Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাবিতে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি

জাবিতে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি
জাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের সংবাদ সম্মেলন/ ছবি: বার্তা২৪.কম
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভূ-কাঠামো, প্রাণ- প্রকৃতি রক্ষার লক্ষ্যে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ।

বুধবার (১০ জুলাই) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পের অংশ হিসেবে হল নির্মাণের স্থান পুনঃনির্ধারণ, ‘মহাপরিকল্পনা’ জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা, ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ, ভূ-কাঠামো, প্রাণ-প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল, জিমনেসিয়াম পার্শ্ববর্তী লেক থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ হল পর্যন্ত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পেছনের এলাকা ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশকে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল ঘোষণা।

প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণ না করে প্রয়োজনে অনুষদ ভবনগুলোকে ঊর্ধ্বমুখে সম্প্রসারণ, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাইব্রেরি ভবন নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যার সাথে মিল রেখে বিভাগ, একাডেমিক ভবন, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবও অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করা যাবে এমন সমন্বিত পরিকল্পনাসহ একই নকশার অনুকরণ না করে দেশবরেণ্য স্থপতিদের দিয়ে নির্মিতব্য ভবনগুলোর স্বতন্ত্র নকশা তৈরি করা।

সংবাদ সম্মেলনে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন থাকুক। বিশ্ববিদ্যালয়কে যেন অপরিকল্পিত ও অবিচেনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে না হয়।’

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রত্যেকটা উন্নয়নমূলক কাজের একটি মাস্টার প্লান থাকে। যার একটি নকশা সবার সামনে প্রকাশ করা হয় এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই মাস্টার প্লান কাউকেই দেখায়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের কোষাধ্যক্ষ শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার

ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা’র জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার
ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সেমিনারে বক্তারা, ছবি: সংগৃহীত

‘জাগো তারুণ্য, রুখো জঙ্গিবাদ’ স্লোগানে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি উইমেনস ফেডারেশন কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার।

সোমবার (২২ জুলাই) আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা।

সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির উপাধাক্ষ্য আইনুন নাহার তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ধর্ম প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং অধিকার। সেই বিশ্বাস ও অনুভূতির জায়গাটিতে তারা আঘাত করছে ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থের লোভে। যার সঙ্গে ধর্মের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। জঙ্গিবাদের ফলে ইসলামকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। তারা যে ইসলামের কত বড় শত্রু, তা আমাদের বোঝা দরকার।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ বলেন, জঙ্গিবাদ হচ্ছে একটি পশ্চিমা ষড়যন্ত্র। ইসলামের নামে যারা জঙ্গি হচ্ছে, তারা নিজেদের ধংস করা ছাড়া আর কিছুই করছে না। তারা যে আত্মঘাতী হয়ে সুইসাইডাল অ্যাটাক করছে, সরাসরি জান্নাতের যাওয়ার আশায়, এটা বড় ভুল, মহাপাপ। কারণ ইসলামে বলা হয়েছে আত্মহত্যা মহাপাপ।

‘আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ার মত মুসলিম দেশ ধ্বংসের দিকে চলে গেল জঙ্গিবাদের কারণে। এর পেছনে একটি মহলের স্বার্থ রয়েছে; কর্পোরেট বা ব্যবসায়িক স্বার্থ। যুদ্ধ লাগলে অস্ত্র বিক্রি হবে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে- মুসলিম দেশগুলোর অনেকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র কিনছে। লাভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রয়কারী দেশগুলো। এই বাজার যারা তৈরি করেছে লাভ তাদের ঘরেই যাচ্ছে।’

Suchinta Foundation

তিনি বলেন, মানুষকে অনেকভাবেই মোটিভেটেড করা যায়। মানুষ কখনও নিজেই অস্ত্র হয়ে ওঠে, আবার কখনওবা ফুল। নাইন ইলেভেনের সময় যে ছেলেরা আক্রমণ করেছিল, তাদের সবাইকে টেনিং দেওয়া হয়েছিল, মোটিভেটেড করা হয়েছিল আত্মঘাতী হয়ে উঠতে। মনে রাখতে হবে, জীবন একটাই, মানুষ একবারই পৃথিবীতে আসে। তাই নিজের প্রতি, নিজের পরিবারের প্রতি, চারপাশের মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের কিছু দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়াতে হবে প্রত্যেককে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সফলতার সাথে এদেশ থেকে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নিমূর্ল করেছে। যে চেতনার ওপর ভর করে এদেশে জঙ্গিবাদ দানা বাঁধতে শুরু করেছিল, সেই চেতনাকে রুখতে এবং এর ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সামাজিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন যে কাজ করে যাচ্ছে সেজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের উচিৎ- এই ধরনের সামজিক সচেতনতায় অংশ নেওয়া। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সুচিন্তা’র গবেষণা সেলের পক্ষ থেকে আশরাফুল আলম শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সেমিনারে সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জব্বার হোসেন।

প্রজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা

প্রজ্ঞাপন না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের ঘোষণা
ঢাবির ঐতিহাসিক অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্য, ছবি: সংগৃহীত

অধিভুক্ত সাত কলেজ বাতিলের দাবিতে গত দু’দিন ‘তালা লাগাও কর্মসূচি’ পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের একাংশ। গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবনের গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অসহযোগ আন্দোলন করেন তারা।

সোমবার (২২ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) পূর্ণ সমর্থন দেয়। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান ডাকসু নেতারা।

কিন্তু রাতে নিউমার্কেট এলাকায় এক ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের পর এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজ অন্তর্ভুক্তির বিরোধীরা।

রাতেই আন্দোলনকারীরা এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে ঢাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

DU Clash

আন্দোলনের মুখপাত্র শাকিল মিয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার শিক্ষার্থীদের মিথ্যা আশ্বাস ও ঘৃণ্য প্রতারণা করে আসছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।

‘এমতাবস্থায় প্রশাসন সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করে লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি না করা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রেখে অসহযোগ আন্দোলন পালন করবে। লাগাও তালা, বাঁচাও ঢাবি, এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।’

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষার্থীকে নিউমার্কেট এলাকায় মারধর

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র