Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাবি সিনেটে ভিসিপন্থীদের ভরাডুবি, আস্থার সংকটে শিক্ষকদের একাংশ

জাবি সিনেটে ভিসিপন্থীদের ভরাডুবি, আস্থার সংকটে শিক্ষকদের একাংশ
জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত
জাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অধ্যক্ষ ক্যাটাগরিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক মনোনীত সিনেটে পাঁচটি ও সিন্ডিকেটে দুটি পদের নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে ভিসিপন্থী শিক্ষকদের জোট বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের। সিনেটে পাঁচটি পদের মধ্যে চারটি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ভিসি বিরোধী জোট 'সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ'র মনোনীত প্রার্থীরা। অন্যদিকে সিন্ডিকেটের দুটি পদের মধ্যে একটি করে পদে নির্বাচিত হয়েছেন উভয় জোট মনোনীত প্রার্থী।

গত সোমবার (১৭ জুন) একডেমিক কাউন্সিলের ১৩৫ তম সভার ১৬ ও ১৭ নং আলোচ্য সূচির কার্যক্রম হিসেবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডেকেট সভায় নির্বাচনের মাধ্যমে মনোনীত সদস্যদের স্ব স্ব পর্ষদে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ।

তবে এ নির্বাচন নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনার ঝড় উঠেছে। অধিকাংশ আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা ভিসির সঙ্গে একজোট হওয়ার পরও ভিসিপন্থীদের ভরাডুবি শিক্ষক রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষকদের ধারণা- আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি গ্রুপ ভিসিকে সমর্থন দিলেও ভোট দেয়নি। অনেক ভিসিপন্থী শিক্ষক সরাসরি দায়ী করেছেন তাদেরই একটি পক্ষকে।

ফলে নির্বাচনে পরাজয়ের পর উপাচার্যের আস্থার সংকটে পড়তে পারেন ভিসিপন্থী শিক্ষকদের উক্ত অংশ। এ অংশের অনেক শিক্ষক পূর্বে ভিসি বিরোধী জোট ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজে’র নেতৃত্ব স্থানীয় পদে আসীন ছিলেন। এ অংশের অন্যতম প্রধান ও ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’র আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার। গত এপ্রিল মাসে তিনি ভিসি বিরোধী শিক্ষকদের বিরাট একটি অংশ নিয়ে ভিসিপন্থী শিক্ষকদের জোটে যোগদান করেন।

ভিসিপন্থী অনেক শিক্ষকের দাবি, দলবদল করে সদ্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’ এ যোগদান করা এ সকল শিক্ষকেরা তাদের পূর্বের দলের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে চলেছেন।

তাদের দাবি দল পরিবর্তন করা ওই গ্রুপের নেতা অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার ও তার অনুসারী শিক্ষকদের অনেকে তাদের পূর্বের দল ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজে’র মনোনীত প্রার্থীদেরকে সমর্থন দিয়েছেন বলেই আজ এই ভরাডুবি। ভিসিপন্থী শিক্ষকদের একীভূত হওয়ার পর প্রথম নির্বাচনে আবারও ভিসিপন্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এ নির্বাচন ভিসিপন্থী শিক্ষক রাজনীতিতে ‘সন্দেহের কাদা’ ছোড়াছুড়ির আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে ভিসিপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার বলেন, 'আমরা যারা আগে থেকে উপাচার্যের সঙ্গে ছিলাম তাদের সঙ্গে সদ্য যোগ দেওয়া শিক্ষকদের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি অবশ্যই রয়েছে। এই ঘাটতির কারণেই হয়ত নির্বাচনে আমাদের ভরাডুবি হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে উপাচার্য যদি এখন থেকে সচেতন না হন তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দল পরিবর্তন করা ভিসিপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, 'যে সব শিক্ষকেরা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন তারা আসলে নিজেদের দুরবস্থা ঢাকতে চাচ্ছেন। আমাদের মধ্যে বিশ্বাসের কোন ঘাটতি নেই।'

এদিকে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সদস্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, 'যেসকল শিক্ষক আমাদের সাথে প্রতারণা করে উপাচার্যের দলে যোগ দিয়েছেন তারা যে উপাচার্যের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাদের প্রতারণার ফল উপাচার্য এখন নিজেই প্রত্যক্ষ করেছেন।'

এর আগে একাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট ও সিন্ডিকেট নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ বিএনপি ও বামপন্থী শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। এ বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ভিসিপন্থীদের ভরাডুবি হয়। বিরোধীদের আন্দোলন আরও তীব্র হলে এপ্রিল মাসে সরকারের চাপে আন্দোলন ছেড়ে আওয়ামীপন্থী অধিকাংশ শিক্ষক ভিসিকে সমর্থন দেন।

তবে ভিসি বিরোধী ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ এর নেতারা বলছেন, উপাচার্যের ‘অনৈতিক ও নানা অনিয়মের’ প্রতিবাদে সচেতন শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে তাদের সঠিক রায় দিয়েছেন। নির্বাচনে জয় লাভ করার পর সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সাথে উপাচার্যকে স্বৈরাচারিতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করতে আহ্বান জানান।

ভিসি বিরোধী জোটের সদস্য সচিব অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, 'আমাদের জোট বরাবরই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে। এই নির্বাচনে বিজয় আমাদের সামনের দিনগুলোতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে প্রেরণা যোগাবে।'

এদিকে ভিসি বিরোধী জোট তেকে সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক নেহাল আহমেদ (ঢাকা কলেজ)। সিনেটর হয়েছেন অধ্যাপক বেদৌরা বিন্তে হাবীব (নারায়ণগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজ), অধ্যাপক মো. ইসমাইল হোসেন (সরকারি তেলিগাতী কলেজ, নেত্রকোনা), অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম (টঙ্গী সরকারি কলেজ, গাজীপুর) ও অধ্যাপক গোলসান আরা বেগম (আর.এস. আইডিয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ)।

অন্যদিকে নির্বাচনে ভিসিপন্থীদের ব্যানার থেকে সিন্ডেকেট সদস্য হয়েছেন অধ্যক্ষ শেখ জুলহাস উদ্দীন (সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, ঢাকা), এছাড়া সিনেটর হয়েছেন অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান (আবদুর রউফ কলেজ, মানিকগঞ্জ)।

আপনার মতামত লিখুন :

আন্দোলনকারীরা তালা দিলে ভাঙতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ!

আন্দোলনকারীরা তালা দিলে ভাঙতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ!
তালা দিলে ভাঙতে প্রস্তুত ছাত্রলীগ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত তিন দিন ধরে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলনে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষাসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম।

আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবনে তালা লাগানোর ফলে অকার্যকর হয়ে পড়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবারও (২৪ জুলাই) রয়েছে আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি।

তবে ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের তালা ঝোলানো কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটাবে এমন কাজে বাধা প্রদান করার জন্য প্রস্তুত ঢাবি ছাত্রলীগ। বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রলীগ নেতা বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, 'আগামীকাল ভোর ৬টায় আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখতে তালা ঝোলাতে এলে তাদের বাধা প্রদান করা হবে। তাতে কাজ না হলে, যা করার তাই করতে হবে এমন নির্দেশনা রয়েছে।'

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা দেখা যায়। এক পর্যায়ে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। সে ঘটনা থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ছাত্রলীগ-আন্দোলনকারীরা

আরও পড়ুন: মার খাইতে অভ্যস্ত, প্রয়োজনে জীবন দেব: ভিপি নুর

ডাকসুর আখতারের ওপর হামলা: ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা

ডাকসুর আখতারের ওপর হামলা: ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা
ডাকসু সমাজ সেবা সম্পাদক আখতারের ওপর হামলায় নিন্দা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজ সেবা সম্পাদক আখতারের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ছাত্র ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক অপূর্ব রায় স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দার জানানো হয়।

এতে বলা হয়, 'সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের আন্দোলন চলাকালীন ডাকসুর সমাজ কল্যাণ সম্পাদকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। ক্যাম্পাসে যেকোনো ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনে বারবার ছাত্রলীগের পেশিশক্তির ব্যবহারে তারা সুন্দর-সুস্থ ক্যাম্পাসের যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে তার বিপরীত রূপ তুলে ধরে। আমরা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ, আজকের হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।'

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, 'আমরা আজ এও দেখেছি যে, শিক্ষার্থীরা বর্তমান বিতর্কিত ডাকসুর ডাকে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, এই ডাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে না; এই ডাকসু শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে (ডাকসু সাধারণ সম্পাদক বনাম সমাজ কল্যাণ সম্পাদক) মারামারিতে আজ লিপ্ত। শিক্ষার্থীদের এই সচেতনতায়, নিজেদের অধিকার বুঝে নেয়ার চেতনায় আমরা আশাবাদী হই।'

উল্লেখ্য যে, অধিভুক্তির এই আন্দোলন সাত কলেজ বিরোধী হয়ে ওঠায় এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে যেভাবে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান লক্ষ্য করছি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি। আমরা চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী এবং অধিভুক্ত সাত কলেজের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা সাপেক্ষে উভয় পক্ষের স্বার্থ ও অধিকার বিবেচনা করে উদ্ভূত সংকট নিরসন করবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র