Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

এবার শুধু এমসিকিউ পদ্ধতিতে শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা

এবার শুধু এমসিকিউ পদ্ধতিতে শাবিপ্রবি’র ভর্তি পরীক্ষা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
শাবিপ্রবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের সম্মান প্রথম বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষা লিখিত হবে না। আগের নিয়ম অনুযায়ী শুধু বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে এই ভর্তি পরীক্ষা হবে।

শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) ১৫৭তম একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে আগামী বছর থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বছর সময় কম থাকায় সমন্বিত পরীক্ষায় যাওয়া সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নেয়।

একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং শেষে উপাচার্য জানান, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে আমাদের এই মুহূর্তে যাওয়া সম্ভব নয়। আগামী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলোচনা করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

এদিকে, এমসিকিউ পদ্ধতির পাশাপাশি এ বছর শাবিপ্রবি-তে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে, এমন খবর বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান, আমরা এ বছর বিগত বছরগুলোর মত এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেব। আগামীতে সমন্বিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে লিখিত হওয়ারও সম্ভবনা আছে।

আপনার মতামত লিখুন :

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৫ অক্টোবর, আবেদন শুরু ৩১ আগস্ট

বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা ৫ অক্টোবর, আবেদন শুরু ৩১ আগস্ট
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ২০১৯ - ২০২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। 

ভর্তি আবেদনের যোগ্যতা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদনের জন্য বেশকিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
* ২০১৬ বা ২০১৭ সালে মাধ্যমিক/ সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/ সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। 
* ২০১৬ সালে মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় এবং ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বা তার সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষার সংশােধিত ফলাফল ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখের পরে শিক্ষা বাের্ড থেকে প্রকাশিত হয়েছে তারাও আবেদন করতে পারবেন। 
* ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের নভেম্বর বা তার পরে জিসিই ‘O’ লেভেল এবং ২০১৮ সালের নভেম্বর বা তার পরে জিসিই ‘A’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রাপ্তরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবে। 
* যে সকল ছাত্র-ছাত্রী ইতােপূর্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে অথবা অংশগ্রহণের যােগ্যতা অর্জন করেছে তারা এই ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। 
* এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫.০০ স্কেলে কমপক্ষে জিপিএ ৪.০০ এবং এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ কমপক্ষে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে।  
* এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় গণিত, পদার্থ বিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিনটি বিষয়ে ৬০০ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ৪৮০ নম্বর পেতে হবে।
* ২০১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক/ সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখের পরে সংশােধিত ফলাফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ইংরেজী ও বাংলা বিষয় পাঁচটির মােট জিপি ন্যূনতম ২২.৫০ থাকতে হবে। 
* জিসিই ‘O’ লেভেল এবং জিসিই ‘A’ লেভেল পাশ করা প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জিসিই ‘O’ লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে পাঁচটি বিষয়ের (গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং ইংরেজিসহ) প্রতিটিতে কমপক্ষে B গ্রেড এবং জিসিই ‘A’ লেভেল পরীক্ষায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিন বিষয়ের প্রতিটিতে কমপক্ষে A গ্রেড পেয়ে পাশ করতে হবে। 

আবেদনের নিয়ম

ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে ugadmission.buet.ac.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এবং আবেদন ফি রকেট এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। ‘ক’ গ্রুপের আবেদন ফি ৯০০ টাকা এবং ‘খ’ গ্রপের আবেদন ফি ১১০০ টাকা।

আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নম্বরের ভিত্তিতে বাছাই করে প্রথম ১২ হাজার শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে। যারা আবেদন করবেন, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হবে না, তাদের আবেদনের সময় প্রদত্ত ফি হতে ২০০ টাকা সার্ভিস চার্জ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেয়া হবে।

একনজরে ভর্তি সংশ্লিষ্ট তারিখ ও সময়সূচী

  • অনলাইনে ভর্তি আবেদন গ্রহণ শুরু : ৩১ আগস্ট সকাল ১০টা
  • অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় : ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪:৩০টা পর্যন্ত
  • ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যােগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময় : ৫ অক্টোবর (শনিবার)
  • ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566369247686.jpg

ভর্তিযুদ্ধ!

ভর্তিযুদ্ধ!
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাঙ্গণে ডাক শোনা যাচ্ছে ভর্তি মওসুমের। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ঝাঁপিয়ে পড়বে ভর্তির জন্য। বিষয়টি এতোই কঠিন যে, শিক্ষার মতো একটি মহান প্রচেষ্টার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভর্তিযুদ্ধ’!

অতীতের অভিজ্ঞতায় বলা যায়, দেশব্যাপী শতাধিক প্রাইভেট ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাগলের মতো ছোটাছুটি শুরু করবে ভর্তিচ্ছুরা। আজকে ঢাকা, কালকে চট্টগ্রাম, পরশু সিলেট, তারপর দিন রাজশাহী ছুটতে হবে তাদের। সকালে এক নগরে পরীক্ষা সেরেই বিকেলেই আরেক নগরে ধাওয়া করতে হবে ভর্তি নামক সোনার হরিণের সন্ধানে। এমন পরিস্থিতি ‘ভর্তি যুদ্ধ’ নামে অভিহিত ছাড়া উপায় নেই!

ভর্তি, কেবল উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, নিম্নতর স্তরেও রণাঙ্গনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে লাখ লাখ ভর্তিচ্ছুর বিপরীতে আসন স্বল্পতার কারণে এমন উৎকট ও অসম প্রতিযোগিতার উদ্ভব হওয়াই স্বাভাবিক, যার ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীর সামনেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও সম্ভাবনা সঙ্কুচিত হয়ে আসে। অনেক মেধাবীই তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ঝরে যাবে। বিষয়টি অতীব দুঃখের ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছরই স্বল্প আসনের বিপরীতে কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক ভর্তিচ্ছু অংশ নেয়। এবারও এর ব্যতয় হবে না। ভর্তিচ্ছুদের সঙ্গে থাকেন আরো কয়েক লাখ উদ্বিগ্ন অভিভাবক। অসম লড়াইয়ে টিকতে ভর্তি পরীক্ষার বাইরেও অনেকে নানা পন্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। ফলে প্রকৃত মেধাবীদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে চাপ ও প্রভাবমুক্ত, অসুদপায়হীন, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে একটি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং কাজ।

প্রথমেই আসে নানা দিক থেকে চাপের প্রসঙ্গ, যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ভর্তি বাণিজ্য। ফন্দিবাজ নানা দল ও ব্যক্তি ভর্তি পরীক্ষায় চাপ দেওয়ার একটা সুযোগ খোঁজে। কখনো সফল হয়, কখনো হয় না। ভর্তি করানোর নামে বিভিন্ন পরিচয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও খবরে আসে।

এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় অসুদপায় অবলম্বনের বিভিন্নমুখী তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও প্রশ্ন ফাঁস করা হয়, কোথাও অতি অগ্রসর প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তর সরবরাহ করা হয়। সিট বণ্টন ও পরিদর্শনের শৈথিল্যের কারণেও কোথাও ভর্তি পরীক্ষার বিশুদ্ধতায় হানি ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করাও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তাদের সঙ্গে আসা বাবা-মায়েদের জন্য কিছু সুযোগ-সুবিধা রাখতে হয়। সামগ্রিকভাবে ভর্তিযজ্ঞ সামাল দিতে সংশ্লিষ্টদের যেমন সতর্ক ও হুঁশিয়ার হতে হয়, তেমনিভাবে তাদের অধিক পরিশ্রমও করতে হয়। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির নানা সুযোগ নিয়ে প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষায় বিপর্যয় ঘটানোর নানামুখী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য, অবিতর্কিত পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রকৃত মেধাবীদের নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে সীমাহীন চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালন করতে হয় ভর্তি সংশ্লিষ্টদের।

ভর্তি কার্যক্রমের দায়িত্ব পালনটি কেবল কঠিনই নয়, কখনো মনোযন্ত্রণাদায়কও বটে। কখনো দেখা যায়, পাঁচ বা দশ জন ছাত্র একই নম্বর পেয়েও আসন সঙ্কটের কারণে সবাই ভর্তির সুযোগটি পাচ্ছে না। আবার মাত্র এক বা আধা নম্বরের জন্য শত শত শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে। একই নম্বর পাওয়া বা মাত্র ১/২ নম্বরের বিবেচনায় মেধাবী-অমেধাবী নির্ধারণ করাটাও প্রশ্ন সাপেক্ষ। এমন কাজ কেবল কঠিনই নয়, মানবিক দিক থেকেও বেদনাদায়ক। ভর্তি কার্যক্রমে আসন স্বল্পতার কারণে এ রকম বহু বাস্তব সমস্যা ও অমানবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

প্রসঙ্গত বলা ভালো, কেবল অধিক নম্বর প্রাপ্ত বিদ্যার্থী উৎপাদনই উচ্চশিক্ষার কাজ নয়। কিংবা এক টুকরা কাগজের নাম উচ্চশিক্ষা নয়। শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ ও দক্ষ, কর্মমুখী জনশক্তি করাই শিক্ষা বা উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। শিক্ষার এই গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ দার্শনিক বক্তব্যকে বাস্তবায়িত করতে মেধাভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিক-স্বচ্ছ ভর্তি কার্যক্রম একটি জরুরি পূর্বশর্ত। সৎ, পরিশ্রমী, আনন্দময় জীবন ধারণ করে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার পথ রচনা করার প্রাতিষ্ঠানিক জরুরি কর্তব্য সম্পাদনের প্রথম ধাপই হলো ভর্তি পরীক্ষা। এখানে নজরদারি ও সতর্কতার প্রয়োজন সর্বাধিক। গোড়ায় গলদ হলে যেমন কোনো কাজই সঠিক হয় না, তেমনি ভর্তি পরীক্ষায় ত্রুটি থাকলে উচ্চশিক্ষার পরবর্তী পর্যায়গুলোও সুষ্ঠু হবে না।

এ কারণেই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সকলের এতো উদ্বেগ ও আগ্রহ। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, সব বিষয়েই ‘ফার্স্ট বয়’দের নিয়ে মাতামাতির আড়ালে বহু মানুষের ধারাবাহিক বঞ্চনার প্রতি ঔদাসীন্য যেন প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে না বসে। বিষয়টি নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনকেও পীড়া দিয়েছে, যা তিনি তাঁর সাম্প্রতিকতম গ্রন্থ 'দ্য কান্ট্রি অব ফার্স্ট বয়েজ'-এ উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া, উচ্চশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থী পাওয়ার পূর্বে আমাদের এটাও বিবেচনায় নিতে হবে যে, শিক্ষা বর্তমান যুগে বাণিজ্যিক বিপণনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং শিক্ষকরাও ছাত্রদের পাঠ-পরবর্তী জীবন সম্পর্কে উদাসীন। এমন মনোভাব মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের সময় উল্লেখিত পটভূমিটিও মাথায় রাখতে হবে। মেধাবীদের ভর্তি করবো, এটা খুবই ভালো কথা। যারা ভর্তি হতে পারবে না, তাদের ‘অমেধাবী’ সিল মেরে দূরে সরিয়ে দেওয়াও ঠিক হবে না। অমেধাবী বা যারা সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের জন্য কিছুই করবো না, এমন পরিস্থিতিও হতে দেওয়া যায় না। স্বল্পসংখ্যক আসনে অতি অল্পই ভর্তি হবে অত্যল্প আসন ও সুযোগের কারণে। বিপুল সংখ্যক যে ভর্তি হতে পারছে না, তাদের কথাও ভাবতে হবে। স্বল্পসংখ্যক মেধাবীকে সুযোগ দিয়ে বিশাল সংখ্যাকে বঞ্চিত ও অবজ্ঞা করার মাধ্যমে হতাশা ও অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি যেন কখনোই সৃষ্টি না হয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি অভিভাবকসমাজ ও সংশ্লিষ্টদের এসব কথাও ভাবতে হবে। নতুন সুযোগ ও ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে যুগের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে।

সামগ্রিকভাবে সংশ্লিষ্টরা এসব বিষয় ভাববেন বলেই সকলে আশা করেন। কারণ, বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে কিংবা অনাগতকালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রয়োজনে, এমন কি, আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিকসহ সার্বিক অগ্রগতির জন্য সকলের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করা অত্যাবশ্যক। বিপুল জনশক্তিকে মানবশক্তি ও সম্পদে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ারও শিক্ষা। জাতীয় প্রয়োজন ও চাহিদাকে সামনে রেখে সবার জন্য শিক্ষার একটি সম্ভাব্য ছক অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে, যাতে তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মেধাবীরা যেমন উচ্চতর স্তরে পৌঁছুবে, তেমনি অন্যরাও যথাযথ স্থান ও সুযোগ বঞ্চিত হবে না। কাউকে বাদ দিয়ে, জায়গা দিতে না পেরে বা অমেধাবী বলে সরিয়ে রাখা হবে না।

বাংলাদেশে বিরাজমান যুদ্ধংদেহী ভর্তি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে সুযোগ বৃদ্ধি ও বিকাশের চেতনা সবার মধ্যেই আসা অপরিহার্য। পাশাপাশি এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ভর্তি যুদ্ধ যেন রণাঙ্গনের মতো না হয়ে অ্যাকাডেমিক থাকে, সকলের জন্য যেন কম বা বেশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকে এবং অসুদপায়ের মাধ্যমে যেন প্রকৃত মেধাবীদের বঞ্চিত না করা হয়। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে জড়িতদের কাছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এটাই কামনা করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র