Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হঠাৎ ক্রিকেট থেকে অবসরে নাজমুল

হঠাৎ ক্রিকেট থেকে অবসরে নাজমুল
খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানলেন নাজমুল হোসেন
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় দলে তাকে সবশেষ দেখা গেছে ২০১২ সালে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকলেও মাঝে ৬ বছর কেটে গেল! ডাক পাননি জাতীয় দলে। অবশ্য ইনজুরিও বেশ ভুগিয়েছে তাকে। বছর চারেক আগে অভিমানে গুডবাই বলেছিলেন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের দলগুলো মূল্যায়ন করছে না- এমনই অভিযোগে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রিকেট থেকে। কিছুদিন পরই সিদ্ধান্ত পাল্টে নামেন মাঠে। তারপরও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এ কারণেই এবার হঠাৎ বিদায় বলে ফেলেছেন নাজমুল হোসেন।

যদিও তার বয়স মাত্র ৩১। তারপরও ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন এই পেস বোলার। মঙ্গলবার মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, ‘নিয়মিত না হলেও দলের সঙ্গে ছিলাম প্রায় ১১ বছর। অপারেশন শেষে ২০১৪ থেকে আমি লড়ে যাচ্ছি। তখনই সরে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছি। আসলে আমার ক্যারিয়ারটাই অন্যরকম। প্রথম টেস্টের ৭ বছর পর দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছি। আপনারাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন এরপর এরকম গ্যাপ হলে কি করবেন? আমি বলেছিলাম ক্যারিয়ার শেষ! দেখুন ক্যারিয়ার শেষই হয়ে গেল!’

তবে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে বেশ ভেবেছেন তিনি। নাজমুল জানাচ্ছিলেন, ‘এক বছর ধরে আমি এটা নিয়ে চিন্তা করছি। আমি সাকিব, রিয়াদ ও মুশফিকের সঙ্গে কথা বলেছি। মাশরাফি ভাই ও রাজ্জাক ভাইয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সবকিছু বিবেচনা করে মনে হয়েছে আমার জাতীয় দলে কোন ভবিষ্যত নেই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/23/1556016765250.jpg

নাজমুলের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০০৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু ওয়ানডে ক্রিকেটে পথচলা। বার্মিংহামে সেই ম্যাচে কোন উইকেট না পেলেও ৬ ওভারে খরচ দেন মাত্র ১৭ রান। ২০০৪ থেকে ২০১২ ছিলেন জাতীয় দলে। এরমধ্যে ৮ বছরে এই পেসার খেলার মাত্র ৩৮ ওয়ানডে। ৩১.৫০ বোলিং গড়ে নিয়েছে ৪৪ উইকেট।

উত্থান-পতনের সেই ক্যারিয়ারের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে মঙ্গলবার নাজমুল বলছিলেন, ‘আকরাম ভাই, সুমন ভাই, সুজন ভাইদের মতো লিজেন্ডদের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। আমি সত্যিই ভাগ্যবান। মাশরাফি ভাই, সাকিব, তামিম ওদের সঙ্গেও খেলতে পেরেছি। রফিক ভাইয়ের কথাও বলতে হবে। সব মিলিয়ে বলবো না পাওয়ার চেয়ে পেয়েছি বেশি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/23/1556016786844.jpg

টেস্টে অভিষেক ২০০৪ সালে, প্রতিপক্ষ ভারত।  দুই ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষটা খেলেন ২০১১ সালে। পাকিস্তানের বিপক্ষে। সব মিলিয়ে শিকার করেছেন ৫ উইকেট। নাজমুল আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৪টি। নিয়েছেন ১ উইকেট।

খেলা ছাড়লেও ক্রিকেই জড়িয়ে থাকতে চান নাজমুল। বয়সভিত্তিক দলের পরামর্শক হিসেবে থাকবেন। আবার কাজ করতে চান পেসারদের নিয়েও। বিদায় বেলায় বলছিলেন, ‘ঈদের পর শুভাশিষ, শহিদ, আল আমিন, তাসকিন এরকম ১০ জন পেস বোলারকে নিয়ে আমি কাজ করতে চেয়েছি। আমি চাই ওরা যেন আমার মতো হারিয়ে না যায়। আমি উত্তরাতে ছোট খাটো একটা একাডেমি করেছি। সবাইই কমবেশি সাহায্য করছে। লেভেল ১ কোর্স করবো, বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি এরপর লেভেল ২ ও করবো। কাজ করে যদি দুই তিনটা বোলার বের করে নিয়ে আসতে পারি তাহলে দেশের জন্য ভালো।’

এর অর্থ ক্রিকেটার অধ্যায় শেষে কোচ হয়েই আসছেন নাজমুল হোসেন!

আপনার মতামত লিখুন :

চাকরি বাঁচাতে পারলেন না হাথুরুসিংহে!

চাকরি বাঁচাতে পারলেন না হাথুরুসিংহে!
লঙ্কান কোচের চাকরি হারালেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে

বলা হচ্ছিল-বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজই কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। এরপরই শ্রীলঙ্কা দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হবে তাকে। গুঞ্জনটা এবার সত্যি হল।

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য কোচ হাথুরুসিংহেকে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী। শুক্রবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) কর্মকর্তারা খবর নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষে শুধু প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই নন, সঙ্গে সহকারী কোচরাও চাকরি হারাবেন। এসএলসির বিভিন্ন সূত্র এমনটিই জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসএলসির এক কর্মকর্তা জানান, ক্রীড়া মন্ত্রী হারিন ফার্নান্ডো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ শেষে কোচদের চলে যেতে হবে। ফার্নান্ডো আসলে বিশ্বকাপের আগেই পুরো কোচিং স্টাফ পাল্টে ফেলতে চেয়ে ছিলেন।

চাপে থাকা কোচ হাথুরসিংহে বিশ্বকাপ শেষে কলম্বোতে ফিরে সাংবাদিকদের গত সপ্তাহে জোর দিয়েই জানিয়ে ছিলেন, চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করে তবেই চাকরি ছাড়বেন তিনি, ‘আমার চুক্তির মেয়াদ এখনো ১৬ মাস বাকি। প্রত্যাশা করছি, চুক্তি শেষ না হওয়া পর্যন্ত থেকে যাব।’

বাংলাদেশের কোচ হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে তিন বছর কাটানোর পর দেশে ফেরেন হাথুরুসিংহে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে তার হাতে দলের দায়িত্ব দিয়ে সমস্যায় পড়ে যায় এসএলসি। দেশ ও দেশের বাইরে ভারতের কাছে বাজে ভাবে টেস্টে হারে তারা। খারাপ খেলতে থাকে একদিনের ক্রিকেটেও। হাথুরুসিংহের অধীনে তাদের উল্লেখযোগ্য টেস্ট জয় বলতে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর ৯ ম্যাচে মাত্র তিন জয়ে ষষ্ঠ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে শ্রীলঙ্কা।

মেয়াদ শেষে ফিল্ডিং কোচ স্টিভ রিক্সন, ব্যাটিং কোচ জন লুইস, ফাস্ট বোলিং কোচ রামেশ রত্ননায়েকের চুক্তিও নবায়ন করবে না বোর্ড।

শনিবার শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২১ এপ্রিল আত্মঘাতি বোমা হামলায় ২৫৮ নিহত হওয়ার পর প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দল হিসেবে দ্বীপ রাষ্ট্র সফরে যাচ্ছে টাইগাররা। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ২৬ জুলাই মাঠে গড়াবে সিরিজ। শেষ হবে ৩১ জুলাই।

আইসিসি হল অব ফেমে শচীন

আইসিসি হল অব ফেমে শচীন
আইসিসি হল ফেমে অভিষিক্ত শচীন টেন্ডুলকার, ছবি: সংগৃহীত

অনন্য এক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। বর্ণাঢ্য সেই ক্যারিয়ারে এ শত সেঞ্চুরির মালিক যে কত শত রেকর্ড গড়েছেন, ভেঙেছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বিশ্বকাপসহ জিতেছেন ভূরি ভূরি শিরোপা। সুবাদে দেশ ও দেশের বাইরে পেয়েছেন অঢেল সম্মান আর পুরস্কার।

কিংবদন্তি ক্রিকেট সম্রাট শচীনের মুকুটে এবার যুক্ত হল আরও একটি পালক। অভিষিক্ত হলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) হল অব ফেমে। ক্রিকেটে অসামান্য অবদান রাখার পুরস্কার হিসেবে এ সম্মাননা পেলেন মাস্টার ব্লাস্টার।

লিটল মাস্টারের সঙ্গে আইসিসি হল অব ফেমে ভূষিত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড ও দুই বারের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেটার ক্যাথরিন ফিৎসপ্যাট্রিক।

লন্ডনে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শচীনের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেয় ক্রিকেট দুনিয়ার অভিভাবক সংস্থা আইসিসি। অনুষ্ঠানে পরিবার ও কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ভারতের এ ক্রিকেট ঈশ্বর, ‘দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আমার পাশে যারা ছিলেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার মা-বাবা, ভাই অজিত ও স্ত্রী অঞ্জলি আমার শক্তির ভিত্তি। আমি সৌভাগ্যবান যে বাল্যকালে গাইড ও মেন্টর হিসেবে রামাকান্ত আচরেকারের মতো কোচকে পেয়েছিলাম।’

ভারতের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট (১৫,৯২১) ও ওয়ানডে (১৮,৪২৬) ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ডধারী শচীন এ সম্মান পেলেন। যে সম্মাননাটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবশেষ ম্যাচ খেলার কম করে হলেও পাঁচ বছর পর দিয়ে থাকে আইসিসি।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার ৫২ বছরের অ্যালান ডোনাল্ড ২০০৩ সালে অবসর নেওয়ার আগে ৩৩০ টেস্ট ও ২৭২ ওয়ানডে উইকেট নেন।

নারী ক্রিকেটে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ফিৎসপ্যাট্রিক। ওয়ানডেতে তার উইকেট ১৮০। আর টেস্টে ৬০টি। কোচ হিসেবে তিনি অস্ট্রেলিয়ান নারী ক্রিকেট দলকে উপহার দেন তিনটি বিশ্বকাপ ট্রফি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র