Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

আক্ষেপ হয়েই রইল জুভেন্টাসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

আক্ষেপ হয়েই রইল জুভেন্টাসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
গোলের পর আয়াক্সের উদযাপন, হতাশ রোনালদো
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইতালিয়ান ফুটবলে তাদের একচেটিয়া দাপট। এরইমধ্যে টানা সাতবার জিতেছে সিরি এ শিরোপা। অষ্টম ট্রফি জেতাও সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু ঘরের মাঠের সাফল্যে কিছুতেই মন ভরছিল না জুভেন্টাস কর্তাদের। তাইতো মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে রিয়াল মাদ্রিদ দলে টানে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। পর্তুগিজ এই প্লেমেকারের হাত ধরে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল তুরিনোর ওল্ড লেডি খ্যাত ক্লাবটি। সেই স্বপ্নপূরণের পথে দাপটে পথ চলা শুরু হয় দলটির। কিন্তু মঙ্গলবার থমকে গেলো জুভরা।

রোনালদোর গোলে সেমি-ফাইনালে ওঠার পথে একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল দল। কিন্তু দুর্দান্ত দক্ষতায় কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চমক দেখালো আয়াক্স। জুভেন্টাসকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত দলটি পেয়ে গেলো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালের টিকিট। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমের পর এবারই প্রথম সেরা চারে উঠে গেলো আয়াক্স।

অথচ রোনালদোরা ম্যাচটি খেলতে নেমেছিল জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে। মঙ্গলবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ২-১ গোলের জয়ে নতুন উচ্চতায় উঠে যায় আয়াক্স। প্রথম লেগ ম্যাচটি ছিল ১-১ ড্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555481935101.jpg

আয়াক্সের বিপক্ষে ফেভারিট হয়েই মাঠে নেমেছিল জুভেন্টাস। তাদের বিপক্ষে সবশেষ দশবারের লড়াইয়ে প্রতিবারই হোঁচট খেয়েছে ডাচ ক্লাবটি। এবার তারাই চমকে দিয়েছে। এমন কী দুর্দান্ত ফুটবল খেলে হাসি মুখে মাঠ ছেড়েছে দলটি।

অবশ্য খেলার ২৭ মিনিটে এগিয়ে যায় জুভরা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল টিকিয়ে রাখে দলটির সেমির স্বপ্ন। এনিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের রেকর্ড ১২৬ নম্বর গোলটি পেয়ে যান পুর্তগালের এই মহাতারকা। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ উপভোগ করতে পারেনি জুভেন্টাস। ৩৪তম মিনিটে সতীর্থ হাকিমের কাছ থেকে বল পেয়ে লক্ষভেদ করেন ফন দে বেক। গোলটি নিশ্চিত হতে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/17/1555481973758.jpg

বিস্ময়কর হলেও সত্য এরপর জুভেন্টাসকেই চাপে রেখেছে আয়াক্স। মনেই হয়নি প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচটি খেলতে নেমেছে দলটি। এমন কী ফিনিশিং ভাল হলে আরো বড় ব্যবধানেই জিততে পারতো তারা। এরমধ্যে ৬১তম মিনিটে রোনালদোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছ থেকে বল পেয়ে গোলের সুযোগটা হাতছাড়া করেন ময়জে কেন।

খেলার ৬৭তম মিনিটে এগিয়ে এসে এগিয়ে যায় আয়াক্স। গোলদাতা মাতাইস দি লিগট। এই গোলে ধরে রেখেই হাসি মুখে মাঠ ছাড়ে ডাচ চ্যাম্পিয়নরা। বিদায় নেয় জুভেন্টাস। একইসঙ্গে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলো আয়াক্স।

কান্না চেপে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরা। মিশনটা যে ব্যর্থই হয়ে গেলো!

আপনার মতামত লিখুন :

কেকেআরের বিশ্বকাপজয়ী কোচকে নিয়ে গেল সানরাইজার্স!

কেকেআরের বিশ্বকাপজয়ী কোচকে নিয়ে গেল সানরাইজার্স!
এবার নুতন ঠিকানায় ট্রেভর বেলিস

আগের দিনই বলা হয়েছিল বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডের কোচ ট্রেভর বেলিস নাম লেখাচ্ছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর)। সহকারী হিসেবে বেন্ডন ম্যাকালামের নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা না যেতেই কেকেআর থেকে বেলিসকে ছিনিয়ে নিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। টম মুডির পরিবর্তে আসছে মৌসুমে তাকে দলে নিয়েছে এই দলটির ফ্রাঞ্চাইজিরা।

ইংল্যান্ড সেমি-ফাইনালে উঠার পরই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিয়েছিলেন কোচ ট্রেভর বেলিস। তার দল বিশ্বকাপ জিতুক বা না জিতুক চাকরিটা আর করছেন না তিনি। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ মিশন শেষে সেটাই করলেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী কোচ এবার যোগ দিলেন আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদে।

খবরটা নিশ্চিত করে সানরাইজার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গভীর ভাবে চিন্তা-ভাবনা করে সানরাইজার্স প্রধান কোচের পদে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে টম মুডির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। ইংল্যান্ডের ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ ট্রেভর বেলিস সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।’

সানরাইজার্সে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার টম মুডির স্থলাভিষিক্ত হলেন বেলিস। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজ শেষে থ্রি-লায়নসের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন বেলিস।

মুডি সানরাইজার্সের কোচ হিসেবে যোগ দেন ২০১২ সালে। ২০১৩, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে দলকে প্লে-অফে নিয়ে যান। আর মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিং নৈপুণ্যে শিরোপা জেতেন ২০১৬ সালে।

এর আগে ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত কেকেআরের কোচের দায়িত্বে ছিলেন বেলিস । কলকাতার হয়ে সেসময় দুটি শিরোপাও জিতেন। বেলিস কাজ করেন বিগ ব্যাশ দল সিডনি সিক্সার্সের সঙ্গেও। ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা শ্রীলঙ্কার কোচও ছিলেন তিনি।

পরে এ অস্ট্রেলিয়ান কোচ ২০১৫ সালে মনোযোগী হন ইংল্যান্ডকে নিয়ে। শ্রীলঙ্কা দলে নিজের সহকারী পল ফারব্রেসের সঙ্গে জুটি বেঁধে ইংলিশ ক্রিকেট দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। চার দিন আগে সেই দলকে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপাও উপহার দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ জয়ের পরই গণমাধ্যমে গুঞ্জন রটে- কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছেন ট্রেভর বেলিস। যদিও এই খবরের সত্যতা মিলল না!

সুপার ওভার দেখতে গিয়ে মারা যান নিশামের কোচ

সুপার ওভার দেখতে গিয়ে মারা যান নিশামের কোচ
ডেভিড গর্ডন ও জিমি নিশাম, ছবি: সংগৃহীত

লর্ডসের অবিশ্বাস্য ও মহানাটকীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল হৃদ-কম্পন বাড়িয়ে দিয়েছিল ক্রিকেট প্রেমীদের। উচ্চ রক্তচাপে ভোগা বয়স্ক ও হৃদরোগীদের জন্য এমন স্নায়ুচাপ ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ প্রায়ই প্রাণঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাস্তবে হয়েছেও তাই। ফাইনালের সুপার ওভার খেলার সময়ই মারা গেছেন কিউই অলরাউন্ডার জিমি নিশামের সাবেক কোচ ডেভিড গর্ডন।

এমনিতেই অকল্পনীয় ও অভাবনীয় হাইভোল্টেজ ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে জিমি নিশামের। হৃদয় ভেঙে হয়েছে চুরমার। তারওপর কোচের মৃত্যুর মতো বিয়োগান্তক খবর হজম করতে হল নিউজিল্যান্ডের এ তারকা ক্রিকেটারকে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে সুপার ওভারে মার্টিন গাপটিলের সঙ্গে দলকে যখন জেতানোর চেষ্টা করছিলেন নিশাম, তখন তার হাইস্কুল শিক্ষক ও বাল্যকালের কোচ ডেভিড গর্ডন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ছিলেন গর্ডন। তার মৃত্যু নিয়ে কন্যা লিওনি বলেন, ‘ফাইনাল ওভার, সুপার ওভারে একজন নার্স আসেন। ওই নার্স বলেন, আমার বাবার শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন এসেছে। জিমি নিশাম ছক্কা হাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

লিওনি জানান, তার বাবা ছিলেন একজন বিচিত্র রসিক মানুষ। রসবোধের সত্যিকারের এক চরিত্র। সব সময় ক্রিকেট খেলা দেখতে দেখতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে চাইতেন। বাস্তবে তিনি তেমনটাই করতে পেরেছেন।

টুইট বার্তায় প্রয়াত কোচকে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান জিমি নিশাম, লেখেন- ‘ডেভ গর্ডন, আমার হাই স্কুল শিক্ষক, কোচ ও বন্ধু। ক্রিকেটের প্রতি আপনার ভালোবাসা সংক্রামক। বিশেষ করে আমাদের জন্য। আপনার অধীনে যাদের খেলার সৌভাগ্য হয়েছে। এমন ম্যাচ নিয়ে আপনি যেভাবে স্তুতি গেয়ে গেছেন। নিশ্চিত আপনি গর্ব নিয়ে গেছেন। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ। শান্তিতে চির নিদ্রায় ঘুমান।’

জিমি নিশামের শ্রদ্ধাঞ্জলি বার্তা ছুঁয়ে গেছে গর্ডনের মেয়েদের মনকে, ‘বার্তাটি ছিল ভালবাসামাখা। আমার বাবা সব সময় জিমির খোঁজ খবর রাখতেন। তিনি একই সঙ্গে জিমির বাবার বন্ধুও ছিলেন। মন থেকে সব সময় জিমি নিশামকে ভালো জানতেন। তার জন্য আমার বাবা ছিলেন গর্বিত। স্বর্গে বসে তিনি অবশ্যই তার শিষ্যের ক্যারিয়ারকে অনুসরণ করবেন।’

নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রান তোলে ফাইনালটা টাই করে বসে ইংল্যান্ড। যেকারণে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। ইংলিশদের সমান ১৫ রান করে সেখানে টাই করে বসে কিউইরা। কিন্তু বাউন্ডারি বেশি হাঁকানোর সুবাদে প্রথম বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ইংল্যান্ড।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র