন্নাইয়ের। এক রান হলে ম্যাচ টাই। লাসিথ মালিঙ্গা তার সেই শেষ ওভারের শেষ বলে ম্যাচের সেরা বল করলেন। পারফেক্ট ইয়র্কার! তাতেই এলবিডব্লু চেন্নাইয়ের ব্যাটসম্যান শার্দুল ঠাকুর। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে জানালেন আউট। সঙ্গে সঙ্গে ডাগআউট থেকে পুরো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বাধ ভাঙা স্রোতের মতো মাঠে ছুটল। ১ রানে ফাইনাল ম্যাচ জিতে নিয়েছে তারা। সেই সঙ্গে আরেকবার আইপিএলের ট্রফি। সবমিলিয়ে চতুর্থবারের মতো আইপিএল জিতল মুম্বাই।

চেন্নাই ওপেনার শেন ওয়াটসন প্রায় অসম্ভব অবস্থান থেকে ম্যাচের মোড় বদলে দেন। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন তিনি। কিন্তু ফিনিসিং যে দিতে পারলেন না। ম্যাচের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে রান আউট হয়ে যান ওয়াটসন। ৫৯ বলে তার ৮০ রানের ইনিংসও দলকে জেতাতে পারল না।

শেষ বলের নায়ক হয়ে গেলেন মুম্বাইয়ের পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। অথচ এই মালিঙ্গা তার তৃতীয় ওভারে বেদড়ক পিটুনি খান। তার করা ম্যাচের সেই ১৬ নম্বর ওভার থেকে চেন্নাই ২০ রান তুলে নেয়। ১ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে আসা সেই ২০ রানের মধ্যে ১৯ রানই ওয়াটসনের। ভীষণ খরুচে সেই মালিঙ্গই শেষ ওভারে এসে ফাইনালের হিরো।

ক্রিকেট আসলে যতটুকু কেড়ে নেয়, ফিরিয়েও দেয় তার অনেক বেশি! মালিঙ্গা এখন নিশ্চয়ই তাই বলবেন!

ওয়াটসন ছাড়া চেন্নাইয়ের আর কোনো ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে যে কিছুই করতে পারেননি। ইনিংসের মাঝপথে মহেন্দ্র সিং ধোনি ২ রানে রানআউট হওয়ার পর চেন্নাই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। তবে ওয়াটসনের ব্যাটিং কারিশমায় ম্যাচে ফিরে। কিন্তু লড়াইটা শেষ করে দিতে আসতে পারলেন না ওয়াটসন। শেষ ওভারের লড়াইয়ে ঠিকই ম্যাচের সব হিসেব বদলে দিলো মালিঙ্গার ম্যাজিক!

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে যেভাবে শুরু করেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাতে মনে হচ্ছিল বিশাল যোগাড়ে নেমেছে তারা ফাইনালে। শুরুর চারটা বিগ শটের চারটাই ছক্কা! কুইন্টন ডি ককের ব্যাটে যেন ঝড়! দুঃশ্চিন্তার রেখা ধোনির মুখে। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই ফের ধোনির মুখে স্বস্তির হাসি ফিরে এল। দুই ওপেনারকে পাওয়ার প্লে’তে হারাল মুম্বাই। ১৭ বলে ২৯ রান করে প্রথমে আউট হলেন ডি কক। দীপক চাহার পাওয়ার প্লেতে উইকেট শিকারের অভ্যাসটা ধরে রাখলেন ফাইনালেও।

দুই ওপেনারকে ৪৫ রানে হারানোর পর মুম্বাইয়ের শুরুর ব্যাটিং ঝড় স্থিমিত হয়ে গেল। মিডলঅর্ডারও ব্যর্থ। সুর্যকুমার যাদব, ক্রুনাল পান্ডে ও ঈশান কিষান চটজলদি ফিরে এলেন। হার্দিক পান্ডেও সিঙ্গেল ডিজিটের স্কোরে ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু সুরেশ রায়না সহজ সেই ক্যাচ হাতে নিয়েও ফেলে দিলেন! তবে সেই সুযোগটা বেশি কাজে লাগাতে পারেননি হার্দিক পান্ডে। ১০ বলে ২১ রানে দীপক চাহার তাকে তুলে নিলেন নিজের শেষ স্পেলে।

একমাত্র কাইরন পোলার্ড একপ্রান্ত থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করায় মুম্বাইয়ের স্কোর গিয়ে পৌঁছায় ১৪৯ রানে। ৩ ছক্কা ও ৩ বাউন্ডারিতে ২৫ বলে অপরাজিত ৪১ রান করেন পোলার্ড। ফাইনালে সেটাই মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করে চেন্নাই সুপার কিংস। দীপক চাহার ১৯ নম্বর ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে দু’টি উইকেট তুলে নেন। ২৬ রানে ৩ উইকেট শিকারি দীপক চাহার ফাইনালে চেন্নাইয়ের সেরা বোলার।

ইমরান তাহির ও শার্দুল ঠাকুর দু’টি করে উইকেট নিয়ে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। হায়দরাবাদের এই মাঠে ১৩৭ রানের জমা নিয়েও এবারের আইপিএলে ম্যাচ জিতেছিল মুম্বাই। হারিয়েছিল তারা সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। তবে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং যে একটু বেশি শক্তপোক্ত। কিন্তু এবারো রানরক্ষা করল মুম্বাই। ম্যাচ জিতল ১ রানে। তাও আবার ফাইনালে!

এই নিয়ে আইপিএলের ফাইনালে মুম্বাই-চেন্নাই মুখোমুখি হয়েছিল চারবার। তাতে তিনবারই জিতল মুম্বাই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স: ১৪৯/৮ (২০ ওভারে, ডি কক ২৯, রোহিত ১৫, সুর্যকুমার ১৫, ঈশান ২৩, পোলার্ড ৪১*, হার্দিক ১৬, চাহার ৩/২৬, ঠাকুর ২/৩৭, তাহির ২/২৩)। চেন্নাই সুপার কিংস: ১৪৮/৭ (২০ ওভারে, দুপ্লেসি ২৬, ওয়াটসন ৮০, ব্রাভো ১৫, বুমরা ২/১৪, চাহার ১/১৪, মালিঙ্গা ১/৪৯)। ফল: মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১ রানে জয়ী।

আপনার মতামত লিখুন :

লর্ডসেই জেসন রয়ের টেস্ট অভিষেক!

লর্ডসেই জেসন রয়ের টেস্ট অভিষেক!
আইরিশদের বিপক্ষে টেস্ট দলে ডাক পেলেন জেসন রয়

ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন বিশ্বকাপে। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সংগ্রহ করেছেন ৪৪৩ রান। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে রেখেছেন অগ্রণী ভূমিকা। সুবাদে এ টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান ডাক পেলেন টেস্ট ক্রিকেটে। তা আবার প্রথবারের মতো।

২০১৫ সালে ৮ মে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ডাবলিনে রয়ের ওয়ানডে অভিষেক। আর টি-টুয়েন্টিতে রঙিন জার্সিতে দেশের হয়ে মাঠে নামেন তার আগের বছর। বার্মিংহামে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে। কিন্তু এতো দিনেও তার লাল বলের ক্রিকেটের খেলা হয়নি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য ঘোষিত দলে ডাক পেয়েছেন রয়। সব কিছু ঠিক থাকলে লর্ডসে হয়ে যাবে তার টেস্ট অভিষেক। তার মতো সমারসেট অলরাউন্ডার লুইস গ্রেগরিও প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে জায়গা করে নিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট শিকারি জেমস অ্যান্ডারসনও দলে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। যদি চলতি মাসের শুরুর দিকে তিনি কাফ ইনজুরিতে পড়েছেন। অলরাউন্ডার বেন স্টোকস ও উইকেটরক্ষক জস বাটলার খেলছেন না আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে।

তবে দল থেকে ছিটকে গেছেন ফাস্ট বোলার মার্ক উড ও জোফরা আর্চার। দুজনেই পেশিতে টান পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ডারহামের উডকে চার-ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। রোববার ফাইনালে চোট পান তিনি। অ্যাশেজ সিরিজকে সামনে রেখে বিশ্রামে রাখা হয়েছে আর্চারকে।

২৪ জুলাই লর্ডসে আইরিশদের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। এবারই প্রথম ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে মুখোমুখি হচ্ছে দুদল। ১ আগস্ট থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ শুরুর আগে হোম সামারে এটাই ইংল্যান্ডের প্রথম লাল বলের ম্যাচ।

বিশ্বকাপ জয়ী অনেক ক্রিকেটার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট থেকে বিশ্রাম পেলেও ১৬ জনের প্রাক-অ্যাশেজ অনুশীলন ক্যাম্পে রয়েছে তারা।

আয়ারল্যান্ড টেস্টে ইংল্যান্ড দল: জো রুট (অধিনায়ক), মঈন আলি, জেমস অ্যান্ডারসন, জনি বেয়ারস্টো, স্টুয়ার্ট ব্রড, ররি বার্নস, স্যাম কুরান, জো ডেনলি, লুইস গ্রেগরি, জ্যাক লিচ, জেসন রয়, ওলি স্টোন এবং ক্রিস ওকস।

প্রাক-অ্যাশেজ ক্যাম্পে ইংল্যান্ড দল: জো রুট (অধিনায়ক), মঈন আলি, জেমস অ্যান্ডারসন, জনি বেয়ারস্টো, স্টুয়ার্ট ব্রড, ররি বার্নস, জস বাটলার, স্যাম কুরান, জো ডেনলি, লুইস গ্রেগরি, জ্যাক লিচ, জেসন রয়, বেন স্টোকস, ওলি স্টোন, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।

খুলনার হয়ে মাঠ মাতাবেন ওয়াটসন

খুলনার হয়ে মাঠ মাতাবেন ওয়াটসন
খুলনা টাইটানসে নাম লেখালেন শেন ওয়াটসন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ২০১৬ সালে। তবে ক্রিকেটে ঠিকই ব্যস্ত রেখেছেন নিজেকে। খেলছেন ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে। তার অংশ হিসেবে এবার বাংলাদেশেও আসছেন শেন ওয়াটসন। আগামী বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খুলনা টাইটানসের হয়ে খেলবেন এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার।

এ বছরই বিগ ব্যাশ সরিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। হাতে এখন অফুরন্ত সময় ওয়াটসনের। তাইতো খুলনার প্রস্তাবে হাসিমুখেই হ্যাঁ বলে দিলেন তিনি।

খুলনা টাইটানস বৃহস্পতিবার তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সুখবরটা দিয়ে লিখেছে, ‘গর্বের সঙ্গে আপনাদের সামনে শহরের নতুন টাইটানকে উপস্থাপন করছি। অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন খুলনা টাইটানসের সরাসরি বিদেশি চুক্তির একজন ক্রিকেটার হিসেবে বিপিএল ২০১৯-২০ মৌসুম খেলবেন।’

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে শুরু হবে বিপিএল। মাস পাঁচেক আগেই বিশ্বকাপ জয়ী অলরাউন্ডার ওয়াটসনকে দলে টানল খুলনা।

এদিকে খুলনায় নাম লিখিয়ে ৩৮ বছর বয়সী ওয়াটসনও দিলেন একটি ভিডিও বার্তা। তিনি বলেন, ‘আমি শেন ওয়াটসন। আমার কাছে দারুণ এক রোমাঞ্চকর খবর আছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আসন্ন মৌসুমে খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলতে আসবো আমি। বিপিএলে খেলতে যারপরনাই রোমাঞ্চিত হয়ে আছি। বিপিএল এমন একটা টুর্নামেন্ট- যেখানে সবসময় খেলতে চেয়েছি। শেষ পর্যন্ত সুযোগটা হয়েই গেল।’

খুলনা গত আসরে লিগ পর্ব টপকাতে পারেনি। এবার সেই ব্যর্থতা সামলে শিরোপা জেতার জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র