Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

নেট বোলার থেকে ম্যাচে নেমে হ্যাটট্রিক!

নেট বোলার থেকে ম্যাচে নেমে হ্যাটট্রিক!
আল ইসলাম, অভিষেকেই হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব!
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জীবনের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই হ্যাটট্রিক! ভাবছেন বিস্ময়ের এখানেই শেষ। আরে নাহ্, এই প্রথম মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলেছেনও আল ইসলাম। এর আগে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। কিন্তু কখনো কোনো ম্যাচে খেলেননি!

বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসের ড্রাফটেও ছিলেন না তিনি। ছিলেন নেট বোলার! তো, নেটে তার বোলিং দেখে তাকে ডেকে নিলেন ঢাকা ডায়নামাইটের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। সেই প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, `নেট বোলিং করার সময় সুজন ভাই আমাকে দেখেন। আমার বোলিং দেখে ওনার পছন্দ হয়। আমাকে দলে নিলেন। ওনার বিশ্বাস হয় যে আমি পারবো। পুরো টিম ম্যানেজমেন্টও আমাকে সমর্থন দেয়। এই যে সবাই আমাকে সমর্থন দিয়েছে এটাই আমার সাফল্যের মূল কারণ।’

হঠাৎ করে নেট বোলার থেকে একেবারে বিপিএলের বড় মঞ্চে নেমে পড়ার শুরুর পর্বটা খুব একটা সুখের কিছু ছিল না আল ইসলামের। ম্যাচের সাত নম্বর ওভারের সময় তার হাতে বল তুলে দেন সাকিব। সেই ওভারে ৭ রান খরচা হয় তার। পরের ওভারেই অন্যভাবে ম্যাচে আলোচিত হন তিনি। শুভাগত হোমের করা ম্যাচের অস্টম ওভারে এক বলের ব্যবধানে দুই দুটো সহজ ক্যাচ ছাড়েন আল ইসলাম! তাও আবার একই জায়গায় দাড়িয়ে, শর্ট ফাইন লেগে। ব্যাটসম্যানও একই, মোহাম্মদ মিঠুন। এই দুটো ক্যাচ মিসের দৃশ্যই জানিয়ে দেয় পুরোপুরি নার্ভাসনেস পেয়ে বসেছে তাকে! ক্যাচ মিস করে হাসছেন, কিন্তু সেই হাসিতে ফ্যাকাশে হাসি!

এক ওভারে দুটো ক্যাচ মিসের সেই ‘দুর্ঘটনা’ প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, ‘এটা বিপিএলে আমার প্রথম ম্যাচ। আরেকটু বলতে গেলে এই স্টেডিয়ামে এটাই আমার প্রথম ম্যাচ! শুরুতে আমি একটু বেশিই নার্ভাস ছিলাম। এমন অবস্থায় আমি আবার দুটো ক্যাচও মিস করে ফেলি। তবে সেই কঠিন সময়ে আমার টিমমেটরা আমাকে সমর্থনই দিয়েছে। কোচও আমাকে সমর্থন দিয়েছে। মানষিক শক্তি যুগিয়েছে। এই সাহস পাওয়ার পর আমার মনে হয়েছে আমি যদি আবার ভাল বল করতে পারি তাহলে ভাল কিছু হতেও পারে। আমি সেটা মেনেই বল করে গেছি।’

আরও পড়ুন

ম্যাচের বাকি সময় আল ইসলাম যা করেছেন সেটাই তৈরি করলো নতুন ইতিহাস। বিপিএলে হ্যাটট্রিকের ঘটনা আরও আছে। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই হ্যাটট্রিক এই প্রথম দেখলো বিপিএল। একেবারে অজানা-অপরিচিত অফস্পিনার আল ইসলাম তার অভিষেক ম্যাচের জন্য এত রোমাঞ্চ জমিয়ে রেখেছিলেন কে জানতো?

বড় মঞ্চের ক্রিকেটে খেলতে এসেই হ্যাটট্রিক এবং ম্যাচ জয়ী পারফরমেন্স দেখানো ২৩ বছর বয়সি এই তরুণ নিজেই তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের কাহিনী বলছিলেন, ‘কাঠাঁল বাগান গ্রীন ক্রিসেন্ট ক্রিকেট ক্লাব থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করি। তারপর আমি কয়েকবছর দ্বিতীয় বিভাগে খেলার পর প্রথম বিভাগে খেলি ডিওএইচএসে। তারপর এই বিপিএলে খেলছি। আমি আসলে ঢাকার বাইরের কেউ না। সাভাররের বলিয়ারপুরে আমার বাসা।’

নাটকীয় হ্যাটট্রিকের সেই ওভার প্রসঙ্গে আল ইসলাম বলছিলেন, ‘সাকিব ভাই তখন আমাকে শুধু বলছিল ভাল বোলিং হচ্ছে, তুই শুধু ভাল জায়গায় বল করতে থাক। আমি সেটাই করে গেছি।’

জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ। সেই ম্যাচে বড় ঘটনা ঘটানোর নায়ক। সাকিব বনাম মাশরাফির হেভিওয়েট ম্যাচে সেরা হওয়া। প্রথম ম্যাচের পরেই সংবাদ সম্মেলনে আসা। বিস্ময়ের ঘোরে বাকি সবাই থাকলেও এই তরুণ সংবাদ সম্মেলন থেকে উঠে যাওয়ার সময় যা বললেন সেটাই জানান দিলো জীবনের প্রথম বড় ম্যাচ খেলতে নামলেও সামনের সময়ে আরও অনেক বড়কিছু করার অপেক্ষায় আল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে আল ইসলামের শেষ কথাটা ছিল, ‘আসলে হ্যাটট্রিক করা যায় না। হ্যাটট্রিক হয়ে যায়!’

গুড শো ইয়াং ম্যান

আপনার মতামত লিখুন :

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত নন ফিজিও

মাশরাফি-মাহমুদউল্লাহদের ফিটনেস নিয়ে চিন্তিত নন ফিজিও
ক্যাম্পে প্রথমদিনে হাসি-খুশি মেজাজে ইমরুল, রিয়াদ, মাশরাফি ও মুশফিক -বিসিবি

ফের মুখরিত হয়ে উঠেছে হোম অব ক্রিকেট! মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। প্রথম দিনে ফিটনেস ট্রেনিংয়েই ব্যস্ত ছিলেন মাশরাফি-মুশফিকুর রহিমরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট আর এরপরই ত্রিদেশীয় সিরিজ। দুই মিশনের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল।

ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নের অধীনে সোমবার সকালেই শুরু হয়ে যায় জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। যেখানে শুরুতেই থেকেছে ফিটনেস ট্রেনিং। কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অবশ্য নেই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। ছুটিতে আছেন তামিম। আর সাকিব রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। মাকে নিয়ে হজ করে এসেছেন তিনি। দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গেছেন মার্কিন মুল্লুকে। সেখান থেকে ২৪ আগস্ট ফেরার কথা তার।

তরুণ আর অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দল। এরমধ্যে শ্রীলঙ্কার ইমার্জিং দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলা বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ১০ তরুণ ডাক পেলেন ক্যাম্পে। তারা সিরিজ শেষেই যোগ দেবেন। তার আগেই অবশ্য টাইগাররা পেয়ে যাবে তাদের নতুন হেড কোচ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215066939.jpg

সবকিছু ঠিক থাকলে ২১ আগস্ট দলের সঙ্গে যোগ দেবেন রাসেল ডোমিঙ্গো। এরইমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বিসিবি। তার অধীনেই ৫ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের সঙ্গে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে টাইগাররা।

কন্ডিশনিং ক্যাম্পে প্রথম দিনই দেখা মিলল মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। যদিও টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি দলে নেই তিনি। তবে ফিটনেস ঠিক রাখতে আছেন দলের সঙ্গে। তার অবসর নিয়েও আছে গুঞ্জন। এরইমধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি থেকে দুই মাস সময় চেয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215082243.jpg

ক্যাম্পে সোমবার দেখা গেল মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও। কথা উঠল তাদের ফিটনেস নিয়েও। যদিও ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন এসব নিয়ে ভাবছেন না। প্রথম দিনের ক্যাম্প শেষে এই লঙ্কান বলছিলেন, ‘দেখুন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কোনো ওয়ানডে নেই। তাই মাশরাফির ফিটনেস নিয়ে আমরা খুব একটা উদ্বিগ্ন কিংবা চিন্তিত নই। হাতে ঢের সময় আছে। তাকে তার মতো করে ট্রেনিং করতে দেয়া উচিত।’

চোট ছিল জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের। তাদের নিয়ে ভিল্লাভারায়ন জানালেন, ‘দু'জনই এখন অনেকটাই সুস্থ। ফিটনেস লেভেল ভালো। অবশ্য ওদের নিয়ে আরও একটু কাজ করার দরকার আছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566215094439.jpg

মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের ইনডোরে সোমবার প্রথম দিন ‘ব্লিপ টেস্ট’ ও ফিটনেস ট্রেনিং করেন ক্রিকেটাররা। এভাবেই এই ক্যাম্প চলবে টানা চারদিন। যদিও এই অল্প সময় নিয়ে আপত্তি আছে ট্রেনারের।

ভিল্লাভারায়ন বলেন, ‘দেখুন, এই চারদিন মোটেও কন্ডিশনিং ক্যাম্পের জন্য যথেষ্ট নয়। কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা ন্যূনতম ১৫ দিন হলে ভালো হতো। সামনে যেহেতু টেস্ট চারদিনেই এটা শেষ করতে হবে।’

কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা-
ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, সাদমান ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিথুন, মোসাদ্দেক হোসেন, সাব্বির রহমান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী, শফিউল ইসলাম, ফরহাদ রেজা, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, আবু হায়দার রনি, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, আরিফুল হক, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, নাইম শেখ, নাইম হাসান,শহিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, ইয়াসিন আরাফাত মিশু, মেহেদি হাসান ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

৮.৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্নে কুতিনহো

৮.৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্নে কুতিনহো
ধারে বায়ার্ন মিউনিখে গেলেন কুতিনহো, ছবি: সংগৃহীত

বার্সেলোনা ছেড়ে ধারে বায়ার্ন মিউনিখে যাচ্ছেন ফিলিপ্পে কুতিনহো। খবরটা আগেই জানাজানি হয়েছে। কিন্তু চুক্তির বিস্তারিত কিছুই জানায়নি কোনো পক্ষ। এবার খবরটা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ।

চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ধারে বাভারিয়ানদের হয়ে খেলবেন ব্রাজিলিয়ান এ প্লেমেকার। ২০১৯-২০ মৌসুমের জন্য কুতিনহোকে দলে ভেড়াতে জার্মান চ্যাম্পিয়নদের খরচ হচ্ছে ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো (৭.৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড)।

বার্সেলোনা আরো নিশ্চিত করেছে, চলতি মৌসুম শেষে ১২০ মিলিয়ন ইউরোতে (১০৯.৮৪ মিলিয়ন পাউন্ড) আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার কুতিনহোকে স্থায়ী ভাবে রেখে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে বায়ার্নের সামনে।

অ্যালিয়াঞ্জ এরেনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর হাসান সালিহামিদজিক জানান, ‘বার্সেলোনার সঙ্গে আলোচনার সময় ফিলিপ্পে কুতিনহো আমাদের স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সে বায়ার্ন মিউনিখে স্থায়ী হতে ইচ্ছুক।’ আসলে লিওনেল মেসির ছায়া থেকে সরতেই বুন্দেসলিগায় গেলেন কুতিনহো।

সঙ্গে কুতিনহোর প্রশংসাও করেন সালিহামিদজিক, ‘অসাধারণ সামর্থ্য নিয়ে বিশ্বমানের একজন ফুটবলার সে। আক্রমণভাগে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম।’

বার্সায় নাম লেখানোর পর থেকে ২১ ম্যাচে ৭৬ গোল করেন ২৭ বছরের কুতিনহো। তবে শুক্রবার লা লিগার প্রথম ম্যাচে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে বার্সার হারের ম্যাচে মাঠে ছিলেন না তিনি।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ১৪২ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে ন্যু ক্যাম্পে যান কুতিনহো।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র