Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নানা জটিলতায় বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন

নানা জটিলতায় বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় / ছবি: সংগৃহীত
নিজাম উদ্দিন শামীম
জবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই বিলম্বিত হতে পারে জকসু নির্বাচন।

২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। আর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ছাত্রসংসদের বিধানটি যুক্ত করা হয়নি। তাই আইনটি সংশোধন করে সেখানে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের বিধানটি যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেন।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিলে প্রশাসন তাদের সাময়িক আশ্বাস দেয়। বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেলে জকসু নিয়ে তারা আলোচনায় বসবে। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকসু নির্বাচন হয়ে গেলেও জকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের কোনো প্রদক্ষেপ নেই।

গত ১৬ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০তম সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জকসু নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও জকসু নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় জকসু নিয়ে আলোচনা করা হয়নি। কারণ জকসু নির্বাচনের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো খসড়া চূড়ান্ত হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিম্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে ডাকসুর আদলে নীতিমালা প্রণয়ন করে জকসু নির্বাচন দেওয়ার জন্য। কিন্তু এমন হলে পরাজিত পার্থী যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে নির্বাচন বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে জকসুর বিধানটি যুক্ত নেই। তাই প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে ও সিন্ডিকেট সভায় আইনটি পাশ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে। তারপর জকসু নির্বাচন দেওয়া যাবে। আর সেটা করতে হলে সময়ের প্রয়োজন।’

তবে এ বিষয় নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা বলেন, জকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। প্রশাসন মনোযোগ দিলে সব ধরনের জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থাকাকালে ১৯৫৪ সালে জগন্নাথ কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবং সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে ও পরে আর কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’

‘স্টেম শিক্ষা হচ্ছে উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন’
‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনার/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে শিখন-পঠনের নতুন মাধ্যম স্টেম শিক্ষা। এর সহায়তায় এমন এক সুসমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে যাতে তারা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা, বাস্তবজ্ঞান, যেকোন কিছুকে ভেঙে তার মূল সমস্যায় পৌঁছাতে পারবে। এজন্য একুশ শতকে স্টেম শিক্ষা অতি জরুরি।

শনিবার (২০ জুলাই) ‘বাংলাদেশ স্টেম (সাইন্স,টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথামেটিকস) সোসাইটি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাউন্সিল ভবনে এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য  ড কামাল উদ্দীন আহমেদ, স্টেম বাংলাদেশের আহবায়ক ড আল নাকীব চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা দীপু মনি থাকার কথা থাকলেও তিনি আসতে পারেননি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, স্টেম শিক্ষা হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং চিন্তার ডাইমেনশন। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা যেকোনো কিছুর অ্যানালিটিক্যাল দক্ষতা অর্জন করে ক্রিটিক্যাল ব্যাখ্যা করতে পারবে।

তিনি বলেন, দারিদ্রতা এবং বৈষম্য দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি হবে রিয়েল লাইফ সিচুয়েশন অর্থাৎ বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, সেক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। স্টেমকে স্মার্ট শিক্ষা পদ্ধতি হিসাবেও তিনি মনে করেন।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড সায়ফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে গবেষণা এবং শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে স্টেম শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জীবনের একটি লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপদ, মানসম্মত, সংঘাতমুক্ত সমাজ ও ভারসাম্য পরিবেশে বসাবস করা। সেজন্য স্টেম শিক্ষা হবে সার্ভাইভাল টেকনিক যেটা প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজতে মানুষকে সাহায্য করবে। এই সুবিধা  যাতে সবাই পায় সেজন্য আমরা লাইব্রেরির সুযোগ সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ইত্যাদির প্রতি নজর দিচ্ছি।

অনুৃষ্ঠানে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড জ্যাক হোলব্রুক এবং ড মুহাম্মদ আব হাদী বুনয়ামিন।

 

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শনিবার সকাল থেকেই সম্মেলনে সক্রিয় ছিলেন সুলতান মোঃ ওয়াসি (লাল চিহ্নিত)/ ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে এসে স্ট্রোক করে সুলতান মোঃ ওয়াসি নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তিনি জবির ইংরেজি বিভাগে ১১তম ব্যাচের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী।

শনিবার (২০জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুলতান মোঃ ওয়াসিকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জবি’র সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল বার্তাটোয়োন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘ঐ শিক্ষার্থী হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ন্যাশনাল মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখানে ইসিজি করে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, আমরা তার কোনো পালস পাচ্ছি না। পরে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়েছিলাম।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্মেলনের শুরু থেকে ক্যাম্পাসে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে ওয়াসিকে চলাচল করতে দেখা গেছে। হঠাৎ করেই সম্মেলন স্থলের মূল মঞ্চের সামনে স্লোগান দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওয়াসি। পরে সাথে সাথে তাকে নিয়ে জবি ক্যাম্পাসের পাশেই একটি বেসরকারি মেডিকেলে নেওয়া হয়।

এদিকে ছাত্রলীগের সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন ঐ শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা। তারা বলেন, ১১টার সম্মেলন শুরু হয় বিকাল ৩টায়। প্রচণ্ড গরমে অন্তত সাড়ে চার ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ফলে টানা সাত-আট ঘণ্টার গরম সহ্য করতে না পেরে ওয়াসি মৃত্যুবরণ করেছেন।

এদিকে, প্রচণ্ড গরমে জবির ১৩তম ব্যাচের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী রাফিত অসুস্থ হয়ে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র