Alexa

ডাবল সেঞ্চুরির ‘গল্পটা’ শোনালেন সৌম্য

ডাবল সেঞ্চুরির ‘গল্পটা’ শোনালেন সৌম্য

ইতিহাস গড়লেন সৌম্য সরকার

ত্রৈমাসিকে ভাল ফল নয়। অর্ধবার্ষিকীর ফলও সন্তোষজনক কিছু নয়। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষার ফল যখন বেরুলো দেখা গেলো-ছেলেটা সবাইকে ছাড়িয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে বসেছে!

এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে নিজের পারফরমেন্সকে ঠিক এমন বিস্ময়কর ব্যাখায় ফেলতে পারেন সৌম্য সরকার। টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচের আগে তার ফর্ম নিয়ে সবাই এতোই দুঃশ্চিন্তায় ছিলো প্রতিদিনই সৌম্য সম্পর্কে বিষয় শেষ হতো একটা প্রশ্নে-‘ছেলেটা ফর্মে নেই। কি যে হবে?’

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে লিগে নিজের প্রথম ১১ ম্যাচে সৌম্যের ব্যাটে বলার মতো কোন রান নেই। ম্যাচ জয়ী ইনিংস তো দুরের কথা! কোন হাফসেঞ্চুরি পর্যন্ত নেই। সর্বোচ্চ রান ছিলো ৪৩। বেশ কয়েকটি ম্যাচে শুরুটা ভালো হলেও ৩০/৪০ এর ঘরে শেষ সেই ভালো ইনিংস। তাই প্রায় প্রতি ম্যাচ শেষেই সৌম্য ফিরছেন মাথায় দুঃশ্চিন্তা নিয়ে এবং বাকিদের দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়ে!

তবে সবার চিন্তা দুর করে দিলেন সৌম্য লিগের শেষ দুই ম্যাচে। এই দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি। দুই ম্যাচেই ম্যাচসেরা। রূপগঞ্জকে হারানোর ম্যাচে ১০৬ রান। আবাহনী জিতলো সেই ম্যাচ বড় ব্যবধানে। আর মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) লিগের শেষ ম্যাচে সৌম্য ব্যাট হাতে যা করলেন তাতেই রচিত বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস।

করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। হাঁকালেন রেকর্ড ১৬ ছক্কা। আবাহনী এই ম্যাচও জিতলো সহজেই। এবং ট্রফি নিয়ে উল্লাস মাতলো দল। ম্যাচ শেষে নিজের বাজে সময় এবং ভালো সময়ের ব্যাখায় সৌম্য সরকার বলছিলেন-‘আমার ব্যাটিংয়ের কোন কিছু বদল হয়নি। আমার ব্যাটিং আমার কাছেই আছে। আগের ম্যাচগুলোয় রান করিনি। এখন করছি। আক্ষেপ হচ্ছিলো শুরুতে ৩০/৪০ রান করে আউট হচ্ছিলাম। মাঝে কিছু ম্যাচে ১,২, ০ রানেও আউট হয়েছি। পরে মনে হলো, ১,২ বা শূন্য রানের চেয়ে ৩০/৪০ রান ভালো। ওটাতে আগে ফিরতে হবে। যখন ৩০/৪০ রান করেছি, তখন মনে হয়েছে আজ এই রানে আর ফেরা যাবে না। আজ ৫০ করতেই হবে। এভাবেই মাঠেই পরিকল্পনা করেছি। আগে থেকে পরিকল্পনা করে গেলে কিছুই হচ্ছিলো না যে! এই ম্যাচে উইকেট ভালো ছিলো। সুযোগ ছিলো বড় রান করার।’

ওয়ানডে ম্যাচে খেলতে নামলে সবাই হয়তো বড় রানের স্বপ্নই দেখে। সেঞ্চুরির চিন্তা করে। কিন্তু তাই বলে একেবারে ডাবল সেঞ্চুরি! সৌম্যের এমন কোনো চিন্তা ছিলো না-‘১৯০ রানের আগ পর্যন্ত তো ডাবল সেঞ্চুরির চিন্তাই ছিলো না। তারপর থেকে একটু একটু করে স্বপ্নটা এলো। তখন মনে হলো না, এই সুযোগ ছাড়া যাবে না। যে কোনো উপায়ে করতেই হবে। একটু নার্ভাসনেসও কাজ করছিলো। শেষ পর্যন্ত তো হয়েই গেলো।’

১৫৩ বলে অপরাজিত ২০৮ রান। ১৪ বাউন্ডারি ও ১৬ ছক্কার সৌম্য সরকারের এই ইনিংস বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে গল্প করার মতো অনেক উপাদান রেখে গেলো!

আপনার মতামত লিখুন :