Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

চবির প্রথম নারী উপাচার্য শিরীণ আখতার

চবির প্রথম নারী উপাচার্য শিরীণ আখতার
শিরীণ আখতার। ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চট্টগ্রাম


  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথম নারী উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও কাজের ধারাবাহিকতার স্বার্থে উপাচার্য পদে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. শিরীণ আখতার ওই দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে শিরীণ আখতার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম শহরের ঈদগাঁও এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ২০০৬ সালের ২৫ জানুয়ারি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। তার নিজের ১৪টি প্রবন্ধ, দেশ-বিদেশ থেকে প্রকাশিত গল্প, উপন্যাস ও গবেষণা প্রবন্ধ রয়েছে।

ড. শিরীণ আখতার ১৯৯১ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে বিএ অনার্স ও ১৯৮১ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। মেধাবী এ শিক্ষানুরাগী ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭৩ সালে কক্সবাজার সরকারি গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন।

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গঠিত সার্চ কমিটির একমাত্র নারী সদস্য ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পাওয়া প্রথম নারী উপাচার্য।

এদিকে, আগামী ১৫ জুন শেষ হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদ। বিগত সময়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন উপাচার্য নিয়োগ হলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন :

কুবি ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত না করতে আইনি নোটিশ

কুবি ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত না করতে আইনি নোটিশ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত না করতে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। গত ৩০ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন ১৩ জন বাদীর পক্ষে এ আইনি নোটিশটি পাঠান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিষয়টি এতদিন জনসম্মুখে আসেনি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, শিক্ষা সচিব, ভূমি সচিব,চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা পুলিশ সুপার, কোটবাড়ী পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়।

জানা গেছে, সংলগ্ন জমি থাকা সত্ত্বেও এক হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য অনেক দূরে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এমনকি ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য সংলগ্ন জমি অধিগ্রহণের দাবিতেই এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে দ্বিখণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ বর্জন করেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমান ক্যাম্পাসের সাথে নতুন ক্যাম্পাসের একটি সুপ্রশস্ত নিজস্ব রাস্তা করে দিবে এমন আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রভাবশালী মহলকে খুশি করতে আন্দোলনরত এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবি এড়িয়ে যান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৩ অক্টোবর ২০১৮ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)সভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক হাজার ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরে কুবিক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য কুমিল্লা সদর উপজেলার লালমাই মৌজার অন্তর্ভুক্ত ৭, ৯, ১২ ও ১৩ নং সিটের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, মূল ক্যাম্পাস থেকে তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

এদিকে, প্রকল্প পাসের পর থেকে প্রভাবশালী একটি মহল নতুন ওই এলাকায় জমি কিনতে শুরু করেছেন। যাতে জমি অধিগ্রহণের সময় তারা বেশি দামে জমি বিক্রি করতে পারেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র নেতারা জানান,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুকৌশলে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমান ক্যাম্পাস সংলগ্ন যাদের জমি আছে তারা জমি দিতে প্রস্তুত। এরপরও ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত চেষ্টা করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নোটিশদাতা আইনজীবী কামাল হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘নোটিশে ক্যাম্পাস দ্বিখণ্ডিত করার কার্যক্রম বন্ধ করতে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি নোটিশ গ্রহীতারা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মো. আবদুল মান্নান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমি এখনও লিগ্যাল নোটিশ পাইনি। তবে যদি ক্যাম্পাস সংলগ্ন পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যায় তাহলে কেন দূরে যাবে?’

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীকে একাধিক বার ফোর করেও পাওয়া যায়নি। তবে রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমরা আইনি নোটিশটি পেয়েছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী নোটিশের জবাব দেওয়া হবে।’

বেরোবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলা

বেরোবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলা
দাবি আদায়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান, চাকরি স্থায়ীকরণসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকাল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনরত কর্মচারীদের ওপর এ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে কয়েক দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কর্মচারীরা। এ সময় হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তাদের চার দফা দাবি মেনে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561467037988.jpg

জানা গেছে, আন্দোলনরত কর্মচারীরা দাবি আদায়ে মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিকালে পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক ভবনে লাগানো তালা হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন।

এ সময় কর্মচারীরা বাধা দিলে পরিস্থিত উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেছি। কিন্তু ভিসি দাবি না মেনে উল্টো ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561467059453.jpg

এ বিষয়ে কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুম খান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আমাদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে উল্টো শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে হামলা করা হলো। এটা অন্যায়। এখন ভিসি আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন।’

অন্যদিকে কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মাহবুবার রহমান বার্তা২৪.কম-কে জানান, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো সহযোগিতা বা আলোচনার ইঙ্গিত না দিয়ে শিক্ষার্থীদের লেলিয়ে আকস্মিকভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র তাবিউর রহমান প্রধানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র