Alexa

'সাংবাদিকতার মূল্যবোধের ওপর আঘাত করেছে জাবি প্রশাসন'

'সাংবাদিকতার মূল্যবোধের ওপর আঘাত করেছে জাবি প্রশাসন'

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের লোগো, ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন শৃঙ্খলা বিধি হালনাগাদের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মূল্যবোধের ওপর আঘাত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা।

বুধবার (২২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিধি দুটির প্রস্তাবনা চরমভাবে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে হেয় করেছে। জাবি প্রশাসন নতুন যে দুটি নিবর্তনমূলক বিধান যুক্ত করেছেন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মুক্ত জ্ঞানচর্চার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেয়ার মতো। এই ধারা দুটির মাধ্যমে শৃঙ্খলা বিধির নামে শৃঙ্খল পরানোর বিধি করা হচ্ছে।’

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে দফতর সম্পাদক এম এইচ রিয়াদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ধারা দুটিকে দমন মূলক আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, বিধি দুইটাতে শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদেরকেই সম্ভাব্য ‘অপরাধী’ ভাবা হয়েছে ফলে তাদের ওপরই বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সম্ভাব্য ‘ভিকটিম’ ধরা হয়েছে। ফলে বিধির প্রবণতাই নেতিবাচক ও দমনমূলক।

তিনি আরও বলেন, 'সাংবাদিকরা নীতি অনুসারে কাজ করবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইচ্ছা সংবাদকর্মীরা প্রশাসনের বিধি অনুসারে সাংবাদিকতা করতে বাধ্য থাকুক যাতে প্রশাসন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারেন। আর এমন নিবর্তনমূলক বিধিই তাদের রক্ষা করবে।'

অন্যদিকে অবিলম্বে এই বিধির প্রস্তাবিত ধারা দুটি বাতিল করার দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে নতুন করে যুক্ত হওয়া ধারা দুটি হলো- অধ্যাদেশের ৫ এর (ঞ) উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোন সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/ জাতীয়/ আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স সংবাদ মাধ্যমে/ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/ প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না।

এছাড়া ৫ এর (থ) উপধারায় বলা হয়েছে, কোন ছাত্র/ ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র/ ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই মেইল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্যক্ত করবে না।

অধ্যাদেশ মতে ধারা দুটির ব্যত্যয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে অসদাচরণ বলে গণ্য হবে। এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরুতর শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে যেকোনো পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :