Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবল পাকিস্তান

হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবল পাকিস্তান
প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কোন প্রতিরোধই গড়তে পারল না সরফরাজ আহমেদের দল। আগের দুই টেস্টে হেরে সিরিজ জেতার সম্ভাবনা শেষ হয়েছিল আগেই। জোহানেসবার্গে ছিল হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই। কিন্তু সেই আগের মতোই ব্যর্থতা সঙ্গী সফরকারীদের। জোহানেসবার্গে সোমবার হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবেছে পাকিস্তান।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টটি ১০৭ রানে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। সব মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।

অবশ্য জোহানেসবার্গে শুরুটাই বাজে ছিল পাকিস্তানের। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংসে ২৬২ রান তুললেও সফরকারীরা অলআউট ১৮৫ রানে। তারপর স্বাগতিকরা তুলে ৩০৩। জিততে সরফরাজদের সামনে দাঁড়ায় ৩৮১ রানের বড় লক্ষ্য। অবশ্য সেই চ্যালেঞ্জে বেশ ভালই লড়ছিল। ৩ উইকেটে ১৫৩ রান তুলে জবাব দিচ্ছিল পাকিস্তান। কিন্তু কে জানতো সেই ইনিংসটাই শেষ হয়ে যাবে ২৭৩ রানে!

বড় লক্ষ্যের সামনে টেস্ট ড্রয়ের সুযোগ ছিল না। কারণ হাতে ছিল দুই দিন। সোমবার চতুর্থ দিনে এ কারণেই আক্রমনাত্মক ক্রিকেটই বেছে নেয় সরফরাজ আহমেদের দল। আসাদ শফিক ৪৮ ও বাবর আজম ১৭ রান নিয়ে শুরু করেন। কিন্তু দিনের শুরুতেই বাবর আজমকে (২১) সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন ডোয়াইন অলিভিয়ের। এরপরই সরফরাজ আহমেদকে (০) তিনিই বিদায় করলে মহা বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান।

সেই ধাক্কা আর সামলে উঠা হয়নি। এর মধ্যে আসাদ শফিক তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তিনি শুধু হারের ব্যবধানটাই কমাতে পেরেছেন। শেষ অব্দি ৬৫ রানে ফিরেন আসাদ। তারপর সাত নম্বরে নেমে যা একটু লড়লেন শাদাব খান। অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ১১০ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন শাদাব।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে তিনটি করে উইকেট শিকার করেছেন ভারনন ফিলেন্ডার ও ডোয়াইন অলিভিয়ের। ডেল স্টেইনের শিকার দুই উইকেট। তিন ম্যাচ সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে সিরিজসেরা অলিভিয়ের। সেঞ্চুরিয়ান কুইন্টন ডি ককের জোহানেসবার্গ টেস্টের ম্যাচসেরা।

সোমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে সুখবরই পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্রোটিয়ারা। সাতে নেমে গেল পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিস: ২৬২/১০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ১৮৫/১০
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৩০৩/১০
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৬৫.৪ ওভারে ২৭৩/১০ (শফিক ৬৫, আজম ২১, সরফরাজ ০, শাদাব ৪৭*, আশরাফ ১৫, আমির ৪, হাসান ২২, আব্বাস ৯; স্টেইন ২/৮০, ফিল্যান্ডার ১/৪১, অলিভিয়ের ৩/৭৪, রাবাদা ৩/৭৫)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১০৭ রানে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা
ম্যাচসেরা: কুইন্টন ডি কক
সিরিজসেরা: ডোয়াইন অলিভিয়ের

আপনার মতামত লিখুন :

পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা?

পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলবে শ্রীলঙ্কা?
শ্রীলঙ্কাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। সিরিজটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় হোম সংযুক্ত আরব আমিরাতেই খেলার কথা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বিদেশের মাটিতে নয়। খেলতে চাচ্ছে নিজেদের দেশের মাটিতে। এজন্য শ্রীলঙ্কাকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পাকিস্তানের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রস্তাবটা একেবারে বাতিলও করেনি। নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত জানাবে তারা।

সিঙ্গাপুরে এশিয়া কাপ মিটিং থেকেই দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে আলোচনা চলছে। লন্ডনে সদ্য শেষ হওয়া আইসিসির বার্ষিক সভায়ও এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে দুপক্ষ। লাহোর ও করাচির নিরাপত্তা পরিকল্পনা পরিদর্শন করতে  নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল পাঠাবে শ্রীলঙ্কা। প্রতিনিধি দলের প্রতিবেদন হাতে পেলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে এসএলসি।

যদি পাকিস্তানের মাটিতে খেলতে শ্রীলঙ্কা রাজি হয়ে যায়। তাহলে এটা হবে ২০০৯ সালে লাহোরে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচের আয়োজন।

২০০৯ সালে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাটা হয়েছিল পাকিস্তান সফরত শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলের ওপর। হামলায় নিরাপত্তা কর্মীসহ নিহত হয় আটজন। আহত হয় কয়েকজন লঙ্কান ক্রিকেটার। এর পর ক্রিকেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পাকিস্তান। এবং নিজেদের সব হোম সিরিজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেই খেলে যাচ্ছে তারা।

ছয় বছর পাকিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচই হয়নি। গত চার বছরে কৌশলে অবশ্য কিছু ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তান ঘরের মাঠে। তবে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন এখনো অনেক দূরের ব্যাপার।

২০০৯ সালের সেই কালো অধ্যায়ের পর আইসিসির প্রথম পূর্ণ সদস্য হিসেবে জিম্বাবুয়ে পাকিস্তান সফর করে ২০১৫ সালে। ২০১৭ সালের মার্চে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে হয় পাকিস্তান সুপার লিগের ফাইনাল।
পরে সেপ্টেম্বরে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি খেলতে যায় বিশ্ব একাদশ। একই বছর শ্রীলঙ্কার টি-টুয়েন্টি দল একটি ম্যাচ খেলতে সফর করে পাকিস্তান।

টি-টুয়েন্টিতে নারিন-পোলার্ডের প্রত্যাবর্তন

টি-টুয়েন্টিতে নারিন-পোলার্ডের প্রত্যাবর্তন
ফের জাতীয় দলে কিয়েরন পোলার্ড ও সুনীল নারিন

প্রায় দুবছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টুয়েন্টি দলে ফিরলেন সুনীল নারিন। জাতীয় দলে এ তারকা স্পিনারের প্রত্যাবর্তনে সঙ্গী হয়েছেন কিয়েরন পোলার্ডও। ভারতের বিপক্ষে আসন্ন টি-টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে ডাক পেয়েছেন তারা।

তাদের সঙ্গে দলে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন অনভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যান্থনি ব্রামবল।

হাঁটুর ইনজুরির জন্য বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়ে ছিলেন আন্দ্রে রাসেল। এখনো সন্দেহ রয়েছে তার ফিটনেস নিয়ে। কিন্তু তারপরও দলে জায়গা করে নিয়েছেন তিনিও। তবে শর্ত আছে, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই কেবল খেলার সুযোগ মিলবে এ তারকা অলরাউন্ডারের।

কানাডা গ্লোবাল টি-টুয়েন্টিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় খেলছেন না ক্রিস গেইল। এই সুযোগে ওপেনিংয়ে তার জায়গায় দলে ঢুকে গেছেন জন ক্যাম্পবেল।

ক্যারিবিয়ানদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ছিলেন নারিন। কিন্তু আঙ্গুলের চোটের জন্য ৫০ ওভার ক্রিকেটের মহাযজ্ঞে অংশ নিতে ঠিক নিজের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি এ মেগাস্টার। তবে এ সিরিজে স্পিন আক্রমণে তার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন খারি পিয়ের।

আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় বসতে যাচ্ছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্বাচকদের দৃষ্টি তাই এখন ওই টুর্নামেন্টের দিকে। যেখানে তারা শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে।

লক্ষ্যটা সামনে রেখে দলের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের কাঁধে। ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে অবশ্য নেতৃত্ব দিয়ে ছিলেন জেসন হোল্ডার।

২৮ বছরের ব্রামবল গত তিন বছরের মধ্যে অফিসিয়াল কোনো টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। কিন্তু তারপরও নিকোলাস পুরানের উইকেটকিপিং ব্যাক-আপ হিসেবে দলে রাখা হয়েছে তাকে।

বিরাট কোহলির ভারতের বিপক্ষে লডারহিলে ৩ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে টি-টুয়েন্টি সিরিজ। একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি হবে ৪ আগস্ট।

৬ আগস্ট গায়ানার তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে দলে পরিবর্তন আনতে পারেন নির্বাচকরা। টি-টুয়েন্টি সিরিজের পর ভারতের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে উইন্ডিজ।

উইন্ডিজ টি-টুয়েন্টি দল
কার্লোস ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), অ্যান্থনি ব্রামবল (উইকেটরক্ষক), জন ক্যাম্পবেল, শেলডন কটরেল, শিমরন হেটমার, এভিন লুইস, সুনীল নারিন, কিমো পল, খারি পিয়ের, কিয়েরন পোলার্ড, নিকোলাস পুরান (উইকেটরক্ষক), রভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল ও ওশানে টমাস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র