Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাবির শতাধিক ভবনের কোনোটিতে নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা!

জাবির শতাধিক ভবনের কোনোটিতে নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
মোহাম্মদ আলকামা
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনসহ ছোট-বড় শতাধিক ভবন রয়েছে। তবে এসব ভবনের কোনোটিতেই নেই অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। এছাড়া তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেই ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা।

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার, বৈদ্যুতিক অব্যবস্থাপনার কারণে শর্ট সার্কিট সহ যে কোন ভাবে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ফলে অগ্নি ঝুঁকিতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি ভবন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরে মোট ভবন রয়েছে ১২৭টি। এর মধ্যে ১৬টি আবাসিক হল, ১০টি একাডেমিক ভবন, দুটি প্রশাসনিক ভবন, একটি করে মেডিকেল সেন্টার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া, পরিবহন অফিস, ব্যায়ামাগার, গবেষণা কেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। এছাড়া উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের বাসভবনসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রায় ৯২টি আবাসিক ভবন রয়েছে। কিন্তু এসব ভবনের কোনটিতে অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকদের কোয়ার্টারের কোনো ভবনেই নেই অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা। ভবনগুলো যে কাঠামোতে তৈরি করা হয়েছে তাতে আগুন লাগলে দ্রুত সহায়তার কোনো মাধ্যমও নেই। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

এছাড়া বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভাগগুলোর গবেষণাগারে বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়। একটু অসতর্ক হলেই, মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। গবেষণাগারে আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের গবেষণাগারে কাজ করতে হয়।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রায় প্রতিটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করেন বৈদ্যুতিক হিটার। ফলে অপচয় হচ্ছে বিদ্যুৎ। এছাড়া অনিরাপদ এ বৈদ্যুতিক হিটারের মাধ্যমে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

এদিকে, গত ১৮ জুন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ ভবনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তে পুরো অনুষদ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভবনটি। তবে ভবন সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীরা জানান অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে রক্ষার জন্য প্রস্তুতি না থাকলে আগামীতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম মো. শরীফ বলেন, 'কোথাও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে কোনো নির্দেশনা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্দেশনা দিলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ক্রয় এবং স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'

তবে হলগুলোতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা কেন নেই এমন প্রশ্নের উত্তরে হল প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, 'হলগুলো প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক কিছুর ঘাটতি রয়েছে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা অবশ্যই দরকার। পরবর্তী হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের মিটিংয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করব। এছাড়া বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার খুব বিপদজনক। আমরা এগুলোর বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, 'পুরাতন কোনো ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। তবে সামনে যেসব নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে সেগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া পুরাতন প্রতিটা ভবনে যাতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয় সেই ব্যবস্থা নেব। অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত সহায়তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোন ফায়ার সার্ভিস টিম নেই তবে আমরা এসব ব্যাপারে শীঘ্রই কথা বলব।'

আপনার মতামত লিখুন :

ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার

ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার
ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সেমিনারে বক্তারা, ছবি: সংগৃহীত

‘জাগো তারুণ্য, রুখো জঙ্গিবাদ’ স্লোগানে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার।

সোমবার (২২ জুলাই) আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।

সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির উপাধাক্ষ্য আইনুন নাহার তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। জঙ্গিবাদের ফলে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তারা যে ইসলামের কত বড় শত্রু, তা আমাদের বোঝা দরকার।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, জঙ্গিবাদ হচ্ছে একটি পশ্চিমা ষড়যন্ত্র। ইসলামের নামে যারা জঙ্গি হচ্ছে, তারা নিজেদের ধংস করা ছাড়া আর কিছুই করছে না। তারা যে আত্মঘাতী হয়ে সুইসাইডাল অ্যাটাক করছে, সরাসরি জান্নাতের যাওয়ার আশায়, এটা বড় ভুল, মহাপাপ। কারণ ইসলামে বলা হয়েছে আত্মহত্যা মহাপাপ।

‘আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার মত মুসলিম দেশ ধ্বংসের দিকে চলে গেল জঙ্গিবাদের কারণে। এর পেছনে একটি মহলের স্বার্থ রয়েছে; কর্পোরেট বা ব্যবসায়িক স্বার্থ। যুদ্ধ লাগলে অস্ত্র বিক্রি হবে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে- মুসলিম দেশগুলোর অনেকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র কিনছে। লাভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রয়কারী দেশগুলো। এই বাজার যারা তৈরি করেছে লাভ তাদের ঘরেই যাচ্ছে।’

Suchinta Foundation

তিনি বলেন, মানুষকে অনেকভাবেই মোটিভেটেড করা যায়। মানুষ কখনও নিজেই অস্ত্র হয়ে ওঠে, আবার কখনওবা ফুল। নাইন ইলেভেনের সময় যে ছেলেরা আক্রমণ করেছিল, তাদের সবাইকে টেনিং দেওয়া হয়েছিল, মোটিভেটেড করা হয়েছিল আত্মঘাতী হয়ে উঠতে। মনে রাখতে হবে, জীবন একটাই, মানুষ একবারই পৃথিবীতে আসে। তাই নিজের প্রতি, নিজের পরিবারের প্রতি, চারপাশের মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের কিছু দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়াতে হবে প্রত্যেককে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সফলতার সাথে এদেশ থেকে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিমূর্ল করেছে। যে চেতনার ওপর ভর করে এদেশে জঙ্গিবাদ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, সেই চেতনাকে রুখতে এবং এর ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সামাজিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন যে কাজ করে যাচ্ছে সেজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের উচিৎ- এই ধরনের সামজিক সচেতনতায় অংশ নেওয়া। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সুচিন্তা’র গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেমিনারে সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন।

প্রজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা

প্রজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা
ঢাবির ঐতিহাসিক অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য, ছবি: সংগৃহীত

অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে গত দু’দিন ‘তালা লাগাও কর্মসূচি’ পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবনের গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অসহযোগ আন্দোলন করেন তারা।

সোমবার (২২ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) পূর্ণ সমর্থন দেয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান ডাকসু নেতারা।

কিন্তু রাতে নিউমার্কেট এলাকায় এক ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের পর এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজ অন্তর্ভুক্তির বিরোধীরা।

রাতেই আন্দোলনকারীরা এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

DU Clash

আন্দোলনের মুখপাত্র শাকিল মিয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার শিক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস ও ঘৃণ্য প্রতারণা করে আসছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

‘এমতাবস্থায় প্রশাসন সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করে লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে অসহযোগ আন্দোলন পালন করবে। লাগাও তালা, বাঁচাও ঢাবি, এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।’

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষার্থীকে নিউমার্কেট এলাকায় মারধর

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র