Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ব্যাটিং রেকর্ডের সঙ্গে ম্যাচও জেতালেন ফরহাদ রেজা

ব্যাটিং রেকর্ডের সঙ্গে ম্যাচও জেতালেন ফরহাদ রেজা
ফরহাদ রেজা : ২০ বলে ৫৬
স্পেশাল করেপসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সাধারণত ব্যাটিং অর্ডারের এতো উপরের দিকে ব্যাট করতে নামেন না ফরহাদ রেজা। এই ম্যাচে নামলেন। এবং নেমেই রেকর্ড! মাত্র ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। গড়লেন দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। তার আগে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেটে ১৯ বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটা ছিলো নাজমুল হোসেন মিলনের।

দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়া এই ম্যাচে শেষ ওভারে বল হাতেও কারিশমা দেখিয়ে দলকে ১ রানের জয় এনে দিলেন ফরহাদ রেজা। আগের রাতের বৃষ্টির কারণে এই ম্যাচ দেরিতে শুরু হয়। ৫০ ওভার থেকে ম্যাচ স্থির হয় ২৬ ওভারে।

প্রাইম দোলেশ্বরের ২৩৯ রানের জবাবে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব থেমে যায় ২৩৮ রানে।
 
 শেষ ওভারে ম্যাচ জিততে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের প্রয়োজন দাড়ালো রানের। ফরহাদ রেজার সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তানভীর হায়দার শেখ জামালকে জয়ের স্বপ্ন দেখান। কিন্তু চতুর্থ বলে তানভীরকে ফিরিয়ে দিয়ে ফরহাদ রেজা প্রাইম দোলেশ্বরকে আরেকবার ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। তার পঞ্চম বল থেকে সালাউদ্দিন সাকিল ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। শেষ বলে জিততে শেখ জামালের চাই ৬ রান। শেষ ব্যাটসম্যান খালেদ আহমেদ বাউন্ডারি হাঁকান। সেই সঙ্গে নাটকীয় ভঙ্গিতে ১ রানে ম্যাচ জিতে প্রাইম দোলেশ্বর।

ব্যাটে-বলে কৃতিত্ব দেখিয়ে দলকে জেতান অধিনায়ক ফরহাদ রেজা। ব্যাট হাতে ২০ বলে ৫৬ রান আর বোলিংয়ে ৩৫ রানে ৩ উইকেট। চলতি লিগে আরেকটি ম্যাচ নিজের নামে করে নিলেন ফরহাদ রেজা!
মিরপুরে টসে হেরে আগের রাতের বৃষ্টি ভেজা উইকেটে ব্যাট করতে নামে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। ২৬ ওভারের এই ওয়ানডে ম্যাচ প্রায় টি-টুয়েন্টিতে পরিণত হওয়ায় প্রাইম দোলেশ্বরও সেই আমেজ নিয়েই ব্যাট চালায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/01/1554121356209.jpg

শুরুর সঞ্চয়টা তাদের বেশ ভাল হয়। ওপেনার ইমরান উজ্জমানান করেন ৫৪ বলে ৭৫ রান। আরেক ওপেনার সাইফ হাসান ৪০ বলে ৩৬ করে ফিরেন। ওয়ানডাউনে সাদ নাসিমও মাত্র ৩৬ বলে ৫১ রান তুলে নিলেন। শুরুর এই তিন ব্যাটসম্যানের স্বাচ্ছন্দ্য ব্যাটিং দেখে ফরহাদ রেজা ব্যাটিং অর্র্ডারে প্রমোশন নিয়ে নামেন চারে। ব্যাস নেমেই শুরু করেন ব্যাট হাতে ঝড়! মাত্র ১৮ বলে তার হাফসেঞ্চুরি পুরো হলো তিন বাউন্ডারি ও পাঁচ ছক্কায়!

ইনিংসের শেষ ওভারে ফরহাদ রেজা যখন আউট হলেন তখন তার স্কোর ২০ বলে ৫৬ রান! প্রাইম দোলেশ্বর ২৬ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩৯ রানের মোটাতাজা রান যোগাড় করে।

রান তাড়ায় নেমে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের শুরুটা ভাল না হলেও মিডলঅর্ডারে অমিত মজুমদার (৪২ বলে ৪৪ রান), অধিনায়ক নূরুল হাসান সোহান (২০ বলে ৩৭ রান) ও জিয়াউর রহমানের ২১ বলে ৪৬ রানের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ জমিয়ে তোলে।

শেষ ৩০ বলে ম্যাচ জিততে শেখ জামালের প্রয়োজন দাড়ায় ৪৩ রান। হাতে জমা ৩ উইকেট। শেষ ১২ বলে সেটা কমে এলো ২৫ রানে। আর শেষ ওভারে লক্ষ্যটা স্থির হলো ১১ রানের। শেষের এই হিসেবটা প্রায় মিলিয়ে ফেলেছিলো শেখ জামাল। কিন্তু শেষ ওভারে এসে যে এবার বল হাতেও নায়ক হয়ে গেলেন ফরহাদ রেজা।

মিরপুরে রানোৎসবের এই ম্যাচ জিতলো প্রাইম দোলেশ্বর ১ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রাইম দোলেশ্বর: ২৩৯/৬ (২৬ ওভারে, ইমরান ৭৫, সাইফ ৩৬, সাদ নাসিম ৫১, ফরহাদ রেজা ৫৬, সালাউদ্দিন সাকিল ৩/৪০)। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব: ২৩৮/৯ (২৬ ওভারে, ইমতিয়াজ ৩৪, অজিত মজুমদার ৪৪, নূরুল হাসান ৩৭, জিয়াউর ৪৬, তানভীর ৩৬, ফরহাদ রেজা ৩/৩৫, আবু জায়েদ ৩/৪৮, আরাফাত ২/২১)। ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ১ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: ফরহাদ রেজা।

আপনার মতামত লিখুন :

ইমরুল-সাব্বিরদের ফের লজ্জায় ডুবাল আফগানরা

ইমরুল-সাব্বিরদের ফের লজ্জায় ডুবাল আফগানরা
টানা দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হতাশ করলেন ইমরুল কায়েসরা

সেই একই গল্প! ব্যর্থতার বৃত্তেই হাঁটছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। আরো একবার আফগানিস্তানের সামনে নাজেহাল ইমরুল কায়েসরা। আগের ম্যাচে দল হেরেছিল ১০ উইকেটে। এবার স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারাল আফগানিস্তান ‘এ’ দল।

রোববার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় আনঅফিশিয়াল ওয়ানডেতেও চেনা গেল না বাংলাদেশের তারকাদের। এনিয়ে টানা দুই ম্যাচ হারল তারা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল আফগানিস্তান। এর আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ তারা জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বিপক্ষে বেশ শক্তিশালী দল নিয়েই নেমেছিল বাংলাদেশ ‘এ’। দলে ইমরুল কায়েস, এনামুল হক, বিজয়, মোহাম্মদ মিঠুন ও সাব্বির রহমানদের সঙ্গে ফরহাদ রেজা, আবু জায়েদ রাহি, শফিউল ইসলাম, আবু হায়দার রনিরা ছিলেন। কিন্তু তাদেরও পাত্তা দেয়নি আফগানরা।

এদিন টস হেরে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ দল। ৫০ ওভারে তারা ৯ উইকেট হারিয়ে করে ২৭৮ রান। জবাবে নেমে ৪৯.১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে সফরকারীরা।

টস ভাগ্যটা সঙ্গে না থাকলেও ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ ছিল না। ৫৬ রানের জুটি গড়েন এনামুল ও ইমরুল। জাতীয় দলের মিশনে যোগ দেওয়ার আগে এনামুল তুলেন ২৪ বলে ২৬। এরপর ইমরুল ফেরেন ৪০ রানে।

দুই ওপেনারের পর কিছুটা সময় লড়াই করলেন মোহম্মদ নাঈমও। তবে ৪৯ রান তিনি ধরেন সাজঘরের পথ। মিঠুন ৯৪ বলে ৮৫ রান তুললে বাংলাদেশ পায় লড়াকু পুঁজি। শেষ দিকে ৩৮ বলে ৩৫ রান করেন সাব্বির।

জবাবে নামা আফগান দলকে অবশ্য শুরুতেই কোণঠাসা করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলীয় ২৮ রানে উদ্বোধনী জুটিতে ভাঙ্গন ধরান শফিউল ইসলাম। তারপর অবশ্য দারুণ লড়েছেন ইব্রাহিম জাদরান। তার ব্যাটে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা। ১৪৯ বলে ১২৭ রান করে তুলেন তিনি।

জিততে আফগানদের শেষ ২৩ বলে দরকার ছিল ৩৫ রান। আর বাংলাদেশের ৪ উইকেট। এ অবস্থায় সপ্তম উইকেট জুটিতে শরাফুদ্দিন আশরাফ ও ফজল নিয়াজাই হতাশ করেন স্বাগতিক বোলারদের। ৫ বল হাতে রেখেই দল পেয়ে যায় দারুণ এক জয়। ১৭ বল ৩৬ রান করেন আশরাফ। ৮ বলে ১৫ রানে অপরাজিত নিয়াজাই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ২৭৮/৯ (ইমরুল ৪০, এনামুল ২৬, মিঠুন ৮৫, নাঈম ৪৯, সাব্বির ৩৫, আফিফ ৮, রেজা ১, মেহেদি ১০, আবু হায়দার ৭*, শফিউল ০, আবু জায়েদ ১*; শিরজাদ ১/৫৪, আশরাফ ১/৩৭, করিম ৩/৪৩, ফজল ৩/৪৮)
আফগানিস্তান ‘এ’ দল: ৪৯.১ ওভারে ২৮১/৬ (রহমানউল্লাহ ২১, ইব্রাহিম ১২৭, উসমান ২৬, নাসির ১১, রাসুলি ৭, করিম ২৪, আশরাফ ৩৬*, ফজল ১৫*; শফিউল ২/৫৯, আবু জায়েদ ১/৫৮, রেজা ৪২/০, মেহেদি ০/৩৪, আবু হায়দার ১/৫৬, সাব্বির ১/১০)
ফল: ৪ উইকেটে জয়ী আফগানিস্তান ‘এ’ দল

ফাইনাল কাণ্ডে আম্পায়ার ধর্মসেনার ভুল স্বীকার

ফাইনাল কাণ্ডে আম্পায়ার ধর্মসেনার ভুল স্বীকার
ভুল মানলেও অনুতপ্ত নন কুমার ধর্মসেনা

মার্টিন গাপটিলের অনাকাঙ্ক্ষিত ওভারথ্রোতে বাড়তি চার রান পেয়েও লাভ হতো না ইংল্যান্ডের। স্বাগতিকরা নয় বিশ্বসেরা হতো নিউজিল্যান্ডই। যদি না মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ভুল করে এক রান বাড়তি দিতেন। অবশেষে শ্রীলঙ্কান ওই আম্পায়ার নিজের ‘ভুল’ স্বীকার করে নিয়েছেন।

১৪ জুলাই লর্ডসের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার আম্পায়ার মারাইস এরাসমাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা ধর্মসেনা বলেন, ‘টিভি রিপ্লে দেখার পর আমি মানছি ভুল হয়েছিল।’

ভুল মেনে নিলেও নিজের পক্ষে সাফাই গান ধর্মসেনা। শ্রীলঙ্কার সাবেক এ টেস্ট খেলোয়াড় সানডে টাইমসকে জানান, তার কাছে টেলিভিশন রিপ্লে দেখার সুযোগ ছিল না। যেখানে ধরা পড়ে ব্যাটসম্যানরা উইকেটের প্রান্ত সীমানা অতিক্রম করেননি, ‘মাঠে আমাদের জন্য টিভি রিপ্লের ব্যবস্থা ছিল না। তাই নিজের এ সিদ্ধান্তের জন্য আমি মোটেই অনুতপ্ত নই।’

মাঠের অন্য অফিসিয়ালদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নাকি ছয় রানের সংকেত দিয়ে ছিলেন ধর্মসেনা, ‘কমিউনিকেশন সিস্টেমে আমি লেগ আম্পায়ারের (এরাসমাস) সঙ্গে পরামর্শ করেছি। যা অন্য আম্পায়াররা ও ম্যাচ রেফারি শুনেছেন।’

ধর্মসেনা আরো যোগ করেন, ‘ম্যাচ অফিসিয়ালরা টিভি রিপ্লে পরীক্ষা করতে পারেননি। তারা সবাই নিশ্চিত করেন ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় রান পূর্ণ করেছেন। তখনই আমি আমার সিদ্ধান্তটা জানাই।’

ফাইনালের শেষ ওভারে গাপটিলের থ্রো স্টাম্পে না লেগে অলরাউন্ডার বেন স্টোকসের ব্যাট স্পর্শ করে ছুঁয়ে ফেলে বাউন্ডারি। কিন্তু দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় স্টোকস উইকেটের প্রান্ত সীমানাই স্পর্শ করেননি। কিন্তু তারপরও ধর্মসেনা ইংল্যান্ডকে পাঁচ রানের বদলে ছয় রান দিয়ে দেন।

আম্পায়ারদের ভুলটা প্রথম সবার নজরে আনেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আম্পায়ার সাইমন টফেল। তিনি ফক্স স্পোর্টস অস্ট্রেলিয়াকে জানান, আম্পায়াররা পরিষ্কার ভুল করেছেন। কারণ ব্যাটসম্যানরা দ্বিতীয় রান পূর্ণই করেননি।

৫০ ওভার খেলা শেষে নিউজিল্যান্ডের সমান ২৪১ রান তুলে ম্যাচ টাই করে ফেলে ইংল্যান্ড। ফলে শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে অবিশ্বাস্য ভাবে ইংল্যান্ডের সমান ১৫ রান তুলে টাই করে বসে নিউজিল্যান্ড। শেষে কিউইদের হৃদয় ভেঙে বাউন্ডারি হাঁকানোর হিসেবে এগিয়ে থেকে শিরোপা জিতে নেয় আয়োজকরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র