Alexa

একান্ত সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন

শিক্ষায় উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না

শিক্ষায় উন্নতি ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব না

র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম না থাকার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন ঢাবির অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন/ ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রীতি যুক্তরাজ্যের শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ কর্তৃক প্রকাশিত একটি জরিপে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর ৪১৭টি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একটি র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে। যাতে বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই।

কেন নেই বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়? এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুনের সাথে একান্ত আলাপ হয়। তার মতে, দেশের সত্যিকারের উন্নতি চাইলে সরকারের আগে উপলব্ধি করতে হবে, শিক্ষায় উন্নতি ব্যতীত দেশের উন্নয়ন সম্ভব না। নেহি, নেহি, কাভি নেহি।’

জরিপে বিবেচনা করা হয়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অনুপাত, ছাত্রছাত্রীদের অনুপাত ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবস্থা। র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে আছে চীনের সিনহুয়া ইউনিভার্সিটি। দুইয়ে আছে গত বছরের প্রথমে থাকা ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর। তিনে হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। চতুর্থ অবস্থানে ইউনিভার্সিটি অব হংকং।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার অনেক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ড কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চলছে না। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বায়নের ব্যাপার থাকে, যেখানে বিদেশি ছাত্র থাকবে, মাল্টিকালচারাল ব্যবস্থা থাকবে, বিদেশি শিক্ষক থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে শিক্ষকদের গবেষণা নেই বললেই চলে। আমাদের অধ্যাপকদের যোগ্যতা নিয়ে বিদেশে একজন ব্যক্তি সহকারী অধ্যাপকও হতে পারেন না। এ রকম পরিস্থিতিতে কিভাবে র্যাংকিংয়ে সেরা তালিকায় আসব? আমাদের ছাত্ররা যেভাবে আবাসিক হলে থাকে দেখতে মনে হয় বস্তির জীবন কাটাচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558451099060.jpg
অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন/ ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, যে দেশ আগে অর্থনৈতিক উন্নতি করেছে, তারপরে শিক্ষাই উন্নতি করছে। উন্নতি হয় আগে শিক্ষায়, তারপর মানুষের মানসিক উন্নতি হয়। মানসিক উন্নতি হলে পরে তারা দেশটাকে উন্নত করে।’

পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলেন, ইউনেসকোর মতে একটি দেশ উন্নত করতে হলে তার পাঁচ ভাগ জিডিপি শিক্ষায় ব্যয় করতে হবে। আমরা করি এক দশমিক আট থেকে দুই দশমিক এক শতাংশের মতো। এটা এশিয়ায় কেন, সারাবিশ্বে সর্বনিম্ন।

গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের গবেষণায় বরাদ্দ নেই। প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে চৌদ্ধ কোটি টাকা দেওয়া হয় গবেষণার জন্য। আমাদের ৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে যে বাজেট তার তিন গুন বাজেট হয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।

গবেষণার টাকা সবাইকে ভাতা হিসেবে দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই টাকা সবাইকে দেওয়া হয়, গবেষণা করুক বা না করুক। কেন সবাইকে দেওয়া হবে? এই টাকা তাদেরকেই দেওয়া উচিত যারা গবেষণা করে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের যে টাকা গবেষণায় দেওয়া হয়, সেটাও সঠিকভাবে ব্যয় করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে ১৪ থেকে ২০ কোটি টাকা দেওয়া হয়, এটাকেও সঠিক ভাবে খরচ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিই। এই টাকা আমরা সবাইকে দেই। কারণ ভোট। আমরা ভোটের জন্য সবাইকে খুশি রাখতে চায়। তখন সবাই এটাকে বেতন হিসেবেই দেখে। গবেষণার কাজে লাগেনা।’

‘বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা জায়গা, যেখানে যোগ্যদের মর্যাদা দিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবেই কেবল যোগ্য মানুষ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ক্যাম্পাস এর আরও খবর