Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

টিএসসির কক্ষ দখলে ডাকসু নেতার ‘ইন্ধন’

টিএসসির কক্ষ দখলে ডাকসু নেতার ‘ইন্ধন’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), ছবি: সংগৃহীত
ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিকের স্মৃতিফলক খুলে ফেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) অনুমোদনহীন একটি আবৃত্তি সংগঠনের বিরুদ্ধে কক্ষ দখল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের ইন্ধনে কক্ষটি দখল করা হয়েছিল।

নবগঠিত 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ' নামে একটি সংগঠন কয়েকদিন আগে টিএসসি’র দ্বিতীয় তলায় অবৈধভাবে একটি কক্ষ দখল করে। এ সময় কক্ষটির মূল ফটকে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক চিশতী শাহ্ হেলালুর রহমানের সংরক্ষিত স্মৃতিফলক খুলে ফেলে সংগঠনটি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন চিশতি শাহ হেলালুর রহমান দৈনিক আজাদ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা ছিলেন। এর আগে ১৯৬৯ সালে তৎকালীন ইকবাল হল শাখা ছাত্র সংসদের পাঠাগার সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ১৭ জানুয়ারি ১৯৯৮ সালে কক্ষটিতে শহীদ চিশতী লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, টিএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৩টি সংগঠনের অনুমোদন আছে। তাদের জন্য প্রতি বছরের নির্ধারিত সময় বাজেট বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু এর বাইরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে আরও ২৭টি সংগঠন। এদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোনো অনুমোদন নেই। এরমধ্যে কয়েকটি সংগঠন মৌখিক অনুমোদন পেলেও তারা অবৈধভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করে।

অনুমোদনহীন 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ' -এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত কলেজ ও বাইরের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এমনকি প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের নাম ব্যবহার করে আবৃত্তি শেখানোর কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। কমপক্ষে ১৫-২০টি ক্লাস করানোর কথা বললেও তা হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয় রীতিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ফর্ম বিক্রি করে টাকা আদায় করার অনুমতি নেই। তারপরও নিয়মের তোয়াক্কা না করে সংগঠনটি এভাবে টাকা আদায় করে। ডাকসু নির্বাচনের পর বিষয়গুলো বন্ধ হওয়ায় আশা করা হলেও খোদ সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদনহীন সংগঠনটিকে টিএসসির দোতলায় রুম দখলে সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

তবে সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাজেট দেওয়া হয় না বলে ভিন্ন পন্থায় আয় করতে এভাবে 'অভিনব কৌশল' অবলম্বন করা হয়েছে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, টিএসসিতে কক্ষ দেওয়া বা কোনো সংগঠনকে সহযোগিতা করার এখতিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পাদককে দেওয়া হয়নি। তার কাজ সম্পর্কে গঠনতন্ত্রে বলা আছে, 'সাংস্কৃতিক সম্পাদক স্বাভাবিক অবস্থায় নির্বাহী কমিটির ইচ্ছা অনুযায়ী প্রতি সেশনে এক বা একাধিকবার সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।’

তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসিফ তালুকদার বলেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে কোনো সংগঠনের উপর হস্তক্ষেপ করা আমার কাজ নয়। তবে শিক্ষার্থী হিসেবে যদি কেউ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা চায়, তাহলে সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে ডাকসুর সহ-সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ডাকসুতে যেসব প্রোগ্রাম হয় সেগুলোর দায়িত্ব থাকে সাংস্কৃতিক সম্পাদকের। টিএসসিতে হস্তক্ষেপ করার নিয়ম ডাকসুর নেই। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে ডাকসু ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য, দখলকৃত কক্ষটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ব্যবহার করে আসছিল। সমিতির কয়েকজন সাবেক সদস্যের প্রতিষ্ঠিত 'স্বরশ্রুত' নামক একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন এটি ব্যবহার করত। সম্প্রতি এতে সাংবাদিক সমিতির ল্যাব ও শহীদ সাংবাদিকের স্মৃতির স্মরণে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগার সংস্কার ও বর্ধিত করণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি

গ্রেনেড হামলা দিবসে ইবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি
ইবিতে প্রতিবাদ র‍্যালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে প্রতিবাদ র‌্যালি, আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২১ আগস্ট) ক্যাম্পাসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে প্রতিবাদ র‌্যালি বের হয়। এরপর র‌্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালি শেষে বেলা ১২টায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক শাসুজ্জামান খান।

বায়ো টেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা জামাল হ্যাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শানিহনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা। এছাড়া স্বাগত বক্তা ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ।

এদিকে জাতীয় শোকদিবস ও গ্রেনেড হামলা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিবের পাদদেশে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। মানববন্ধনে ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের মধ্যে যাদেরকে এখনো শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, তাদের শাস্তি কার্যকরে জোর দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুর ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি

জাবিতে তারেক-বাবর-পিন্টুর প্রতীকী ফাঁসি
জাবিতে ২১ আগস্টের হামলায় জড়িত খুনিদের প্রতীকী ফাঁসি, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির কর্মসূচি পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগ।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহুয়া তলায় এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করে দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে গ্রেনেড হামলায় জড়িত তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু ও হারিস চৌধুরীকে প্রতীকী ফাঁসি দেয়া হয়।

এর আগে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ চত্বর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার নেতৃত্বে কালো পতাকা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।

প্রতীকী ফাঁসির মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, '২০০৪ সালের আগস্টের এই দিনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার মধ্যদিয়ে দেশকে অন্ধকারে পতিত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু দেশনেত্রীকে তারা হত্যা করতে পারেনি। সেদিন রক্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। ২১ আগস্টের ভয়াল এই হামলার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জড়িত ছিল। এই হামলায় জড়িতদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।'

এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় দুইশত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র