Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

লিচু পাড়তে চাওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলা

লিচু পাড়তে চাওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ছবি: সংগৃহীত
রাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গাছ থেকে লিচু পেড়ে খেতে চাওয়ার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আহতদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের উত্তর দিকে অবস্থিত কর্মকর্তা কোয়ার্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন মাহমুদুর কানন। তিনি রাবি ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং আইন বিভাগের ছাত্র।

মারধরের শিকার অন্যদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রলীগের উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান, ছাত্রলীগ কর্মী ইমরান ও আকাশসহ আরও তিনজন।

অপরদিকে, মারধরকারীদের নাম-পরিচয় কেউ স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি। তবে হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছগুলো লিজ নিয়ে পাহারা দিচ্ছিল বলে দাবি করছে ছাত্রলীগ।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একজন কর্তাব্যক্তি নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বছর গাছ লিজ দেওয়া হয়েছে ঠিক। তবে যারা লিজ নিয়েছেন, তাদেরকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছে-শিক্ষার্থীরা যদি কেউ খাওয়ার জন্য অল্প কিছু পাড়তে যায়, তবে যেন তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার না করা হয়।

রাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সাব্বির হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পরে বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি- ছাত্রলীগ নেতা কানন, মেহেদী, ইমরানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭/৮ জন ছাত্র রোকেয়া হলের পাশে কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার এলাকায় লিচু খেতে যায়। তবে তারা লিচু পাড়তে গেলে সেখানে থাকা স্থানীয়রা তাদেরকে বাধা দেয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় ৮/১০ অপরিচিত ব্যক্তি লাঠিসোটা ও রড নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়রা হামলা করে।

এতে ছাত্রলীগ নেতা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাননের কাঁধে গুরুতর জখম হয়। সেই সঙ্গে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার বলেন, ‘ওদেরকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এখানে ওদের চিকিৎসার বিষয় নিয়ে ব্যস্ত আছি। পরে বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।’

তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কোনো সদস্যের বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

আগামীতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাবে শাবিপ্রবি

আগামীতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাবে শাবিপ্রবি
শাবিপ্রবি ক্যাম্পাস

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী বছরে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৭তম একাডেমিক কাউন্সিলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ জানান।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তী কমানো জন্য আমাদের একাডেমিক কাউন্সিল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ জন্য কাউন্সিলের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে আমাদের এই মুহূর্তে যাওয়া সম্ভব নয়। আগামী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষার নেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আলাপ আলোচনা করে নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) উপাচার্যদের মিটিং-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।

রাবি শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে চাঁদা: ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন

রাবি শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে চাঁদা: ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও জিম্মি করে চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রক্টরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী এমন ঘটনার শিকার হলে প্রক্টরের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জড়িতদের নাম উল্লেখ করে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনও হয়েছে কিন্তু এখনো জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তারা অভিযোগ করে আরও বলেন, 'দুর্বৃত্তদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একের পর এক ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারধরের শিকার হচ্ছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার ফলে শিক্ষার্থীদের বারবার এসব ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।'

জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ক্যাম্পাসে জন্মদিন পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন। জন্মদিনে তিনি তার এক বান্ধবীকে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু তার বান্ধবী জন্মদিন পালন করতে আসতে পারেনি। পরে জন্মদিন পালন শেষে সন্ধ্যায় রুমে আসে নাসির। তার বান্ধবী নাসিরকে জন্মদিনের উপহার দিতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মেহেরচণ্ডিতে তার ভাড়া বাসার সামনে যান।

ঠিক ওই সময় নাসির ও তার বান্ধবীকে বাসার সামনে কথা বলতে দেখে রাজু নামের এক স্থানীয় যুবক দুইজনকে জোর করে বাসার ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় তারা নাসির ও তার বান্ধবীদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে নাসির ও তার বান্ধবীকে এক সঙ্গে বসিয়ে রাজু ছবি তোলেন। বিশ হাজার টাকা না দিলে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এছাড়া নাসিরের বান্ধবীকে রাজুসহ তার তিন বন্ধ কু-প্রস্তাব দেয় বলে নাসির অভিযোগ করেন।

নাসির বলেন, 'আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রক্টরকে বিষয়টি জানানোর পরে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছিলেন। পরে আমি জড়িতদের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছি। ঘটনার তিনদিন পার হচ্ছে কিন্তু এখনো জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।'

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: রাবি শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র