Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

ওপেনিংয়ে প্রমোশনটা চেয়ে নিয়েছিলেন এভান্স!

ওপেনিংয়ে প্রমোশনটা চেয়ে নিয়েছিলেন এভান্স!
লরি এভান্স: সুযোগ কাজে লাগালেন
স্পেশাল করেপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পাঁচ ম্যাচ কি সুযোগের জন্য যথেস্ট নয়?

অবশ্যই যথেস্ট। তবে যথেস্ট সেই সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও লরি এভান্স রান করতেই যে পারছিলেন না। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরির আগে এই টুর্নামেন্টে তার ব্যাটিংয়ের যে পাঁচটি ইনিংস রয়েছে সেটা তার ব্যাটসম্যানশিপের সংজ্ঞা কেড়ে নিচ্ছিলো! পাঁচ ম্যাচে সবশুদ্ধ ১৩ রান! তার দুটোতে আবার শূন্য! সর্বোচ্চ ১০। মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাকে এবারের বিপিএলে দলে নিয়েছে রাজশাহী। কিন্তু মিডলঅর্ডারে নেমে দলকে উদ্ধার করবেন কি? ব্যাট হাতে নিজেই দলের বোঝা বাড়াচ্ছিলেন ক্রমশ!

তাই ব্যাটিংয়ে জায়গা বদলের একটা পরিকল্পনা নেন এভান্স। এই নতুন জায়গায় বিনিয়োগটা দারুণ ডিভিডেন্ট দিলো। ৬১ বলে অপরাজিত ১০৪। চলতি টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত এই পারফরমেন্সের জন্য পেছনের বাজে দিনগুলোতে তাকে যারা সমর্থন দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান-‘পেছনের কয়েকটা ম্যাচে আমি কোন রানই পাইনি। তবে সেই সময়টায় আমি দলের বাকি সবার কাছ থেকেই ভাল সমর্থন পেয়েছি। এমনকি ইংল্যান্ড থেকেও আমাকে অনেকে বাজে ফর্মের সময়টা কাটিয়ে উঠার সাহস যুগিয়েছেন। আমিও এই সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসার একটা সুযোগ খুঁজছিলাম। নিজের ওপর আমার আস্থা ছিলো। একটাই ভাবনা ছিলো, সুযোগ পেলে সেটাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমি কখনোই চাই না আমার কারণে দল সমস্যায় পড়ক। বরং দলের সমস্যা সমাধানের চেষ্টাই থাকে আমার।’

আসলেও তাই। রাজশাহী কিংস ৬.১ ওভারে ২৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় সমস্যায় তো পড়েছিলো। ব্যাট হাতে নিজের ফর্মের সঙ্গে রাজশাহীর স্কোরবোর্ডেও বড় রান তোলার সমাধান করে দিলেন এই ডানহাতি।

হঠাৎ মিডলঅর্ডার থেকে ওপেনার হিসেবে প্রমোশন। আর প্রমোশন পেয়েই সেঞ্চুরি। জানা গেলো ব্যাটিংয়ের এই প্রমোশন নাকি নিজেই চেয়ে নিয়েছিলেন লরি এভান্স। সেই প্রসঙ্গে বললেন-‘ব্যাট হাতে মিডলঅর্ডারে নেমে আমি তো রানই পাচ্ছিলাম না। এই ম্যাচের পরিকল্পনার সময় আমি নিজেই কোচকে বলি ব্যাটিংয়ে আমার জায়গাটা বদলে দেয়া যায় কিনা। আমি নিজেই ওপেনিংয়ে নামতে চাই। কোচকে আমার পরিকল্পনার কথা বলি। কোচও সেটা মেনে নেন। ব্যাটিং করার সময় জানতাম এটা আমার জন্য বড় একটা সুযোগ। এই সুযোগ যেন এবার কাজে লাগাতে পারি, সেই চিন্তাই ছিলো মাথায়। ভাল লাগছে পরিকল্পনাটা সফল হওয়ায়।’

আপনার মতামত লিখুন :

অবৈধ বিজ্ঞাপনে ছবি, তাসকিন বললেন প্রতারণা!

অবৈধ বিজ্ঞাপনে ছবি, তাসকিন বললেন প্রতারণা!
ইবনে সিনা লাইফ কেয়ারের সেই অবৈধ বিজ্ঞাপনের ছবি -বার্তা২৪

ইবনে সিনা লাইফ কেয়ার?

টেলিফোনের ওপার থেকে বিস্ময় মাখা সুরে তাসকিনের পাল্টা প্রশ্ন-এরা কারা?

জানানো হলো-রাজশাহীতে এই নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাসকিনের ছবি ব্যবহার করেছে হারবাল ব্যবসার বিজ্ঞাপনে। চটকদার ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে পুরো বিজ্ঞাপনে। আর সেই বিজ্ঞাপনে তাসকিনের হাস্যোজ্জ্বল একটা ছবি আছে এক কোনায়। অর্থাৎ তাসকিনকে রীতিমতো এই হারবাল বিজ্ঞাপনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দেখানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এর কাছ থেকে এই তথ্য জানতে পেরে তাসকিন অবাক। বললেন, ‘আমি তো এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কখনো কথাই বলিনি। কাউকে চিনিও না। চুক্তি টুক্তি করার তো প্রশ্নই আসে না। এটা স্রেফ আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নাম ও ছবি ব্যবহার করে আমার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি প্রয়োজন হলে আইনের আশ্রয়ে নেব।’

বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এর রাজশাহীর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট হাসান আদিব সর্বপ্রথম এই বিষয়টি নজরে আনেন। তিনি জানান-জাতীয় দলের ক্রিকেটার তাসকিন আহমেদের ছবি ব্যবহার করে রাজশাহী জুড়ে চলছে হারবাল ব্যবসা। ইবনে সিনা লাইফ কেয়ার মেডিকো নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের বিজ্ঞাপনে তাসকিনের এই ছবি ব্যবহার করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডের এক পাশে বড় করে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তাসকিনের ছবি আছে। তাতে লেখা, স্থায়ী সুন্দর স্বাস্থ্যবান হউন- বডি প্লাস সেবনে। কোর্স- ৯৯০ টাকা। ৭ দিনে যৌন রোগের স্থায়ী সমাধান সেবন করুন-ফুর্তি প্লাস। কোর্স ১২৯০ টাকা। পাইলস? বিনা অপারেশনে অশ্ব গেজ চিকিৎসা ১০০% নিশ্চিত ফলাফল।

রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই, ডাশমারী, বিনোদপুর, বর্ণালীর মোড়, মনিচত্ত¡র, সাধুর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ছে এমন বিজ্ঞাপন। যা নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতুহল এবং হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কেউ কেউ বলছেন, তাসকিনের অনুমতি ছাড়াই এই প্রতিষ্ঠান হয়তো বিজ্ঞাপনে তার ছবি ব্যবহার করেছে। যা অনুচিত।

যোগাযোগ করা হলে ইবনে সিনা লাইফ কেয়ার মেডিকো’র পক্ষ থেকে ডা. হৃদয় ইসলাম বলেন, ‘ক্রিকেটার তাসকিনের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই ছবি ছেপেছি। তিনি এ বিষয়ে অবগত। আমরা তার সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করেছি। তার অনুমতি নিয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের পোস্টার দেড়শ করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা হাজারের মতো পোস্টার ঝুলিয়েছি।’

তাসকিন এমন কোনো বিজ্ঞাপনে অনুমতি দেওয়ার বিষয় পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানকে কী করে ধরা যায়, তার একটা উপায় বলেন প্লিজ!’

বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ‘ক্রিকেটাররা তাদের ভালো মন্দ বোঝে। কে কোন বিজ্ঞাপন করবে সেটা তো বিসিবি চূড়ান্ত করে দিতে পারে না। তবে তাসকিন যদি মনে করে তার সঙ্গে কেউ বিজ্ঞাপন নিয়ে প্রতারণা করেছে তাহলে বিসিবি তাকে পরামর্শ দেবে, মামলা করতে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে।’

সাইফ-শান্তদের হতাশ করে সিরিজ শ্রীলঙ্কার

সাইফ-শান্তদের হতাশ করে সিরিজ শ্রীলঙ্কার
সিরিজ জয়ী শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল

অলিখিত ফাইনালে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি! সাইফ হাসানের শতরান দিন শেষে ম্লান। পাথুম নিশানকার টর্নেডো গতির শতরানে বাজিমাত শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দলের। শনিবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দলকে (এইচপি) অনায়াসে হারিয়ে সিরিজ জিতল সফরকারীরাই।

খুলনার শেখ আবু নাসের চৌধুরী স্টেডিয়ামে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে ৭ উইকেটে জিতেছে লঙ্কানরা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে হেরে হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। কেননা, এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নিয়েছে শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল।

সকালে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬৯ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। সাইফের ব্যাটে সেঞ্চুরি আর আফিফ হোসেন করেন ফিফটি। এরপর জবাবে নেমে বৃষ্টির বাধায় শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮ ওভারে ১৯৯ রান। কিন্তু ২৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে সফরকারীরা।

শুরুতে ব্যাট করতে নেমে মোহাম্মদ নাঈমের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বিসিবি এইচপি দল। অবশ্য এরপরই এরপরই নাজমুল হোসেন শান্ত-সাইফ জুটিতে দল সামলে উঠে ধাক্কা! দু'জন যোগ করেন ৭৪ রান। কিন্তু এরপরই অধিনায়ক শান্ত ফেরেন ৩৯ রানে। তাকে অনুসরণ করে ইয়াসির আলী (৬) দ্রুত ফিরলে চাপে পড়ে দল।

ঠিক তখনই সাইফ ও আফিফের ব্যাটে ফের পথ খুঁজে নেয় এইচপি দল। চতুর্থ উইকেট জুটিতে তারা করেন ১২৫ রান। সাইফ দারুণ দক্ষতায় পেয়ে যান সেঞ্চুরি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566658428574.jpg

১৩০ বলে করেন ১১৭। ৪ চার ও ৭ ছক্কায় সাজানো ছিল সাইফের ইনিংস। আফিফ ৭০ বলে করেন ৬৮ রান। ১৩ রান আসে ইয়াসিনের ব্যাটে।

কিন্তু এরপরই বৃষ্টিতে সর্বনাশ। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্যটা বড় ছিল না। এরমধ্যে ওপেনার নিসানকার সেঞ্চুরি ও মিনোদ ভানুকার ব্যাটে পথ খুঁজে নেয় সফরকারীরা। ৩২ বলে ৫৫ রান তুলেন ভানুকা। অন্যদিকে ৭৮ বলে ১১৫ রানে অপরাজিত থেকে হাসিমুখে মাঠ ছাড়েন নিসানকা।

সিরিজসেরার পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশ দলের সাইফ হাসান। খেলা শেষে পুরস্কার তুলে দেন খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসএম মোর্ত্তজা রশিদী দারা।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ। এবার চারদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল। মঙ্গলবার খুলনাতেই শুরু হচ্ছে প্রথম চার দিনের ম্যাচ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল: ৫০ ওভারে ২৬৯/৫ (সাইফ ১১৭, নাঈম ৬, শান্ত ৩৯, ইয়াসির ৯, আফিফ ৬৮*, জাকির ৭, ইয়াসিন ১৩*; ফার্নান্দো ১/৪৮, পেরেরা ২/৪৭, রমেশ মেন্ডিস ১/৪৪, হাসারাঙ্গা ১/৫৮)
শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল: (লক্ষ্য ২৮ ওভারে ১৯৯) ২৪ ওভারে ১৯৯/৩ (নিসানকা ১১৫*, বোয়াগোদা ১২, আসালঙ্কা ২, ভানুকা ৫৫, কামিন্দু মেন্ডিস ৫*; ইয়াসিন ১/২৯, রবিউল ১/৩৯, আমিনুল ১/৩২)
ফল: শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে শ্রীলঙ্কা ইমার্জিং দল ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যাচসেরা: পাথুম নিসানক

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র